BBC navigation

ভারত থেকে ফেরত পাচারকৃত ৪৫ জন বাংলাদেশি

সর্বশেষ আপডেট মঙ্গলবার, 3 সেপ্টেম্বর, 2013 15:46 GMT 21:46 বাংলাদেশ সময়

প্রায়ই উদ্ধার হচ্ছেন বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাচার হওয়া নারী ও শিশু

বাংলাদেশের ৪৫ জন নাগরিক ভারতে পাচার হয়ে যাওয়ার দুই বছর পর তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এদের মধ্যে ৪২ জন ছিলেন মহিলা।

পুলিশ বলছে ভালো চাকরির আশায় দালালের খপ্পরে পড়ে বিভিন্ন সীমান্ত পথে তারা ভারতে যান।

বাংলাদেশ থেকে প্রায়ই অভিবাসন বা কাজের খোঁজে বিদেশে পাড়ি জমিয়ে প্রতারণার শিকার হন অনেকে।

সরকার বলছে এই পাচার রোধে তারা ভারত সরকারের সাথে একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে। তারা বলছে একই সাথে মাঠ পর্যায়ে সচেতনতা তৈরি করতে বিভিন্ন ধরনের প্রচারণার কাজও তারা করছে।

নাটোরের অধিবাসী সেলিনা বছর তিনেক আগে কাজের খোঁজে বিদেশ যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি বলছিলেন দালালের মাধ্যমে তার ভারতে যাওয়ার বন্দোবস্ত হয়। তাকে বলা হয় সেখানে তিনি কাপড়ের দোকানে কাজ করবেন। আরও বলা হয় যেখানে তিনি কাজ করবেন সেটা বাংলাদেশের সীমান্ত শহর যশোরের খু্ব কাছে। কিন্তু আসলে কি ঘটেছিল সেলিনার?

"আমাকে তারা আটকে রাখে। অনেক নির্যাতন করেছে। পরে পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে।"

সেলিনা, পাচার হওয়া নাটোরের অধিবাসী

“আমাকে তারা বলেছিল মহারাষ্ট্র খুব কাছে, কিন্তু এত দূর আমি ভাবিনি। সেখানে যেয়ে আমাকে তারা আটকে রাখে। অনেক নির্যাতন করেছে। পরে পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে।”

তবে বাংলাদেশে থেকে অভিবাসন ও কাজের খোঁজে বিদেশে পাড়ি জমিয়ে প্রতারণার শিকার হন অনেকেই।

২০১২ সালে এই পাচার রোধে বাংলাদেশ সরকার একটি আইন করে, যার সর্বোচ্চ শাস্তি ধার্য করা হয় মৃত্যুদন্ড। এই আইনটি সম্প্রতি প্রণয়ন করা হলেও পাচার রোধে অনেক আগে থেকেই সরকারিভাবে কাজ করা হচ্ছে বলে জানান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কামাল উদ্দিন আহমেদ। মি. আহমেদ বলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে অনেকগুলো কমিটি গঠন করা হয়েছে যারা মাঠ পর্যায়ে পাচার ঠেকাতে কাজ করছে।

“স্থানীয়ভাবে প্রতিরক্ষার কাজে রয়েছে যেসব আনসার, পুলিশ তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া, ও এলাকার মানুষকে সচেতন করার জন্য পোস্টার, ছোট ছোট নাটক আমরা দেখাচ্ছি। তাদের বলছি যদি কেউ তোমাদের বিদেশে যাওয়ার প্রলোভন দেখায় আগে আমাদের কাছে এসে নিশ্চিত হও”।

বাংলাদেশ থেকে কাজের খোঁজে অবৈধভাবে যাওয়ার সহজ উপায় হিসাবে প্রতিবেশি দেশ ভারতকেই অনেকে বেছে নেন। আবার অনেকে দালালদের মাধ্যমে ভারত হয়ে নেপালে অথবা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতেও যান।

"ভারত সরকারের সাথে টাস্কফোর্স গঠন করেছি। এর ফলে কেউ ধরা পড়লে সম্মানের সাথে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার কাজ করা হচ্ছে।"

কামাল উদ্দিন আহমেদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব

মি. আহমেদ বলছেন ভারতে যারা পাচার হয়ে যাচ্ছেন তাদের অধিকাংশ মেয়েই মহারাষ্ট্রের যৌন পল্লিগুলোতে যৌন কর্মী হিসেবে কাজ করতে বাধ্য হন। তাই যে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক সেখানে ধরা পড়লে তাকে ফিরিয়ে আনতে ভারত সরকারের সাথে বাংলাদেশ একটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠন করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

“আমরা প্রথমে মহারাষ্ট্র ও পশ্চিমবঙ্গের সাথে কাজ করছিলাম, পরে ভারত সরকারের সাথে টাস্কফোর্স গঠন করেছি। এর ফলে কেউ ধরা পড়লে সম্মানের সাথে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার কাজ করা হচ্ছে।”

তবে এই টাস্কফোর্সের মাধ্যমে সব প্রক্রিয়া অনুসরণ ক'রে উদ্ধারকৃতদের দেশে ফিরিয়ে আনাটাও অনেক সময়সাপেক্ষ ব্যাপার বলে জানান তিনি।

তবে এসব পদক্ষেপের পরেও বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে মানব পাচারের খবর পাওয়া যায়।

মানব পাচার রোধে যেসব সংস্থা কাজ করে তারা বলছে দেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলো থেকেই পাচারের ঘটনা বেশি ঘটে বলে জানা যায়।

তাছাড়া অর্থনৈতিক ভাবে সচ্ছল হওয়ার আশা থেকেও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেকেই এই দালালদের মাধ্যমেই অবৈধভাবে অন্য দেশে পাড়ি জমাচ্ছে।

সম্পর্কিত বিষয়

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻