BBC navigation

বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর আক্রমণের বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি বিএনপির

সর্বশেষ আপডেট রবিবার, 10 মার্চ, 2013 18:14 GMT 00:14 বাংলাদেশ সময়
hindu attacks

হিন্দু নেতারা দেড় হাজার হিন্দু বাড়ি ও মন্দিরের উপর হামলার অভিযোগ তুলেছেন

বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার বলেছেন, দেশটিতে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় সরকারের একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত করা উচিত।

তিনি বলেন, সেটি করা হলে বিএনপিও সরকারকে সহযোগিতা করবে। শনিবার বিবিসির বাংলাদেশ সংলাপ অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

একই বিষয়ে ক্ষমতাসীন জোটের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা রাশেদ খান মেনন বলেন, সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনাকে শুধুমাত্র ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে দেখলে চলবে না, এটিকে রাজনৈতিকভাবেও মোকাবেলা করতে হবে।

বিএনপি নেতা এম কে আনোয়ার বলেন হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলার বিষয়টি রাজনৈতিক বিষয় নয়।

মি: আনোয়ার বলেন , “বিষয়টিকে রাজনীতিকীকরণ করা হলেই এর কোন বিচার হবে না। আমার পরিস্কার সাজেশন অবিলম্বে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক।”

"জামায়াত যদি হামলার সাথে জড়িত থাকে তাহলে তাদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করান। আমরা সহযোগিতা করব।"

এম কে আনোয়ার, বিএনপি নেতা

বিচার বিভাগীয় তদন্ত হলে বিএনপিও সব ধরনের সহযোগিতা করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন অপরাধীরা যে দলেরই হোক তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।

মি: আনোয়ার বলেন, “আমরা তো বলছি না জামায়াতে ইসলামীকে ধরবেন না। জামায়াত যদি হামলার সাথে জড়িত থাকে তাহলে তাদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করান। আমরা সহযোগিতা করব।”

হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী দেশে এ পর্যন্ত দেড় হাজারের মত হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি ও মন্দিরে হামলা হয়েছে। এসব ঘটনার জন্য তারা মোটা দাগে অভিযোগ তুলছেন জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে।

বিএনপি নেতা এম কে আনোয়ার বিষয়টিকে শুধু ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে দেখলেও তার সাথে একমত হতে পারেননি ক্ষমতাসীন জোটের অংশীদার বাংলাদেশের ওয়ার্কাস পার্টির নেতা রাশেদ খান মেনন।

তিনি বলেন, “এটা ফৌজদারী অপরাধ কেবলমাত্র? আসলে বিষয়টা তো রাজনৈতিক।” সংখ্যালঘুদের উপর হামলার বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে হবে বলে মি: মেনন উল্লেখ করেন।

"বিচার বিভাগীয় তদন্তের মধ্য দিয়ে আমরা হয়তো দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে পারি। কিন্তু ঘটনাগুলো তো দিনের আলোর মতো পরিস্কার।"

রাশেদ খান মেনন, ওয়ার্কার্স পার্টি প্রধান

তিনি বলেন, “তদন্ত তো অবশ্যই হতে হবে। বিচার বিভাগীয় তদন্তের মধ্য দিয়ে আমরা হয়তো দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে পারি। কিন্তু ঘটনাগুলো তো দিনের আলোর মতো পরিস্কার।”

মি: মেনন বলেন, “সাম্প্রদায়িক সহিংসতাকে যদি কেবল ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয় তাহলে সেটার মারাত্মক সরলীকরণ করা হবে।”

অনুষ্ঠানে একজন দর্শক মন্তব্য করেন সংখ্যালঘুদের উপর যে হামলার ঘটনা ঘটেছ সেটা অবশ্যই নিন্দনীয়। তিনি বলেন এতে দেশের যেমন ক্ষতি হচ্ছে তেমনি ধর্মীয়ভাবেও এটা সমর্থনযোগ্য নয়।

অনুষ্ঠানের আরেকজন প্যানেলিস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আমেনা মহসীন বলেন সংখ্যালঘুদের উপর যারা আক্রমণ করেছে তাদের যাতে কোন দলই প্রশ্রয় না দেয় সে বিষয়ে ঐকমত্য থাকতে হবে। তিনি বলেন সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণের বিষয়টি বর্হিবিশ্বে বাংলাদেশের একটি নেতিবাচক ধারণার জন্ম দেবে। তিনি বলেন সরকারের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত করে দায়ীদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

"প্রতিটি ঘটনার তদন্ত এবং অনুসন্ধান হওয়া দরকার।"

মুহাম্মদ নুরুল হুদা, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক

তিনি বলেন, “আমি গবেষণার সাথে জড়িত। অনেক সময় দেখা গেছে একটা ঘটনার জন্য জামায়াতকে সরাসরি দায়ী করা হয়েছে। কিন্তু পরে দেখা গেছে, আওয়ামীলীগ-বিএনপি যতটা জড়িত ছিল জামায়াত ততটা জড়িত ছিলনা।”

অনুষ্ঠানে আরেকজন প্যানেলিস্ট পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক মুহাম্মদ নুরুল হুদা বলেন সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

মি: হুদা বলেন , “প্রতিটি ঘটনার তদন্ত এবং অনুসন্ধান হওয়া দরকার। এটাকে (সংখ্যালঘুদের উপর হামলা) একটা জরুরি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে দেখতে হবে।”

তবে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার ব্যাপারে শুধু সরকার নয়, বরং সবগুলো রাজনৈতিক দলকেই আশ্বস্ত করতে হবে।

মি: হুদা বলেন সুষ্ঠু তদন্ত হলে রাজনৈতিক প্ররোচনার বিষয়টিও বেরিয়ে আসবে।

সম্পর্কিত বিষয়

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻