BBC navigation

মৃত্যুর পরও থ্যাচারকে নিয়ে বিভক্ত ব্রিটেন

সর্বশেষ আপডেট মঙ্গলবার, 9 এপ্রিল, 2013 14:49 GMT 20:49 বাংলাদেশ সময়

সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের মৃত্যুর পর বিশ্বনেতারা শোক প্রকাশ করেছেন, স্বদেশে পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্যানুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে। কিন্তু একই সঙ্গে তাঁর মৃত্যুতে ব্রিটেনের কিছু মানুষ প্রকাশ্যেই যেভাবে স্বস্তি এবং আনন্দ প্রকাশ করেছেন, তা বিস্মিত করেছে অনেককে।

ব্রিটেনের প্রথম এবং একমাত্র মহিলা প্রধানমন্ত্রী হয়েও এক দশকের মধ্যে ব্রিটিশ রাজনীতি, অর্থনীতির এবং সেই সাথে সমাজের যে মৌলিক পরিবর্তন এনেছিলেন তিনি তার জন্য শুধু ব্রিটেন নয়, সারা বিশ্বের মধ্যে সাড়া ফেলেছিলেন মিসেস থ্যাচার।

কিন্তু মার্গারেট থ্যাচার একই সঙ্গে ছিলেন অত্যন্ত বিতর্কিত এক রাজনীতিক। বিশেষ করে তাঁর বাজারমুখী কট্টর পুঁজিবাদী নীতির কারণে স্বদেশের বামপন্থীদের কাছে তিনি বরাবরই তীব্রভাবে সমালোচিত হয়েছেন।

মৃত্যুর পরও মার্গারেট থ্যাচারকে ঘিরে এই রাজনৈতিক বিভাজন ছিল খুবই স্পষ্ট।

ব্রিটেনে কিছু মানুষকে তাঁর মৃত্যুতে যেভাবে খোলাখুলি স্বস্তি, আনন্দ প্রকাশ করতে দেখা গেছে, সেরকম সচরাচর দেখা যায় না।

মার্গারেট থ্যাচারের মৃত্যুতে ব্রিটেনের দক্ষিণ পশ্চিমে ব্রিস্টল শহরে গত রাতে প্রায় ২০০ লোকের একটি আনন্দ সমাবেশে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে। এই সংঘর্ষে ৭ জন পুলিশ অফিসার আহত হয়।

গতকাল সামাজিক যোগাযোগের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সেখানে আনন্দ অনুষ্ঠানের ডাক দেওয়া হয়। পুলিশ তাদের সরে যেতে বললে ধ্বস্তাধ্বস্তির ঘটনা ঘটে।

দক্ষিণ লন্ডনের কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যুষিত ব্রিক্সটন এলাকাতে এবং উত্তরে গ্লাসগোতেও সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর মত্যুতে আনন্দ ও স্বস্তি প্রকাশ করে সমাবেশ হয়েছে ।

যদিও নানা মহল থেকে এধরনের আনন্দ সমাবেশের সমালোচনা করে বলা হয়েছে রাজনীতিতে তাকে নিয়ে মেরুকরণ ছিল ঠিকই কিন্তু তার মৃত্যুর পর এভাবে উৎসব অনুষ্ঠান যথাযথ নয়।

মার্গারেট থ্যাচারের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নীতিমালা তাকে রাজনীতিতে বির্তকিত একটা ব্যক্তিত্ব করে তুলেছিল।

ব্রিটেনের শিল্পখাতকে তিনি ব্যাপকভাবে বিরাষ্ট্রীয়করণ করেছিলেন- মুক্তবাজার অর্থনীতির একটা নতুন যুগের সূচনা করেছিলেন। তার এই নীতি লেবার দল এবং বাম ঘেঁষা রাজনীতিক ও রাজনৈতিক সমর্থকরা বরাবর সমালোচনা করে এসেছেন।

তার ট্রেড ইউনিয়ন দমন নীতি, খনি শ্রমিকদের সঙ্গে তার সরকারের বছরব্যাপী সংঘাত, প্রথমে মেয়াদে চড়া বেকারত্ব, এসবের কারণে অনেকের কাছেই দৃঢ় চরিত্রের জন্য অনেকের কাছে জনপ্রিয় এই সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ব্যাপকভাবে বির্তকিত ও অজনপ্রিয়ও করেছিল।

সম্পর্কিত বিষয়

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻