BBC navigation

জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার 'ভি' চিহ্ন

সর্বশেষ আপডেট মঙ্গলবার, 17 সেপ্টেম্বর, 2013 12:40 GMT 18:40 বাংলাদেশ সময়

এ বছরের ৫ই ফেব্রুয়ারী ঢাকার আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আদালত থেকে বের হয়ে আসার মূহুর্তটি জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লার জীবনে যেমন, তেমনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসেও এক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষণ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

ঢাকার আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আদালত সেদিন তাঁকে ১৯৭১ সালের মানবতা বিরোধী অপরাধের দায়ে যাবজ্জীবন সাজা দেয়। তার বিরুদ্ধে যে প্রায় অর্ধডজন অভিযোগ আনা হয়েছিল তার মধ্যে ছিল ১৯৭১ সালে হত্যা, গণহত্যা এবং ধর্ষণের মতো ঘটনা।

আদালত থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে মিস্টার মোল্লার আঙ্গুল উঁচিয়ে বিজয়সূচক ‘ভি’ চিহ্ন দেখানো ছবি সেদিন প্রচারিত হয় টেলিভিশনে। পরদিন ঢাকার প্রায় সব দৈনিকে প্রথম পাতায় প্রকাশিত হয় একই ছবি।

এই রায়ের বিরুদ্ধে যে হাজার হাজার মানুষ পরবর্তী কয়েকদিনে ঢাকার শাহবাগে এক বিশাল বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন, তাদের অনেকেই বলেছেন, আবদুল কাদের মোল্লার সেই ‘ভি’ চিহ্ন দেখানো ছবি কিভাবে তাদের ক্রোধকে উস্কে দিয়েছিল।

যাবজ্জীবন সাজার পর কাদের মোল্লার 'ভি' চিহ্ণ দেখানোর ছবি

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে বাংলাদেশে শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের বিক্ষোভের সূচনা সেদিন থেকে, আর এর পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইসলামপন্থীদের কথিত ‘নাস্তিকতা’ বিরোধী আন্দোলনও শুরু হয় এর কয়েক সপ্তাহ পর থেকে।

ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আদালতের রায় এভাবেই আবদুল কাদের মোল্লাকে নিয়ে আসে বাংলাদেশের রাজনীতির স্পটলাইটে।

পরবর্তী কয়েকদিন ধরে ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে যে বিক্ষোভ শুরু হয়, তাদের মূল দাবি ছিল মূলত একটাই: ১৯৭১ সালের যে অপরাধের জন্য আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে, সেই অপরাধে তাকে মৃত্যুদন্ড দিতে হবে।

এই আন্দোলনের মুখে সরকার শেষ পর্যন্ত যে আইনে মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার চলছে, তাতে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়। সেই সংশোধিত আইনে রাষ্ট্র পক্ষ আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ মঙ্গলবার সেই আপিল আবেদন মঞ্জুর করেই তাকে মৃত্যুদন্ডের সাজা দিল।

বামপন্থী থেকে ইসলামপন্থী

আবদুল কাদের মোল্লা জামায়াতে ইসলামীর সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি দলের দ্বিতীয় সারির গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের একজন।

তাঁর জন্ম ১৯৪৬ সালে ফরিদপুরের আমিরাবাদ গ্রামে। সেখানেই আমিরাবাদ ফজলুল হক ইনস্টিটিউট এবং ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজে তিনি পড়াশুনা করেছেন।

মিস্টার মোল্লা বিভিন্ন সময় দাবি করেছেন যে ছাত্র জীবনে তিনি কিছুদিন বামপন্থী ছাত্র সংগঠন ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, পরে সেখান থেকে ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির দিকে ঝুঁকে পড়েন।

তবে বাংলাদেশের বামপন্থীরা তাঁর এই দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

১৯৬৮ সালে ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজ থেকে স্নাতক পাশের পর আবদুল কাদের মোল্লা ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

মূলত তখন থেকেই তিনি জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘের কর্মী হিসেবে সক্রিয় হয়ে উঠেন। তিনি ইসলামী ছাত্র সংঘের শহীদুল্লাহ হল শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন।

হত্যা-ধর্ষণের অভিযোগ

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী ছাত্র সংঘ এর সক্রিয় বিরোধিতা শুরু করে। ছাত্র সংঘের কর্মীদের নিয়ে যে আল বদর বাহিনী গঠিত হয়, আবদুল কাদের মোল্লা সেই বাহিনীর অন্যতম সংগঠন ছিলেন বলে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এই আল বদর বাহিনী পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সহযোগী হিসেবে কাজ করে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মিস্টার মোল্লার বিরুদ্ধে মোট ছয়টি অভিযোগ আনা হয়েছিল।

এর মধ্যে একটি অভিযোগে বলা হয়েছিল, ১৯৭১ সালের ২৪ শে এপ্রিল ঢাকার আলোকদি গ্রামে পাকিস্তানী বাহিনী যে গণহত্যা চালায়, সেখানে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল। তিনি পাকিস্তানী বাহিনীকে ঐ গ্রামে নিয়ে যান। ঐ ঘটনায় ৩৪৪ জন নারী-পুরুষ গণহত্যার শিকার হন।

দ্বিতীয় একটি অভিযোগে বলা হয়েছিল, ঢাকার মিরপুর দশ নম্বরের একটি বাড়ীতে হযরত আলি লস্করের স্ত্রী, দুই মেয়ে এবং এক ছেলেকে হত্যার ঘটনায় তাঁর হাত ছিল। সেখানে একটি মেয়ে ধর্ষণেরও শিকার হয়।

তবে ১৯৭১ সালের ২৫ শে নভেম্বর কেরানীগঞ্জের ভাওয়াল খান বাড়ী এবং ঘটার চরে শতাধিক মানুষকে হত্যার ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ করা যায়নি।

আবদুল কাদের মোল্লা এবং তাঁর আইনজীবিরা অবশ্য আগাগোড়াই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন।

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻