সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রায় আগামীকাল

  • ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৩
পুলিশ প্রহরায় সা.কা. চৌধুরী
পুলিশ প্রহরায় সা.কা. চৌধুরী (ফাইল ফটো)

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় মঙ্গলবার ঘোষণা করা হবে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ সোমবার এই ঘোষণা করে।

গত ১৪ই আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়।

বিএনপির কোনও নেতার বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার এই প্রথম রায় হতে যাচ্ছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, তার বিরুদ্ধে ১৭টি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সর্বোচ্চ সাজা আশা করছেন তারা।

অন্যদিকে মি. চৌধুরীর আইনজীবী বলছেন, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর প্রধান বিচারপতি ফজলে কবিরসহ তিন জন বিচারপতির বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করবেন।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি যিয়াদ আল মালুম বিবিসি বাংলাকে জানান, সব সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে মি. চৌধুরীর মামলার রায় ঘোষণার অপেক্ষায় ছিল। এখন রায় প্রস্তুত আছে যা আগামিকাল ঘোষণা করা হবে।

২০১০ সালের ১৬ই ডিসেম্বর সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ২০১১ সালের জানুয়ারি মাসে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

মি. মালুম বলছিলেন, মি. চৌধুরীর বিরুদ্ধে ২৩টি অভিযোগ গঠন করা হয়। এর মধ্য ১৭টি অভিযোগ প্রমাণে যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ তারা হাজির করতে পেরেছেন বলে তিনি দাবি করেন।

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী
সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী

তবে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ছ'টি অভিযোগের সাক্ষ্য-প্রমাণ আদালতে হাজির করা হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

“বাকি ছয়টি অভিযোগের সাক্ষ্য-প্রমাণ যখন আমরা মাননীয় আদালতে হাজির করবো ঠিক তখনই মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আদালত তদন্তকারী কর্মকর্তাকে সাক্ষী হিসেবে হাজির করার আদেশ দেন। ফলে আমরা তদন্ত কর্মকর্তাকে হাজির করে দিলাম। সেই কারণে বাকি ছয়টি অভিযোগের জন্য আমরা কোনও সাক্ষ্য প্রমাণ হাজির করিনি।”

গতবছর ট্রাইব্যুনাল-১ এ তাঁর বিরুদ্ধে গঠিত ২৩টি অভিযোগের মধ্যে চট্টগ্রামের সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পৈত্রিক নিবাস গুডস হিলে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে রাজনৈতিক ব্যক্তি, সাধারণ মানুষ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর নির্যাতন, রাউজান থানার বিভিন্ন এলাকা ও সুলতানপুরে সালাউদ্দিন কাদেরের সহযোগিতায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, হত্যা, অপহরণ, লুটপাট, ধর্মান্তকরণের অভিযোগ রয়েছে।

মি. চৌধুরীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন ৪১ জন। অন্য দিকে তার পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দিয়েছেন তিনি নিজেসহ মোট চার। কিছু কিছু সময়ে পেশায় ব্যারিস্টার মি. চৌধুরী নিজেও মামলা পরিচালনা করেন।

তবে তার নিয়োগ করা আইনজীবী ফখরুল ইসলাম বলেন, যে সময়কালকে উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে সেই সময়ে তিনি দেশেই ছিলেন না।

এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য-প্রণোদিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী মোট ছ'বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির চেয়ারপার্সনের সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য।

তার মামলায় রায়টি হবে বিএনপির কোনও শীর্ষস্থানীয় নেতার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের কোন মামলার প্রথম রায়।

এই খবর নিয়ে আরো তথ্য