মিশরে মোরসি সমর্থকদের মিছিলে গুলি, নিহত ৩জন

  • ৫ জুলাই ২০১৩
egypt clashes
মিশরের বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতা হয়েছে।

মিশরের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মোরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রতিবাদে তার সমর্থকরা শুক্রবার যে বিক্ষোভ করছেন, তাতে সৈন্যদের গুলিতে এ পর্যন্ত অন্তত তিন জন নিহত হয়েছে।

কায়রো থেকে বিবিসির সংবাদদাতা জানাচ্ছেন, মুসলিম ব্রাদারহুডের হাজার হাজার সমর্থক মিছিল নিয়ে কায়রোর এক সামরিক ঘাঁটির দিকে যাওয়ার সময় তাদের ওপর সৈন্যদের গুলি চালাতে দেখেছেন তিনি।

মুসলিম ব্রাদারহুড আজ মিশর জুড়ে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভের ডাক দিলেও সহিংসতার পর কায়রোর পরিস্থিতি এখন খুবই উত্তেজনাপূর্ণ।

বিবিসির মধ্যপ্রাচ্য সংবাদদাতা জেরেমি বোয়েন জানাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট গার্ডদের অফিসার্স ক্লাব ভবনের দিকে মোরসি সমর্থক বিক্ষোভকারীরা মিছিল করে যাবার চেষ্টা করলে সেনাবাহিনী তাদের ওই ভবন থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেয়।

ওই ভবনেই মিঃ মোরসিকে আটক রাখা হয়েছে বলে বিক্ষোভকারীদের ধারণা ।

বিক্ষোভকারীরা ওই সেনা ঘাঁটির বাইরে কাঁটাতারের বেড়ার ওপর মিঃ মোরসির ছবি টাঙানোর চেষ্টা করার সময় গুলির ঘটনা ঘটে।

সেনাবাহিনী যদিও বলছে তারা তাজা গুলি ব্যবহার করে নি। কিন্তু বিবিসির মধ্যপ্রাচ্য সংবাদদাতা বলছেন তিনি নিজে দেখেছেন সৈন্যরা প্রথমে আকাশের দিকে গুলি ছুঁড়েছে, এরপর তিনি দেখেছেন যে সৈন্যরা বন্দুকের নল নামিয়ে জনতার ওপর গুলি করেছে । পরপরই তিনি দেখতে পান যে এক ব্যক্তি মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে এবং তার পোশাক রক্তাক্ত হয়ে গেছে।

বিবিসি সংবাদদাতা বলছেন গুলি চালানোর আগে কাঁদানে গ্যাস ছাড়ার কোনোরকম চেষ্টা তিনি দেখেন নি।

বিক্ষোভকারীদের দিক থেকেও গুলি চালানো হয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

মিশরের বেশ কয়েকটি শহর থেকে সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

মোহাম্মদ মোরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে মিঃ মোরসির দল মুসলিম ব্রাদারহুড আজকের দিনটিকে তাদের ভাষায় 'প্রত্যাখান দিবস' হিসাবে আখ্যায়িত করে দেশব্যাপী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল।

মুসলিম ব্রাদারহুডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে মিঃ মোরসিকে ক্ষমতায় পুর্নবহাল না করা পর্যন্ত তারা রাস্তায় আন্দোলন অব্যাহত রাখবে।

মিঃ মোরসির ক্ষমতার মেয়াদ আকস্মিকভাবে শেষ করে দেওয়ার যে ঘোষণা সেনাবাহিনী দিয়েছে তা মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে মুসলিম ব্রাদারহড । তারা বলছে এটা অসাংবিধানিক।

মোহাম্মদ মোরসিকে এভাবে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রতিবাদে আফ্রিকান ইউনিয়ন মিশরের সদস্যপদ সাময়িকভাবে বাতিল করেছে। আফ্রিকান ইউনিয়নের সদস্য দেশের সংখ্যা ৫৪।

তারা বলেছে মিশরে সংবিধান পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত মিশরকে তারা গোষ্ঠির কোনোরকম কার্যক্রমে যোগ দিতে দেবে না।

তাদের রাজনীতি বিষয়ক কমিশনার ড: আইশা আবদুল্লাহি বলেছেন সাম্প্রতিক ঘটনার পটভূমিতে তাদের কাছে আর কোনো বিকল্প ছিল না।

'ডঃ আবদুল্লাহি বলছেন এই গোষ্ঠি সুশাসনের নীতিতে বিশ্বাসী। তারা গণতন্ত্রের আদর্শে বিশ্বাসী।

"জনগণের ইচ্ছা- তাদের অভ্যূত্থানকে আফ্রিকান ইউনিয়ন যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়- কিন্তু সেখানে অরাজকতার কোনো জায়গা নেই।" ডঃ আবদুল্লা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন।

এর আগে আফ্রিকার ইউনিয়ন ক্ষমতা থেকে মিঃ মোরসির অপসারণকে অসাংবিধানিক বলে মন্তব্য করেছিল এবং মিশরীয় কর্তৃপক্ষকে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছিল।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগও বলেছেন কায়রোয় মৃত্যুর এই ঘটনা খুবই উদ্বেগের। ঘটনা যাতে আরো সহিংস রূপ না নেয়, তার জন্য সব পক্ষকে মাথা ঠান্ডা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

গাজায় হামাস সরকারের প্রধান ইসমাইল হানিয়ে যিনি ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্টের একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন তিনিও ঘটনা সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন তার আশা মিশরের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ দুদেশের সম্পর্কের ওপর কোনরকম প্রভাব ফেলবে না।

এদিকে মিশরের অর্ন্তবর্তী প্রেসিডেন্ট আদ্‌লি মনসুর আজ সংসদের উচ্চকক্ষ ভেঙে দিয়েছেন, এবং একজন নতুন গোয়েন্দা প্রধান নিয়োগ করেছেন।

এই খবর নিয়ে আরো তথ্য