সুন্দরবনের বাঘ: শিকার আর পাচারের ঝুঁকি এখনো

  • ২৯ জুলাই ২০১৩
বিশ্বজুড়েই বাঘের অস্তিত্ব এখন হুমকির মুখে
বিশ্বজুড়েই বাঘের অস্তিত্ব এখন হুমকির মুখে

বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক আবাসস্থলে বাঘ সংরক্ষণে গত ক'বছর সরকারি উদ্যোগে বেশ কিছু প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

তবে বাঘ সংরক্ষণে যারা কাজ করছেন তারা বলছেন, সুন্দরবনের ওপর নানা হুমকি এবং পোচিং অর্থাৎ অবৈধ শিকারের কারণে বাংলাদেশের বাঘ বড় ধরনের ঝুঁকির মাধ্যে রয়েছে।

সুন্দরবনের বাঘের প্রকৃত সংখ্যা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া না গেলেও আনুমানিক ৩৫০ থেকে ৫০০ বাঘ রয়েছে বলে মনে করা হয়।

এই বাঘকে সংরক্ষণের লক্ষ্যে যে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় তার মধ্যে একটি ছিল সুন্দরবনের আশেপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা।

সরকারের বন ও পরিবেশ মন্ত্রী হাসান মাহমুদ বলছেন, সুন্দরবন থেকে কোন বাঘ লোকালয়ে চলে এলে স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় এখন বন বিভাগ তাদের আবার বনে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করতে পারছে।

চীন ও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে বাঘের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের চাহিদা থাকায় সুন্দরবন থেকে এই পাচার করাটা চোরাচালানকারীদের মূল লক্ষ্য থাকে।

কমে যাচ্ছে বাঘের প্রাকৃতিক আবাসভূমি
কমে যাচ্ছে বাঘের প্রাকৃতিক আবাসভূমি

বাঘ সংরক্ষণে কাজ করছে এমন একটি সংস্থা ওয়াইল্ড-টিমের প্রধান নির্বাহী ড. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, সরকারি উদ্যোগের বেশ কিছু সুফল দেখা যাচ্ছে। তবে এখনো পর্যন্ত বাঘ সংরক্ষণের মূল চ্যালেঞ্জ বাঘের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পাচারকেই উল্লেখ করেন তিনি।

এছাড়া বাঘের খাবার হরিণ শিকার করার ফলেও বাঘ এখন বড় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তবে মি. মাহমুদ বলেন, বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা স্থিতিশীল রাখতে পেরেছেন।

বাঘের চামড়া ও বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পাচার রোধ প্রসঙ্গে তিনি জানান, বাংলাদেশ টাইগার অ্যাকশন প্ল্যান নামে সরকারের এই পরিকল্পনার মধ্যে সুন্দরবন থেকে বাঘ পাচার রোধ করার জন্যে গ্রহণ করা হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।

বন বিভাগ ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকায় পাহারা দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

তবে ড. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও মনুষ্যসৃষ্ট সমস্যার কারণে সুন্দরবন নিজেই এখন হুমকির মধ্যে রয়েছে।

বাঘ রক্ষায় পাচার রোধ, হরিণ শিকার বন্ধের সাথে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা করাটাও জরুরি বলেন তিনি মনে করেন।

এই খবর নিয়ে আরো তথ্য