গ্যাপ-ওয়ালমার্টের গার্মেন্টস নিরাপত্তা পরিকল্পনার সমালোচনা

  • ১১ জুলাই ২০১৩

গ্যাপ এবং ওয়ালমার্টসহ উত্তর আমেরিকার ১৭টি নামকরা ব্রান্ড বাংলাদেশের গার্মেন্টস কারখানাগুলোতে নিরাপত্তার মান বাড়াতে যে পরিকল্পনা নিয়েছে তাকে ‘ধোঁকাবাজি’ বলে বর্ণনা করেছে কয়েকটি আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা।

মার্কিন এবং ক্যানাডিয়ান কোম্পানীগুলো তাদের এই পরিকল্পনার নাম দিয়েছে ‘বাংলাদেশ ওয়ার্কার সেফটি ইনিশিয়েটিভ”। বুধবার তারা পাঁচ বছর মেয়াদী এই পরিকল্পনা ঘোষণা করে। এর অধীনে আগামী এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশের যেসব কারখানা তাদের জন্য পোশাক তৈরি করে, তার প্রত্যেকটি কারখানা পরিদর্শন করা হবে।

কিন্তু শ্রমিকদের অধিকারের পক্ষে কাজ করছে এরকম একটি বেসরকারি আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ওয়ার অন ওয়ান্ট বলেছে, গ্যাপ এবং ওয়ালমার্টের এই পরিকল্পনা একটা ধোঁকাবাজি ছাড়া আর কিছু নয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের কারখানাগুলোকে নিরাপদ করা সম্ভব নয়।

উল্লেখ্য ইউরোপীয় কোম্পানীগুলো যখন বাংলাদেশের গার্মেন্টস কারখানাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কয়েক মাস আগে একটি স্বতন্ত্র চুক্তিতে উপনীত হয়, তখন আমেরিকান কোম্পানিগুলো তাতে সই করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। তারা জানিয়েছিল, বাংলাদেশের গার্মেন্টস কারখানার নিরাপত্তার ব্যাপারে তারা একটি পৃথক পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। বুধবার তারা সেই পরিকল্পনার বিস্তারিত প্রকাশ করে।

রানা প্লাজা ধসে পড়ার পর বাংলাদেশের গার্মেন্টস কারখানায় নিরাপত্তা বাড়াতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে

এই ১৭টি কোম্পানি তাদের যুক্ত ঘোষণায় বলেছে, বাংলাদেশের গার্মেন্টস কারখানাগুলোকে নিরাপদ করতে তারা এগুলো পরিদর্শন, কারখানার কর্মী ও ব্যবস্থাপকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে। কারখানা ভবনগুলোকে ঝুঁকিমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় মানোন্নয়নের জন্য স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা হবে। আর কারখানাগুলোতে ‘শ্রমিকদের কমিটি’র মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা করা হবে।

কিন্তু ওয়ার অন ওয়ান্টের একজন মুখপাত্র মারে ওর্দি বলেছেন, এই পরিকল্পনায় অনেক ধরণের ত্রুটি রয়েছে। এরা যে কারখানাগুলো পরিদর্শন করবে, আরও তার রিপোর্ট জনসমক্ষে প্রকাশ করবে না। পরিকল্পনাটি মেনে চলার কোন আইনগত বাধ্যবাধকতা নেই। কাজেই এখানে কোন নিশ্চয়তা নেই যে অবস্থার কোন পরিবর্তন হবে।

তিনি আরও বলেন, আমেরিকান কোম্পানিগুলোর পরিকল্পনায় শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন অধিকারের কোন স্বীকৃতি নেই। তারা শ্রমিকদের কমিটির কথা বলেছেন, কিন্তু তাদের ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়নি।

অন্যদিকে শ্রমিকদের অধিকারের পক্ষে তৎপর আরেকটি আন্তর্জাতিক শ্রমিক জোট ইন্ডাস্ট্রিঅল বলেছে, এটি বাংলাদেশের শ্রমিকদের নিরাপত্তার নামে আরেকটি নখদন্তহীন কর্পোরেট পরিকল্পনা।