BBC navigation

দীপু মনির দিল্লি মিশন কতোটা সফল

সর্বশেষ আপডেট শনিবার, 27 জুলাই, 2013 15:38 GMT 21:38 বাংলাদেশ সময়

দিল্লিতে দুদিনের সরকারী সফর শেষে শনিবার বিকেলে ঢাকায় ফিরেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মণি।

তিস্তা নদীর পানিবন্টন চুক্তি সম্পাদন ও স্থলসীমা বিষয়ক চুক্তির বাস্তবায়নে ভারতের বিভিন্ন পক্ষকে রাজী করানোই ছিল দীপু মনির এই সফরের মূল লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য কতোটা অর্জিত হয়েছে?

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে এ ব্যাপারে তেমন কোনও আশ্বাস পাননি দীপুমনি। ভারতীয় বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের রাজনীতির বর্তমান যে প্রেক্ষাপট তাতে খালি হাতেই ফিরতে হতো তাকে।

"যদি এই দুটি ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতো তাহলে দুদেশের সম্পর্ক আরো শক্ত ভিত্তি পেত। এগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আরো জোর প্রচেষ্টা চালানো প্রয়োজন ছিল।"

সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শফি সামি

দিল্লীর একজন সাংবাদিক গৌতম লাহিড়ী বলেন, কিছু দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে আশ্বাস পেলেও মূল দুই ইস্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী কোনও তরফ থেকেই আশ্বাস ছাড়া আর কিছুই পাননি।

এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরে তিস্তা চুক্তি সম্পন্ন হবে বলে কথা থাকলেও শেষ মুহুর্তে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আপত্তিতে তা ভেস্তে যায়। সীমান্ত বিষয়ক চুক্তি এবং প্রটোকল সই হয়ে থাকলেও ভারতের সংসদে এজন্যে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনী পাশ না হওয়ায় এটি কার্যকর হতে পারছে না।

"সরকারের শেষ সময়ে এসে তারা যদি স্থল সীমান্ত চুক্তিটিও বাস্তবায়ন করতে না পারে তাহলে দেশে বিশেষ করে বিরোধীদের ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়বে সরকারী দল।"

অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

বাংলাদেশে আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন সরকার বরাবরই ভারতের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত এবং আওয়ামী লীগও তেমনটিই দাবী করে। বলা হয়, এই সরকারের চলতি মেয়াদে ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কে আরো উন্নতি হয়েছে। তারপরও বাংলাদেশের জন্য সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ দুটি ইস্যুতে এখনো কোনও ফয়সালা না হওয়ায় অনেকেই হতাশা প্রকাশ করেছেন।

ভারতে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত সিএম শফি সামি বলেন, যদি এই দুটি ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতো তাহলে দুদেশের সম্পর্ক আরো শক্ত ভিত্তি পেত। এগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আরো জোর প্রচেষ্টা চালানো প্রয়োজন ছিল।

বাংলাদেশের সরকার তার মেয়াদের শেষ সীমায় এসে ভারতের সঙ্গে অমীমাংসীত এই দুটি ব্যাপারে কেনো এতো তোড়জোড় চালাচ্ছে?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ, ‘এখন সরকারের শেষ সময়ে এসে তারা যদি স্থল সীমান্ত চুক্তিটিও বাস্তবায়ন করতে না পারে তাহলে দেশে বিশেষ করে বিরোধীদের ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়বে সরকারী দল। এছাড়া পদ্মা সেতু, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি ইত্যাদি ইস্যুতেও বাংলাদেশের কূটনৈতিক ব্যর্থতার নজির রয়েছে। এখন ভারত ইস্যুতে সেই ব্যর্থতা কিছুটা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টাও তারা করবে। এজন্যই এই তোড়জোড়’।

সম্পর্কিত বিষয়

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻