BBC navigation

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন

সর্বশেষ আপডেট শনিবার, 5 অক্টোবর, 2013 17:09 GMT 23:09 বাংলাদেশ সময়
rampal power

রামপালের এই স্থানেই তৈরি হবে প্রস্তাবিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র

বাংলাদেশে বিভিন্ন মহলের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও সুন্দরবনের পাশে ভারতের সাথে যৌথভাবে কয়লা-ভিত্তিক একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হয়েছে।

আজ (শনিবার) এই উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার সাথে দিল্লি থেকে ভিডিওতে যোগ দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং।

সীমান্তবর্তী জেলা কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের সময় রামপালে বিতর্কিত এই কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তরের উদ্বোধন করা হয়।

আগামী ২২শে অক্টোবর রামপাল প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধনের পরিকল্পনা থাকলেও আজ হঠাৎ করেই তা সম্পন্ন করা হয়।

সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে দ্বিতীয়বার পাওয়ার নিশ্চয়তা না থাকায় উদ্বোধন এগিয়ে আনা হয়েছে।

"বাতাস ও পানির দূষণ ঠেকাতে উচ্চ মানের কয়লা এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে"

শেখ হাসিনা, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী

প্রস্তাবিত কয়লা-ভিত্তিক এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি হলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ জঙ্গল সুন্দরবনের ক্ষতি হবে, এই যুক্তিতে বাংলাদেশের পরিবশেবাদীরা এই বিদ্যুৎ প্রকল্পের তীব্র আপত্তি করছে।

পরিবেশবাদী ও বামপন্থিদের সমন্বয়ে নাগরিক সংগঠন -- তেল, গ্যাস, খনিজসম্পদ, বিদ্যুৎ ও বন্দর রক্ষা কমিটি আজও সারাদেশে এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের কর্মসূচি পালন করছে।

পরিবেশবাদীদের এই আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি।

কিন্তু আজকের এই ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধনের মাধ্যমে সরকার ইঙ্গিত দিল, এই প্রকল্প থেকে পিছিয়ে যাওয়া যাওয়া হবে না।

উদ্বেগ প্রশমনের চেষ্টা

"সুন্দরবন দুই দেশের অভিন্ন ঐতিহ্য। আমি প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানাবো তারা যেন পরিবেশ রক্ষায় সর্বোচ্চ মান অনুসরণ করেন"

মনমোহন সিং, ভারতের প্রধানমন্ত্রী

তবে শেখ হাসিনা এবং মনমোহন সিংহ দুজনেই ১৩২০ মেগাওয়াটের রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে উদ্বেগ প্রশমনের চেষ্টা করেছেন।

বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির বিরুদ্ধে আন্দোলনের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, প্রকল্প অনুমোদনের আগে পরিবেশের ওপর এর প্রতিক্রিয়া গভীরভাবে বিবেচনা করা হয়েছে।

"সুন্দরবনের যাতে কোন ক্ষতি না হয়, তার সর্বোচ্চ সাবধানতা নেওয়া হয়েছে। বাতাস ও পানির দূষণ ঠেকাতে উচ্চ মানের কয়লা এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।"

"আমি বলতে চাই, ব্যক্তিগতভাবে আমি কখনই এমন কোন প্রকল্প অনুমোদন করিনি এবং ভবিষ্যতে করবো না, যাতে এ দেশের পরিবেশের ক্ষতি হয়।"

ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংও তার বক্তব্যে সুন্দরবনের ওপর এই প্রকল্পের সম্ভাব্য বিরূপ প্রতিক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগের প্রসঙ্গ টানেন।

"মানুষের মতামতকে গুরুত্ব না দিয়ে সরকার প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে"

আনু মুহাম্মদ, সদস্য সচিব, তেল- গ্যাস, খনিজ সম্পদ, বিদ্যুৎ, বন্দর রক্ষা কমিটি

"সুন্দরবন দুই দেশের অভিন্ন ঐতিহ্য। আমি প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানাবো তারা যেন পরিবেশ রক্ষায় সর্বোচ্চ মান অনুসরণ করেন।"

তেল, গ্যাস, খনিজসম্পদ, বিদ্যুৎ ও বন্দর রক্ষা কমিটির অন্যতম শীর্ষ নেতা আনু মুহাম্মদ হঠাৎ করে রামপাল প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধনের তীব্র নিন্দা করেছেন।

বিবিসিকে তিনি বলেন, "মানুষের মতামতকে গুরুত্ব না দিয়ে সরকার প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে।"

সম্পর্কিত বিষয়

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻