অভিযোগ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্যের পর ব্যবস্থা:দুদক

  • ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩

পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক বলছে, কানাডার পুলিশের এক তদন্তে সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরিকে অভিযুক্ত করার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানার পর তারা পদক্ষেপ নেবেন।

একই সাথে এ বিষয়ে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের কোন সম্পৃক্ততা না পাওয়া গেলে তাকে দুদকের তদন্ত থেকে অব্যহতি দেয়া হবে বলেও দুদক চেয়ারম্যান বদিউজ্জামান বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন।

কানাডার রয়েল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ বা আরসিএমপি’র তদন্তে পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরামর্শক নিয়োগের ব্যাপারে একজন বিদেশী সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে কানাডিয় প্রতিষ্ঠান এসএনসি লাভালিনের উর্ধ্বতন কর্মকতা কেভিন ওয়ালেসসহ বাংলাদেশের সাবেক একজন প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। কেভিন ওয়ালেস এখন জামিনে মুক্ত রয়েছেন।

অভিযুক্ত আরেকজন হলেন কানাডিয়ান নাগরিক জুলফিকার আলি ভুইয়া।

আরসিএমপি বলছে, তারা আন্তজাতিক দুনীতি দুর করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। বলা হয়, কোন কোন দেশে ঘুষকে ব্যবসায়ের একটা প্রয়োজনীয় দিক হিসেবে মেনে নেয়া হয় - কিন্তু নৈতিক, রাজনৈতিক এবং সুশাসনের দিক থেকে এর গুরুতর বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে।

একটি চলমান তদন্তের সংগে সবশেষ এই অভিযোগগুলো সম্পর্কিত। এর আগে এসএনসি লাভালিনের আরো দুজন কর্মকর্তাকে ২০১২ সালের এপ্রিলে অভিযুক্ত করা হয়, তারা হলেন রমেশ শাহ, এবং মোহাম্মদ ইসমাইল।

এরাও কানাডার বাসিন্দা, এবং এই আইনের আওতায় তাদের অবিযুক্ত করা হয়।

দুদকের চেয়ারম্যান বদিউজ্জামান বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, তারা পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে যে এফআইআর বা প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছিলেন তাতে সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরিকে সন্দেহভাজন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

সেখানে সন্দেহভাজন হিসেবে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনও ছিলেন । তাদের কয়েকদফা জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছিল।

এবারে কানাডার রয়েল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ বা আরসিএমপি’র তদন্তেও মি চৌধুরির নাম এসেছে বলে কানাডার বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে যে খবর, সেটি দুদুক জানতে পেরেছে গণমাধ্যমের খবরে থেকে।

পদ্মা সেতুর নির্মানে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ পেতে দুর্নীতির আশ্রয় নেয়ার অভিযোগে এ তদন্ত চলছিল।

কানাডায় এ সংক্রান্ত যে মামলা এখন চলছে তাতে বাংলাদেশের দুদকের প্রসিকিউটর গিয়েছেলেন এবং দু'তরফ থেকেই তদন্ত চলছিল।

এখন কানাডায় অবস্থিত দূতাবাসের মাধ্যমে দুদক সবশেষ পরিস্থিতি জানতে চাইবে বলে জানাচ্ছেন মি. বদিউজ্জামান।

মূলত কানাডা থেকে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পাওয়ার পর দুদক বসে সিদ্ধান্ত নেবে এবং প্রয়োজনে মি. চৌধুরিকে গ্রেপ্তারও করা হতে পারে বলে জানান তিনি।

তবে যার বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে অনেক বিতর্ক সাবেক সেই যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের নাম কানাডার তদন্তে না আসার ফলে দুদক কি করবে?

মি. বদিউজ্জামান জানান যদি কানাডা থেকে প্রাপ্ত কাগজপত্রে তার কোন সংশ্লিষ্টতার প্রমান না পাওয়া যায় তাহলে তদন্ত থেকে তাকে নাম অব্যাহতি দেবেন তারা।

এই প্রকল্পের শুরুতেই পরামর্শক নিয়োগের ক্ষেত্রে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ যখন তোলা হয়েছিল প্রধান দাতা প্রতিষ্ঠান বিশ্ব ব্যাংকের পক্ষ থেকে।

তখন এক পর্যায়ে সৈয়দ আবুল হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে মি হোসেন সবসময় তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

ওদিকে, মি. চৌধুরিও বিভিন্ন সময়ে তার কোন দুর্নীতিতে সংম্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।