মিসরে মুসলিম ব্রাদারহুড এবং বিরোধীদের বিক্ষোভ

  • ৮ জুলাই ২০১৩
egypt protest
মুসলিম ব্রাদারহুডের কর্মী সমর্থকদের বিক্ষোভ

মিসরের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মোরসির সমর্থক এবং বিরোধীরা আবার নতুন করে কায়রো ও আলেকজান্দ্রিয়ার রাজপথে বিক্ষোভ করছেন।

কায়রোর তাহরির স্কয়ারে কয়েক লাখ জনতা মোরসিকে উৎখাতের সেনাবাহিনীর সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

অন্যদিকে রাজধানীর নাসর সিটি এলাকায় কয়েক লাখ মোরসি সমর্থক তাকে ক্ষমতায় পুন:প্রতিষ্ঠা করার দাবীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে।

এদিকে, মিসরের গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জিয়াদ বাহা-এলদিন নামে একজন আইনজীবী ও রাজনৈতিকের নাম শোনা যাচ্ছে।

মুসলিম ব্রাদারহুডের সমর্থকেরা কায়রোর একটি মসজিদের বাইরে একটি সেনা-ঘাটির সামনে তাকে ক্ষমতায় পুনর্বহাল করার দাবীতে বিক্ষোভ করছে।

মুসলিম ব্রাদারহুডের মূল দাবী মি. মোরসিকে ক্ষমতায় পুনর্বহাল করা এবং মুসলিম ব্রাদারহুডের শীর্ষ নেতাদের মুক্তি।

তারা বলছে দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথে আন্দোলন অব্যাহত রাখবে।

অন্যদিকে, তাহরীর স্কয়ারে মি. মোরসির বিরোধী বিক্ষোভকারীরা সেনাবাহিনীর সিদ্ধান্তের পক্ষে র‍্যালী করছে।

এদিকে, নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসাবে উদারপন্থী রাজনীতিবিদ এল বারাদিকে নিয়োগ করা নিয়ে বিরোধের কারণে থমকে গেছে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন প্রক্রিয়া।

যদিও দেশটির বিভিন্ন উদার ও মধ্যপন্থী রাজনৈতিক মহল এল বারাদিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছিলেন ।

তামারোদ প্রোটেস্ট মুভমেন্টের নেতা মোহাম্মদ বদর বলেছেন, "এল বারাদিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের কথা শুনে আমি খুবই আনন্দিত। মি. বারাদি এমন একজন মানুষ যিনি ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত বিপ্লবে পুরো দেশকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন।"

কিন্তু, ইসলামপন্থীদের আপত্তির মুখে মি. বারাদির নিয়োগ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে, এবং নতুন করে সংঘর্ষিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে, দেশটির একজন প্রেসিডেন্সিয়াল মুখপাত্র মিসরের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে জানিয়েছেন, যে জিয়াদ বাহা-এলদিন নামে একজন আইনজীবী ও রাজনৈতিককে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেয়ার ব্যপারে চিন্তাভাবনা চলছে।

তবে, তামারোদ মুভমেন্টসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এল বারাদি ছাড়া অন্য কাউকে মেনে নেবে না বলে জানিয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আদলি মনসুর এল বারাদি এবং আরও কয়েকজন সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করছেন।

দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ সামাল দিতে দেশটির অন্তর্বর্তী সরকার কায়রো এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে।

শুক্রবারে মিসর জুড়ে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সরকারী বাহিনীর সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন নিহত এবং প্রায় হাজার খানেক মানুষ আহত হয়েছে।