কেরির চিঠি বাংলাদেশে, অনড় দু'টি দল

  • ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩
জন কেরি, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী (ফাইল ফটো)
জন কেরি, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী (ফাইল ফটো)

জাতিসংঘ মহাসচিবের টেলিফোনের পর এবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট নিরসনে আলোচনার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধীদলীয় নেত্রীকে চিঠি দিয়েছেন।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এই দু'দলের নেতারা কার্যত: তাদের পুরোনো অবস্থানই পূনর্ব্যাক্ত করেছেন।

আওয়ামী লীগ বলছে, আলোচনায় কোন আপত্তি নেই তবে সংবিধানের ভেতরে থেকেই সমাধান হতে হবে।

তবে বিএনপির কাছ থেকে কিছুটা হলেও নরম সুর শোনা গেছে।

দলের এক শীর্ষ নেতা বলছেন নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থা নিয়ে যে সংকট চলছে, সে বিষয়টি সরকার স্বীকার করলেই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার কাছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেরি যে চিঠি পাঠিয়েছেন, সেই চিঠির মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন করার লক্ষ্যে ইতিবাচক সংলাপের ব্যপারে উৎসাহ দিয়েছেন।

ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের একটি সূত্র বিষয়টি এভাবেই তুলে ধরেছেন। সপ্তাহ দুয়েক আগেই জাতিসংঘের মহাসচিবও দুই নেত্রীকে টেলিফোন করে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে তাগিদ দিয়েছিলেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নেরও একটি প্রতিনিধিদল এখন ঢাকায় রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে কথা-বার্তা বলছে।

খালেদা জিয়া এবং শেখ হাসিনা
খালেদা জিয়া এবং শেখ হাসিনা

বিদেশিদের তাগিদ বা কূটনৈতিকদের উদ্যোগ নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে এক ধরণের অস্বস্তি রয়েছে বলে মনে হয়েছে।

তবে সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী জানান, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চিঠিকে তাঁরা ইতিবাচকভাবেই দেখছেন। কিন্তু সেই আলোচনা হতে হবে সংবিধানের ভিত্তিতেই সমাধানের ব্যপারে।

তিনি বলেন, ''সংবিধান সমুন্নত রেখে সংলাপে কোন আপত্তি নেই। এবং আমি মনে করি মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী যেমন নিজের দেশেও সংবিধানের বাইরে গিয়ে কোন আলোচনা করবেন না। আমাদেরও সে রকম কোন কথা তিনি বলবেন না। আমরা সংবিধানের ভিতরে থেকে নির্বাচনে সবার অংশগ্রহণকে স্বাগত জানাই। এবং তাতে আলোচনা হতেই পারে।''

প্রধান বিরোধীদল বিএনপি আলোচনার জন্য প্রস্তুত থাকার কথা বলছে। দলটির নেতারা এতদিন বলে আসছিলেন, নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় তাদের দাবি আগে সরকারকে মেনে নিতে হবে-তারপর এর গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

এখন অবশ্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলছেন, নির্দলীয় সরকারের ইস্যুটাকে যদি সরকার স্বীকার করে, তাহলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব।

তিনি বলেন, ''আমরা বলেছি, নির্বাচনকালীণ সরকার ব্যবস্থা নিয়েই এখন সমস্যা। সেই ইস্যূকে তো সরকারকেই আমলে নিতে হবে। সেটা হলেই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব।''

প্রধান দু’টি দলই আলোচনার কথা বললেও মূল ইস্যুতে কিন্তু দুই পক্ষ এখনও যে যার পুরোনো অবস্থানের কথাই তুলে ধরছে।

বিএনপি নেতা মি.আলমগীর জানান, নির্দলীয় সরকারের দাবি থেকে তাদের সরে আসা সম্ভব নয়। এর পরও আলোচনা হলে সমাধান হতে পারে বলে তারা মনে করেন।

''সরকারকে মনে করতে হবে যে তাঁরা এই ইস্যূতে সমাধান চায়। তাহলে আলোচনার মাধ্যমে একটা সমাধান বেরিয়ে আসতে পারে।''

আওয়ামী লীগ নেত্রী মতিয়া চৌধুরীর বক্তব্য হচ্ছে, সংবিধানের বাইরে আওয়ামীলীগ কোনভাবেই যাবে না।

তিনি বললেন, ''প্রধানমন্ত্রী কিন্তু ইতিমধ্যেই অ্যাকোমোডেশনের কথা বলেছেন । অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ছোট মন্ত্রিসভা হবে এবং বিরোধীদল চাইলে তাতে প্রতিনিধি দিতে পারবে। তবে একটা বিষয় হচ্ছে, একটা সীমানা থাকতে হবে, আর সেটা হচ্ছে সংবিধান।''

দুই দলই এখন বিদেশিদের তাগিদ বা কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি নিজেদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের কথা বলছে।

কিন্তু দু’পক্ষই সরাসরি আলোচনার উদ্যোগের প্রশ্নে একে অপরের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

এই খবর নিয়ে আরো তথ্য