BBC navigation

ক্রেতাদের প্রতি বিজিএমইএর আকুল আবেদন

সর্বশেষ আপডেট মঙ্গলবার, 18 জুন, 2013 12:27 GMT 18:27 বাংলাদেশ সময়
bd_garments

বাংলাদেশের গার্মেন্ট কারখানা (ছবি : ফোকাসবাংলা)

বাংলাদেশের গার্মেন্ট কারখানাগুলোতে সুরক্ষা ও কর্মপরিবেশ উন্নত করার জন্য বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে পোশাক শিল্প মালিকদের সমিতি তাদের অনুরোধ করেছে তারা যেন বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে না নেন!

বাংলাদেশ থেকে যে সব বিদেশি সংস্থা তৈরি পোশাক কেনে, তাদের অন্যতম টেসকো গত শনিবারই বাংলাদেশের একটি কারখানা থেকে পোশাক নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে – কারণ সেখানকার নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগের কারণ আছে বলে তারা মনে করছে।

ইতিমধ্যে মার্কিন হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভে দুজন ডেমোক্র্যাট সদস্যর আনা একটি বিলও পাস হয়েছে – যার লক্ষ্য হল বাংলাদেশের তৈরি-পোশাক কারখানাগুলোতে সুরক্ষা ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করা।

এই পটভূমিতেই বাংলাদেশের পোশাক শিল্প মালিকদের সমিতি বিজিএমইএ বলেছে – কারখানায় সুরক্ষা আরও ভাল করার জন্য তারা নানা পদক্ষেপ নিচ্ছেন, এই পরিস্থিতিতে বিদেশি ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে মুখ ফেরাবেন না – এটাই তাদের আশা!

বিজিএমইএ-র সহ-সভাপতি শহীদুল্লা আজিম বিবিসিকে বলেন, ‘গত তিরিশ বছর ধরে বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্প তাদের সামর্থ্য বা ক্যাপাসিটি তৈরি করেছে – কিন্তু আজ যদি বিদেশি ক্রেতারা আচমকা বাংলাদেশ ছেড়ে অন্যত্র চলে যান, তাহলে সেটা সঙ্গত হবে না।’

"গত তিরিশ বছর ধরে বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্প তাদের সামর্থ্য বা ক্যাপাসিটি তৈরি করেছে – কিন্তু আজ যদি বিদেশি ক্রেতারা আচমকা বাংলাদেশ ছেড়ে অন্যত্র চলে যান, তাহলে সেটা সঙ্গত হবে না"

শহীদুল্লা আজিম, বিজিএমইএ সহ-সভাপতি

তবে বিদেশি ক্রেতারা যে সুরক্ষা ও কর্মপরিবেশ উন্নত করার ওপর জোর দিচ্ছেন – সেটা নিশ্চিত করার জন্য তারা সব ধরনের ব্যবস্থাই নিচ্ছেন বলে দাবি করেছেন বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ।

টেসকো যেমন লিবার্টি ফ্যাশনস নামে যে গার্মেন্ট কারখানা থেকে পোশাক নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে, সেই কারখানা ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ কি না, তা পরীক্ষা করে দেখার জন্য বিজিএমইএ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বা বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের দায়িত্ব দিয়েছে।

শহীদুল আজিম জানান, বুয়েটের বিশেষজ্ঞরা যদি কারখানা ভবনটি নিরাপদ বলে রায় দেন তাহলে তারা টেসকোর কাছে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য অনুরোধ জানাবেন।

এর পাশাপাশি লিবার্টি ফ্যাশনসের মালিক মোজাম্মেল হোসেনও দাবি করেছেন, টেসকো যে তাদের কারখানাটিকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করেছে – সেটা আসলে ‘স্যাবোটাজ’ বা অন্তর্ঘাতের ঘটনা ছাড়া কিছুই নয়।

লিবার্টি ফ্যাশনসের মালিক মি হোসেন বিবিসিকে বলেন, ‘আমাদের কারখানা ভবনটি সম্পূর্ণ নতুন – এটিকে কেন ঝুঁকিপূর্ণ বলা হচ্ছে তা আমাদের বোধগম্যই নয়!’

tesco

বাংলাদেশের পোশাক খাতের অন্যতম বড় ক্রেতা টেসকো

ইতিমধ্যে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভে যে বিলটি পাস হয় – তাতে বলা হয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের অধীনে যে সব সামরিক ঘাঁটিতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক নেওয়া হয়, তাদের বাংলাদেশের কারখানায় অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা ও স্থাপনা নির্মাণ নীতিমালা মানার বিষয়টি অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।

হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভে এই বিলটির পক্ষে ৩১৫ ও বিপক্ষে ১০৮টি ভোট পড়ে। এখন অনুমোদনের জন্য বিলটি মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সেনেটে উত্থাপিত হবে।

বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোতে একের পর এক দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দুজন ডেমোক্র্যাট সদস্য, ক্যালিফোর্নিয়ার জর্জ মিলার আর ইলিনয়ের জেন সাকোওয়াস্কি হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভে এই বিলটি উত্থাপন করেছিলেন।

সম্পর্কিত বিষয়

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻