ঢাকায় টাকা যাদুঘরের যাত্রা শুরু

  • ৫ অক্টোবর ২০১৩
taka museum
ঢাকায় টাকা যাদুঘরের উদ্বোধনের দিনে উৎসাহী দুই স্কুল ছাত্র

বাংলাদেশে আজ (শনিবার) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এক মুদ্রা জাদুঘরের আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে।

প্রাচীন বাংলা থেকে শুরু করে আধুনিক কাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ের ধাতব মুদ্রা এবং কাগুজে নোট সংরক্ষণ এবং প্রদর্শনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এই টাকা জাদুঘরে।

সেই সঙ্গে এখানে জায়গা পেয়েছে মুদ্রা সংরক্ষণের প্রাচীন কাঠের বাক্স ও লোহার সিন্দুক।

ইতিপূর্বে সীমিত পরিসরে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে এমন একটি কারেন্সি মিউজিয়াম ছিল। তবে এবারে বড় আকারে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করলো বাংলাদেশের প্রথম এই টাকা জাদুঘর।

কড়ি থেকে কাগুজে নোট

প্রাচীন আমলের কড়ি থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত মুদ্রিত ও সংরক্ষিত ধাতব মুদ্রা, কাগুজে নোট এবং মুদ্রা সংক্রান্ত নানা জিনিস এখানে স্থান পেয়েছে।

দেখা গেছে প্রাচীনতম ছাপাঙ্কিত রৌপ্য মুদ্রা পাঞ্চ মার্কড, হরিকেলের মুদ্রা, ইন্দো-পার্থিয়ান মুদ্রা, কুশান মুদ্রা, কুচবিহারের মুদ্রা, বাংলার স্বাধীন সুলতানি আমলের মুদ্রা, পরাক্রমশালী মোঘল সম্রাটদের মুদ্রা।

আরো রয়েছে ভারতে মোঘল শাসনের সমাপ্তির পর ১৮৩৫ সাল থেকে প্রচলিত বৃটিশ-ভারতীয় মুদ্রা।

জাদুঘরের বিশেষ আকর্ষণ হচ্ছে বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন সময়ের কাগুজে নোট।

যেমন সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন, সাবেক চেকোস্লোভাকিয়া, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পূর্ববর্তী জাপানী ডলার, ইতালি, সাবেক বিভক্ত জার্মানি, আফগানিস্তান, চীন, ল্যাটিন আমেরিকা, হাঙ্গেরি, বুলগেরিয়া, ভিয়েতনাম এবং কমিউনিস্ট আমলের পোল্যান্ডের নোট।

মানুষের দান

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, তাদের অনুরোধে সাড়া দিয়ে বহু মানুষ দুষ্প্রাপ্য সব মুদ্রা এই যাদুঘরে দান করেছেন। কিছু মুদ্রা কেনাও হয়েছে।

গ্যালারিতে পোড়ামাটির ম্যুরালের মাধ্যমে প্রাচীন থেকে শুরু করে আধুনিককাল পর্যন্ত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিবর্তনের ধারাও বর্ণিত হয়েছে।

প্রযুক্তির ব্যবহারও রয়েছে এই জাদুঘরে। প্রদর্শিত যেসব মুদ্রা তার সাথে রয়েছে একটি করে নম্বর। এই নম্বর নিয়ে যে কেউ আধুনিক ফটো কিয়স্কে গিয়ে ঐ মুদ্রাটির ইতিবৃত্ত বিস্তারিত জানতে পারবে।

অডিওর মাধ্যমে ইচ্ছুক দর্শনার্থীরা শুনতে পাবেন বিভিন্ন মুদ্রার সৃষ্টির ইতিহাস।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর বলেন, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কারেন্সি যাদুঘরগুলোর সকল সুযোগ সুবিধা এই টাকা যাদুঘরে রাখার চেষ্টা করেছেন তারা।

"এই যাদুঘরটি হবে মুদ্রা বিষয়ে মানুষের জ্ঞান ও গবেষণার বিশাল উৎস।"

প্রথম দিনেই অনেক দর্শক

প্রথমদিনেই রাজধানীর মীরপুর এলাকায় এই টাকা যাদুঘরে এসেছিলেন অনেক দর্শক। তবে তাদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন মূলত শখের মুদ্রা সংগ্রহকারী যাদের অনেকে এখানে মুদ্রা দান করেছেন।

পুরনো ঢাকার গ্যান্ডারিয়া এলাকা থেকে এসেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তানভির আহেমদ রায়হান। তিনি বলছিলেন, "আমি নিজে ছোট বেলা থেকেই বিভিন্ন দেশের টাকা জমাই। আমার কাছে ৬০টি দেশের মুদ্রার একটা বড় সংগ্রহ আছে। এর বেশ কিছু আমি এই জাদুঘরে দিয়েছি।"

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন শিশু কিশোরদের অনুসন্ধিৎসু মনকে আরো আগ্রহী করতে তারা এই জাদুঘরের একটি অনলাইন সংস্করণের কথাও ভাবছেন।