সিটি নির্বাচনে 'পরাজিত' সরকার: বিএনপি

  • ৭ জুলাই ২০১৩
বাংলাদেশ সংলাপের প্যানেল আলোচক
বাংলাদেশ সংলাপের প্যানেল আলোচক

বাংলাদেশে চারটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের পর শনিবার গাজীপুরেও বিপুল ভোটের ব্যবধানে হেরে গেছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী।

বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে বিরোধী দল বিএনপির একজন নেতা বলেছেন, এই নির্বাচনে আসলে সরকারই পরাজিত হয়েছে। তবে সরকারের একজন মন্ত্রী বলেছেন এ নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন নন, তবে তাদের ত্রুটি বা ব্যর্থতা গুলো সংশোধন করতে হবে।

রোববার ঢাকায় বিয়াম মিলনায়তনে সংলাপের এই পর্বে আলোচক ছিলেন নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, বিরোধী দল বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্র অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শফিউল আলম ভুঁইয়া এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা অ্যাকশন এইড-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্‌ কবির।

অনুষ্ঠানে একজন দর্শক জানতে চান পরপর পাঁচটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয় কি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সরকারের জনপ্রিয়তায় ব্যাপকভাবে ধস নেমেছে ?

জবাবে শাজাহান খান বলেন, জাতীয় নির্বাচন এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পূর্ণ ভিন্ন। তবে সরকারকে ভাবতে হবে কোথায় ত্রুটি বা ব্যর্থতা আছে। সেগুলো সংশোধন করতে হবে।

তিনি বলেন, “উদ্বিগ্ন হওয়ার হওয়ার কোন কারণ আছে বলে আমি মনে করি না। ভুল সংশোধন করতে পারলে পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনেও জনগণ আওয়ামী লীগ বা মহাজোটকেই আবার নির্বাচিত করবে।”

আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সরকারের চার বছরের দু:শাসনের প্রতিবাদ করে জনগন বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটকেই ভোট দিয়েছে।

তিনি বলেন, “সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সরকারের পরাজয় হয়েছে। বিরোধী দল জয়ী হয়েছে। দু:শাসনের বিরুদ্ধে প্রটেস্ট হিসেবে জনগন ১৮-দলীয় জোটকে ভোট দিয়েছে।”

শফিউল আলম ভুঁইয়া বলেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলগুলো আওয়ামী লীগের জন্য বড় আঘাত। নির্বাচনের ফলে সরকারের প্রতি জনগনের বিরক্তির বহি:প্রকাশ ঘটেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

“সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলো জনগন সরকারের প্রতি একটি বার্তা দিয়েছে। আর তা হলো সরকার যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো তার অনেক কিছুই বাস্তবায়ন করতে পারেনি।”

ফারাহ কবির মন্তব্য করেন, জনগণ আসলে পারফরমেন্সের বিচার করেছে। তবে আওয়ামী লীগের কৌশলও হতে পারে। কারণ এখানে আস্থার ঘাটতি ছিলো। তারা হয়তো প্রমাণ করতে চাইছে তাদের অধীনে নির্বাচন নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠূ হতে পারে।

“সরকারের কিছু বিষয়ে অসন্তুষ্টি আছে। কিছু প্রশ্ন আছে। ম্যানিফেস্টোতে যা ছিল সেগুলো পুরোপুরি অর্জন হয়নি।”

এ প্রসঙ্গে একজন দর্শক প্রশ্ন করেন, “গাজীপুরকে দ্বিতীয় দুর্গ বলা হয়েছে আওয়ামী লীগের জন্য। পদ্মা সেতু দুর্নীতির জন্য প্রথম দুর্গেরও কি পতন হবে?”

আরেকজন দর্শক মন্তব্য করেন, “নির্বাচনের ফল প্রমাণ করে দেয় যে কোন কিছু করে কেউ পার পেয়ে যাবেনা।”

অন্য একজন দর্শক বলেন, “সরকারের জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে সত্যি। ধরলাম বিএনপি ক্ষমতায় আসবে। কিন্তু তারা ক্ষমতায় আসলে আবার কি সেই হাওয়া ভবন, জঙ্গী বা বাংলা ভাই দেখতে পাবো?”

র‍্যাবের গুলিতে আহত লিমন হোসেনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে রাষ্ট্র তার প্রতি নিষ্ঠুরতার পরিচয় দিচ্ছে কিনা – এমন এক প্রশ্নে অনেক দর্শক লিমনের বিরুদ্ধে যে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তার সমালোচনা করেন।

একজন দর্শক বলেন, “যে ছেলেটা সকালে খেলে দুপুরে কি খাবে সেটা এড়াতে বই পড়ে সেই লিমনকে নিয়ে যে স্ট্যান্টবাজি, সরকার তার পুরষ্কার পেয়ে যাবে।”

আরেকজন দর্শক বলেন, “আমার কান্না পেয়েছে লিমনের খবরটা দেখে। এমনিতেই ছেলেটাকে পঙ্গু করে দেয়া হয়েছে। সরকার নিরব কেন?”

জবাবে মন্ত্রী বলেন লিমনের সঙ্গে সরকারের কোন বিরোধ নেই। তবে মি. নোমান বলেন, সরকারি সংস্থা অর্থাৎ সরকারই লিমনের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে।