মিশরে বন্দী মোরসির সঙ্গে ইইউ কর্মকর্তার সাক্ষাৎ

  • ৩০ জুলাই ২০১৩
মোহাম্মদ মোরসির সঙ্গে ক্যাথারিন অ্যাশটন। গত জুনে তোলা ছবি।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান ক্যাথারিন অ্যাশটন মিশরের ক্ষমতাচ্যূত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মোরসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। মিস্টার মোরসিকে মিশরের সামরিক বাহিনী এক অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখেছে।

ব্যারনেস অ্যাশটন কায়রোতে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, মোহাম্মদ মোরসি শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন। তিনি টেলিভিশন এবং সংবাদপত্রের মাধ্যমে বাইরের খবরাখবর পাচ্ছেন।

“আমাদের মধ্যে উষ্ণ, আন্তরিক পরিবেশে কথা হয়েছে। তাঁর প্রতি মানুষের শুভেচ্ছা আমি তাঁকে পৌছে দিয়েছি। তিনিও পাল্টা শুভেচ্ছা পৌঁছে দিতে বলেছেন আমাকে। আমি তাঁকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছি যে তাঁর পরিবারকে আমি জানাবো তিনি ভালো আছেন, সুস্থ আছেন।”

ব্যারনেস অ্যাশটন আরও জানান, মিশরের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। মিশরের সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য এবং এই প্রক্রিয়ায় সবাইকে সাথে নেয়ার জন্য তিনি আহ্বান জানিয়েছেন।

মোহাম্মদ মোরসিকে সেনাবাহিনী ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়ার পর ক্যাথারিন অ্যাশটন হচ্ছেন প্রথম বিদেশি, যিনি তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেলেন।

মিস্টার মোরসিকে ঠিক কোথায় সোনাবাহিনী আটকে রেখেছে সে ব্যাপারে ক্যাথারিন অ্যাশ্টন হয় কিছু বলতে চাননি। অথবা তাঁকে সেটা জানতে দেয়া হয়নি।

সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, তিনি তা জানেন না।

কোন কোন রিপোর্টে বলা হচ্ছে মিস্টার মোরসির সাথে সাক্ষাতের জন্য ক্যাথারিন আ্যশ্টনকে সোমবার রাতে হেলিকপ্টারে করে কোথাও নিয়ে যাওয়া হয়। যদি এটি সত্যি হয় এর অর্থ মিস্টার মোরসিকে কায়রোর বাইরে কোথাও আটকে রাখা হয়েছে।

মিশরের সেনাবাহিনী কেন একজন বিদেশীকে মিস্টার মোরসীর সাথে দেখা করার সুযোগ দিল, তা নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এতে কি সংকট উত্তরণের কোন সুযোগ তৈরি হতে পারে ?

কায়রো থেকে বিবিসির জিম মিউর বলছেন, যে কট্টর অবস্থান দু পক্ষ নিয়েছে, তাতে তেমন আশাবাদের কোন সুযোগ এখনো নেই।

শনিবারের রক্তাক্ত ঘটনায় মোহাম্মদ মোরসির অন্তত ৭০ জন সমর্থকের জীবন গেছে। কিন্তু তারপরও মুসলিম ব্রাদারহুড রাস্তা ছাড়তে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। তার বলেছে, মোহাম্মদ মোরসিকে প্রেসিডেন্টের পদে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত বিক্ষোভ চলবে।

অন্যদিকে অস্থায়ী সরকারেরেএকজন মুখপাত্র বলেছেন, জাহাজ রওয়ানা দিয়েছে, এখন ঘাটে ফেরার কোন পথ নেই। অর্থাৎ নির্বাচিত কোন সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের যে রোড ম্যাপ সেনাবাহিনী নিয়েছে, তা থেকে সরে আসার কোনও ইঙ্গিত তাদের কাছ থেকে নেই।