BBC navigation

নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নির্যাতন বন্ধ হচ্ছে না কেনো

সর্বশেষ আপডেট বুধবার, 26 জুন, 2013 15:39 GMT 21:39 বাংলাদেশ সময়

বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হওয়া লোকদের প্রতি সহমর্মিতা জানাতে আজ বুধবার জাতিসংঘের একটি আন্তর্জাতিক দিবস পালন করছে বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলো।

বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতারের পর রিমান্ডে নির্যাতন - অথবা রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে নির্যাতনের অভিযোগ নতুন নয়।

আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে সে নিয়ে সংস্কার প্রকল্পও চলছে বহুদিন যাবত।

কিন্তু তারপরও নির্যাতনের অভিযোগ থেমে নেই।

২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ২৪ তারিখ কাফরুলের একটি চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছিলেন ফারুক হোসেন কামাল।

"পুলিশ জানায় আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে পরোয়ানা আছে। তাকে ছেড়ে দেবার বিনিময়ে তারা আমাদের কাছে অর্থ দাবি করে"

পারভীন হক,

তার পরিবারের অভিযোগ তখন কয়েকজন পুলিশ এসে তাকে আটক করে নিয়ে যায়।

ফারুক হোসেন কামালের বোন পারভীন হক জানান, দু’দিন থানায় গিয়ে তার দেখা পেলেও পরবর্তী ক’দিন তার সাথে দেখা করার অনুমতি মেলেনি।

তার কয়েকদিন পর একটি টেলিফোন পান পারভীন হক।

তিনি জানালেন, টেলিফোন পেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে যান তিনি। কিন্তু সেখানে প্রথমে তার খোঁজ মেলেনি।

“আমাকে বলা হয় ২১৮ নম্বর ওয়ার্ডে গেলে তাকে পাওয়া যাবে। আমি দোতলার পুরোটা খুঁজে তার দেখা পাইনি। পরে সেখানকার পুলিশের কাছে জানতে চাই কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কোন আসামী এসেছে কীনা। পুলিশ আমাকে তখন ঢাকা মেডিকেলের মর্গে নিয়ে যায়। সেখানে তার মরদেহ পাই আমি।”

কাঁদতে কাঁদতে তিনি জানালেন, ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখ তার পরিবারের উপর এক বিপর্যয় নেমে আসে।

পুলিশের বিশেষ বাহিনী র‍্যাবের বিরুদ্ধে প্রায়শই অভিযোগ উঠে নির্যাতনের

পারভীন হকের অভিযোগ, পুলিশ তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে পরোয়ানা আছে বলে জানায় এবং পরিবারের কাছে তাকে ছেড়ে দেবার বিনিময়ে অর্থ দাবি করে।

কিন্তু তা দেবার সামর্থ্য তখন তার ছিল না।

তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ তার ভাইকে নির্যাতন করেছিল। বাংলাদেশে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে নাগরিকদের নির্যাতনের অভিযোগ নতুন নয়।

অভিযোগ যে গ্রেফতারের পর তথ্য বের করতে গিয়ে নির্যাতন করা হয়। আবার কখনো রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণেও নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। বাংলাদেশে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে নানা ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে বিভিন্ন সময়ে সংস্কার প্রকল্পও নেয়া হয়েছে।

সরকারের কর্তাব্যক্তিদের কাছ থেকেও একটি দক্ষ বাহিনী গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি মিলেছে বহুবার।

"আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের জন্য অপরাধীদের বা সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার করা হয়। সেক্ষেত্রে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিধি বহির্ভূতভাবে কোন ঘটনা ঘটিয়েছেন এমন তথ্য আমার জানা নেই"

মোখলেসুর রহমান, র‍্যাব

তা সত্ত্বেও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে নির্যাতনের অভিযোগ থেমে নেই।

মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের সেক্রেটারি আদিলুর রহমান খান মনে করেন “৪২ বছর ধরে বাংলাদেশে গড়ে ওঠা একটি দায়মুক্তির সংস্কৃতিই এর জন্য দায়ী।”

তিনি বলেন, “অপরাধ করে করে পার পাওয়া সম্ভব এরকম একটি মনোভাব বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। তাই এই অপরাধগুলো চলছে”

তিনি আরও বলেন, “আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে এসব বাহিনী নিজেই তদন্ত করে। যদি কোন স্বাধীন তদন্ত কমিশন বা আলাদা নিরপেক্ষ ব্যবস্থার অধীনে তদন্ত না হয় তবে তা নিরপেক্ষ হওয়ার সম্ভাবন খুবই কম।”

তার এই কথার সাথে মিলিয়ে পারভীন হক জানিয়েছেন, পুলিশই ঐ ঘটনার তদন্ত করছে বিধায় তার পরিবার ন্যায় বিচার পাচ্ছে না।

এধরনের নির্যাতনের অভিযোগ সম্পর্কে বিশেষ বাহিনী র‍্যাবের মহাপরিচালক মোখলেসুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি একবাক্যে এসব অভিযোগ নাকচ করে দেন।

"৪২ বছর ধরে বাংলাদেশে গড়ে ওঠা একটি দায়মুক্তির সংস্কৃতিই এর জন্য দায়ী"

আদিলুর রহমান খান, মানবাধিকার কর্মী, অধিকার

তিনি বলেন, “আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের জন্য অপরাধীদের বা সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার করা হয়। সেক্ষেত্রে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিধি বহির্ভূতভাবে কোন ঘটনা ঘটিয়েছেন এমন তথ্য আমার জানা নেই।”

তবে মানবাধিকার কর্মী আদিলুর রহমান খান বলছেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বরং দিনকে দিন আরও আগ্রাসী হচ্ছে। আরও বেশি বেপরোয়া হচ্ছে এবং তাদের জিম্মায় আটকদের উপর নির্যাতনের সংখ্যাও বেড়েছে।”

তিনি সেই সংখ্যার হিসেব দিতে গিয়ে বলেন, ২০০৯ এর জানুয়ারি থেকে ২০১৩ সালের মে মাস পর্যন্ত মোট ২৯০ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে নির্যাতিত হয়েছেন এবং তার মধ্যে ৭১ জন নির্যাতনে প্রাণ হারিয়েছেন।

তিনি আশংকা করছেন, প্রকৃত সংখ্যা হয়তো এর থেকে আরও বেশি হতে পারে।

সম্পর্কিত বিষয়

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻