'জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে'

  • ২ অগাস্ট ২০১৩
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বাংলাদেশে প্রধানবিরোধী দল বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।

তবে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের হাইকোর্টের রায় নিয়ে মি: আলমগীর কোন মন্তব্য করেননি।

এই রায় হওয়ার পর গতকাল বৃহস্পতিবারই জামায়াত এর বিরুদ্ধে আপিল করেছে।

বিএনপির আরেকজন শীর্ষ পর্যায়ের নেতা মনে করছেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে এই রায়ের কারণে তাদের ১৮ দলীয় জোটে কোন প্রভাব পড়বে না।

জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিলের হাইকোর্টের রায় ঘোষণার পরদিন শুক্রবার বিএনপি তাদের শরিকদলের বিষয়ে মুখ খুলেছে।

তবে ইতিমধ্যেই আপিল হওয়ার কারণে রায় নিয়ে কোন প্রতিক্রিয়া না জানালেও বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাজনৈতিক দিক থেকে তাদের দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেছেন, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে তারা মনে করছেন, আওয়ামীলীগের নেতৃত্বাধীন সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থেকে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়া নিয়ে এগুতে চাইছে।

তিনি বলছিলেন, ‘আমরা বিষয়টাকে রাজনৈতিক দিক থেকে দেখি। কারণ আমরা বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং মুক্তচিন্তা ও সংগঠনের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি । সেকারণে আমরা মনে করি , কোন দল দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব এবং সংবিধান বিশ্বাস করে রাজনীতি করলে, তাদেরকে নিষিদ্ধ করে লাভ হয় না। এটা রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়। ’ তিনি উল্লেখ করেছেন, রাজনৈতিক সমস্যা রাজনৈতিকভাবেই মোকাবেলা করা উচিত।

কিন্তু সরকার জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে কিনা, এমন প্রশ্নে বিএনপি নেতা মি: আলমগীর বলেছেন, আওয়ামীলীগই বলেছে, এটা জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার প্রথম ধাপ। একইসাথে বিএনপির এই নেতা জামায়াতের বিরুদ্ধে তরিকত ফেডারেশনের রিট মামলা করার উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তারা মনে করেন, এর পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জামায়াতের শীর্ষ কয়েকজন নেতার ইতিমধ্যেই সাজা হয়েছে। আরও কয়েকজনের বিচার শেষ পর্যায়ে এসেছে।

jamaat logo
জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট

এমন পটভূমিতেই একটি রিট মামলায় জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের রায় এসেছে হাইকোর্ট থেকে।

এর বিরুদ্ধে যদিও জামায়াত আপিল করেছে, কিন্তু আগামী সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের অংশ নিতে পারা না পারা এবং ১৮ দলীয় জোটে হাইকোর্টের রায়ের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকদের অনেকেই।

বিএনপি নেতা মি: আলমগীরের বক্তব্য হচ্ছে, এই মুহুর্তে তারা জোটের রাজনীতিতে কোন প্রভাব নিয়ে তারা চিন্তিত নন। আপিলের ফলাফল দেখে তারা ব্যবস্থা নেবেন।

তবে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমেদ মনে করেন, নিবন্ধন ছাড়াও অনেক দল তাদের জোটে রয়েছে। ফলে জামায়াতকে নিয়ে যে ফলাফলই আসুক না কেন, তা নিয়ে তাদের জোটে কোন সংকট দেখছেন না।

তিনি বলেছেন, ‘জামায়াতকে নিয়ে এ ধরণের বিতর্ক তো আগে থেকেই ছিল,তা সত্ত্বেও ১৮ দলীয় জোট হয়েছে এবং সেই জোটে জামায়াত রয়েছে ও থাকবে। তাছাড়া আপিলের উপর শুনানি শেষ হতে অনেক সময় লাগতে পারে। ততদিনে নির্বাচনও হয়ে যেতে পারে।'

তিনি বলছেন আর কোন কারণে যদি জামায়াতের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত আসে, তাহলেও ১৮ দলীয় জোট এবং এই জোটের নির্বাচনে কোন প্রভাব প্রভাব পড়বে না বলেই তিনি মনে করেন।