বিদেশীদের মধ্যস্থতার কথা স্বীকার করলো দু'দলই

hasina_khaleda

বাংলাদেশে নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা প্রশ্নে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং বিরোধীদল বিএনপির মধ্যে যে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে - তা নিয়ে সমঝোতার লক্ষ্যে বিদেশি কূটনীতিকদের বিভিন্ন তৎপরতার কথা স্বীকার করেছে দুটি দলই।

যদিও দুই দলের মধ্যে সরাসরি কোন যোগাযোগ দৃশ্যমান নয়। এই দুই দলই বলছে তারা আলোচনা চায়, কিন্তু দু'পক্ষই বলছে উদ্যোগ নিতে হবে অপরপক্ষকে।

ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ নেতাদের অনেকেই অবশ্য বলছেন, রাজনৈতিক সংকট নিরসনে তাদের সাথে বিরোধীদলের অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ রয়েছে। কিন্তু প্রধান বিরোধীদল বিএনপির নেতারা এমন কোন যোগাযোগের কথা অস্বীকার করছেন।

তবে দু’পক্ষের নেতারাই উল্লেখ করছেন বিদেশী কূটনীতিকদের তৎপরতার কথা।

প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশের কূটনীতিকরা তাদের দু'পক্ষের মধ্যে সমঝোতার ব্যাপারে বিভিন্ন তৎপরতা চালাচ্ছে।

বিরোধীদল বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমেদ বলেছেন, সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে বিদেশী কূটনীতিকরা প্রধান দুই দলের সাথে কথাবার্তা বলছে এবং তাতে মীমাংসার ব্যাপারে বিদেশী কূটনীতিকদের চেষ্টা রয়েছে বলে তাদের ধারণা।

তিনি বলছিলেন, "বিদেশী কূটনীতিকদের অনেকে উদ্যোগ নিয়েছে এবং অনেক আমাদের সাথে কথাবার্তা বলছে। অনেক নানাভাবে চেষ্টা করছে। যারা বাংলাদেশের শুভাকাঙ্খী , তারা সকলেই চাইছে , একটা সমঝোতার মাধ্যমে সংকটের সমাধান হোক। কূটনীতিকরা চাইছে, যাতে সুষ্ঠু নির্বাচন হয় এবং সব দল তাতে অংশ নেয়। এ ব্যাপারে জাতিসংঘের মহাসচিবও টেলিফোনে দুই নেত্রীর সাথে কথা বলেছেন।"

জাতিসংঘের মহাসচিব কয়েকদিন আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার সাথে টেলিফোনে কথা বলেছেন। শক্তিশালী কয়েকটি দেশের কূটনীতিকরা দুই দলের সাথে কথাবার্তা অব্যাহত রেখেছে। এমন তৎপরতার ব্যাপারে বিএনপি নেতাদের অনেকেই আশাবাদ প্রকাশ করছেন। তবে বিদেশী কূটনীতিকদের তৎপরতার বিষয়কে আওয়ামীলীগ নেতারা খুব একটা গুরুত্ব দিতে চাইছেন না।

আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীণ সরকার ব্যবস্থা নিয়ে তারা আলোচনা করতে রাজি আছেন। কিন্তু সেই আলোচনা হতে হবে সংসদের ভিতর থেকে। "নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়েই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করতে হবে। আলোচনা করে এর রূপরেখা ঠিক করা যেতে পারে।"

আওয়ামীলীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের মেয়াদের শেষে এখন ২৫ শে অক্টোবর থেকে ২৫ শে জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। এই নির্বাচনকালীণ সময়ে সরকার কাঠামো কেমন হতে পারে, তার সাংবিধানিক বিষয়গুলো খতিয়ে দেখেছে আইন মন্ত্রণালয়। আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ বলেছেন, "নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙ্গে গেলে ঐ সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়েই সরকার গঠনের কথা সংবিধানে রয়েছে। এছাড়াও নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান প্রধানমন্ত্রীই স্বপদে বহাল থাকবেন, এই বিষয়টিও সংবিধান বলা আছে। ফলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মন্ত্রীসভায় নির্বাচিত প্রতিনিধি কাদের নেওয়া হবে, সেটা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এই মন্ত্রীসভায় বিএনপির নির্বাচিত প্রতিনিধিরাও অংশ নিতে পারেন।"

এদিকে, বিএনপি নির্দলীয় সরকারের দাবিতেই এখনো অনড় রয়েছে। তবে একইসাথে বিএনপির নেতারা বলছেন, সমঝোতার স্বার্থেই সেপ্টেম্বর মাসে তারা বড় ধরণের কর্মসূচি রাখেননি।

বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ দুই দলই বর্তমান সরকারের মেয়াদের শেষ মুহুর্তে সংসদের আসন্ন অধিবেশনে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ নেওয়ার কথা বলছে। কিন্তু সেই উদ্যোগ কে নেবে, তা নিয়ে দল দু’টি একে অপরের উপরই দায়িত্ব চাপাচ্ছে।