নির্বাচনের জন্য সর্বদলীয় সরকার হতে পারে: হাসিনা

sheikh hasina

বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া এক ভাষণে নির্বাচনের সময় একটি সর্বদলীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব করেছেন, এবং সেই অন্তর্বর্তী মন্ত্রিসভায় যোগ দেবার জন্য বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের নাম দেবার আহ্বান জানিয়েছেন।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের শেষ সময়ে এসে এই ভাষণে শেখ হাসিনা বলেন, তাদের লক্ষ্য একটি অবাধ, নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন - এবং সকল দলকে নিয়েই তারা সেই নির্বাচন করতে চান।

প্রদানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এ জন্য নির্বাচনকালীন সময়ে সকল দলের সমন্বয়ে একটি সরকার গঠন করা যেতে পারে, এবং তাতে বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা অন্তর্বর্তী মন্ত্রীসভার সদস্য হতে পারেন। অন্তর্বর্তী সরকারের মন্ত্রীসভার সদস্য হবার জন্য বিরোধীদলের সংসদ সদস্যদের নাম দিতে বলেন শেখ হাসিনা।

তিনি আশা প্রকাশ করেন যে প্রধান বিরোধীদল বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়া তার এই প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দেবেন। তিনি আগামি ২৫ শে অক্টোবর থেকে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে যাতে নির্বাচন হতে পারে সে জন্যও বিরোধীদলের পরামর্শ চান।

শেখ হাসিনা এমন এক সময়ে এই ভাষণ দিলেন যখন আগামী সাধারণ নির্বাচন কি ধরণের সরকারের অধীনে হবে তা নিয়ে সরকার ও বিরোধীদলের মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে, এবং একে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সহিংস হয়ে উঠতে পারে এমন একটা উদ্বেগও তৈরি হয়েছে।

sheikh hasina

আগামি নির্বাচন কিভাবে হবে, তাতে সব দল যোগ দেবে কিনা, না দিলে কি হবে - তা নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের মনে একটা উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে। ২৫ অক্টোবর ঢাকায় প্রধান বিরোধীদল বিএনপি এবং সরকারী দল আওয়ামি লিগ যে সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে - তাকে ঘিরে সহিংসতার আশংকা করছেন অনেকেই।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ভাষণে এ প্রসঙ্গে বিরোধীদলকে 'ধ্বংসাত্মক রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার' এবং 'দা-কুড়াল দিয়ে মানুষ মারার নির্দেশ প্রত্যাহার করার' আহ্বান জানান।

সরকারী দল চাইছে সংবিধানের সবশেষ পরিবর্তন অনুযায়ী বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন থাকা অবস্থাতেই নির্বাচন করতে, আর বিরোধীদল চাইছে - একটি নির্দলীয়-নিরপেক্ষ অন্তর্বতী সরকারের অধীনে নির্বাচন হোক। আগামি ২৫ অক্টোবর থেকে এই সরকারের মেয়াদের শেষ ৯০ দিন শুরু হচ্ছে, যার মধ্যেই পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে।

এ ব্যাপারে সংবিধানের ১২৩ (৩) অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ২৫শে অক্টোবর থেকে নব্বই দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের এক দফা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির নিকট প্রধানমন্ত্রীর দেয়া লিখিত পরামর্শ অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন।

শেখ হাসিনা বলেন, "নব্বই দিনের মধ্যে যাতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় সেজন্য আমি সব দলের সাথে বিশেষ করে মহাজোটের সাথে পরামর্শ করে মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে যথাসময়ে লিখিত পরামর্শ দেব।" এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলের কাছেও পরামর্শ আশা করেন।

শেখ হাসিনা তার ভাষণে এই সরকারের পাঁচ বছরের শাসনামলে যেসব উন্নয়নকাজ হয়েছে তারও বিবরণ দেন।

বিএনপির প্রতিক্রিয়া শনিবার

এই ভাষণের পর প্রধান বিরোধীদল বিএনপির কোন প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি।

তবে দলটির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, আগামিকাল শনিবার তারা দলীয়ভাবে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাবেন।