BBC navigation

বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলায় অ্যামনেস্টির উদ্বেগ

সর্বশেষ আপডেট বৃহষ্পতিবার, 7 মার্চ, 2013 16:19 GMT 22:19 বাংলাদেশ সময়
সাম্প্রদায়িক হামলার বিরুদ্ধে ঢাকায় মিছিল

সাম্প্রদায়িক হামলার বিরুদ্ধে ঢাকায় মিছিল

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার জন্য দেশটির সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশানাল।

জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মৃত্যুদন্ড দেবার পর থেকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় দলটির সমর্থকরা যে সহিংস বিক্ষোভ চালিয়েছে সে সময় দেশের বিভিন্ন জায়গায় হিন্দু সমপ্রদায়ের বাড়ি ও মন্দির আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

যে সব জায়গায় সংখ্যালঘুরা হিন্দু সম্প্রদায় বেশি আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে তার মধ্যে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, বাঁশখালি, নোয়াখলীর বেগমগঞ্জ, নাটোরের সিংড়া এবং দিনাজপুর এবং ফরিদপুর অন্যতম।

তেমনি একটি জায়গা নোয়াখালির বেগমগঞ্জের রাজগঞ্জ ইউনিয়ন । এই ইউনিয়নের আলাদিনগর গ্রামের সরস্বতী রানী দাস পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

তিনি জানান, ২৮শে ফেব্রুয়ারি দুপুরের দিকে আকস্মিভাবে একদল লোক এসে তাদের মন্দির ও বাড়িঘরে হামলা চালায়। এ সময় তারা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান বলে সরস্বতী রানী দাস উল্লেখ করেন।

গৌরনদী, বরিশালে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে মন্দির

গৌরনদী, বরিশালে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে মন্দির

তিনি বলেন, ''এবার আমরা শান্তি চাই। আমরা কেমনে শান্তিতে থাকুম সে ব্যবস্থা আপনারাই কইরবেন।

স্থানীয়ভাবে আক্রান্ত হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষজন প্রকাশ্যে বলতে চাইছে না কারা এই আক্রমনের সাথে জড়িত। তবে নাম প্রকাশ না করে তাদের অনেকেই এসব ঘটনার জন্য জামায়াত-শিবির সমর্থকদের দায়ী করছেন।

প্রত্যন্ত গ্রামের বাসিন্দারা প্রকাশ্যে কাউকে দোষারোপ না করলেও ঢাকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতারা এ জন্য মোটাদাগে অভিযোগ তুলছেন জামায়াতে ইসলামী এবং বিএনপির সমর্থকদের বিরুদ্ধে।

কয়েকটি ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িতরাও যুক্ত থাকার খবর আছে বলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতারা অভিযোগ করছেন।

বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্যপরিষদের নেতা সুব্রত চৌধুরী বলেন, অপরাধীদের খুঁজে বের করার দায়িত্ব এখন সরকারের।

মি: চৌধুরী বলেন, ''আমরা প্রশ্ন করতে চাই এ ধরনের হামলার ক্ষেত্রে কি সরকারের মদদ আছে? যেটা অতীতে ছিল। যদি তাদের মদদ না থাকে তাহলে তাদেরকেই প্রমান করতে হবে এই হামলার যারা করেছে – তারা জামায়াত হোক, দুষ্কৃতিকারী হোক- তাদের গ্রেফতার করে ব্যবস্থা নিতে হবে।''

হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একজনকে উদ্ধৃত করে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেষ্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, নোয়াখালির রাজগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীর হরতালে অংশগ্রহনকারীরা হামলায় অংশ নিয়েছে।

কিন্তু হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করছে কেন্দ্রীয় এবং বিভিন্ন স্থানের জামায়াতে ইসলামের নেতারা।

নোয়াখালী জামায়াতে ইসলামীর নেতা তাজুল ইসলাম এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে অন্য রাজনৈতিক দলকে দোষারোপ করেন।

নোয়াখালিতে পোড়া বাড়ির সামনে হতবাক মানুষ

নোয়াখালিতে পোড়া বাড়ির সামনে হতবাক মানুষ

মি: ইসলাম বলেন, ''এখানে রকম একটি ঘটনাও দেখাতে পারবেন যে জামায়াতে ইসলামীর লোক হিন্দুদের বাড়িঘর দখল করেছে বা তাদের উচ্ছেদ করেছে? কিন্তু এ ধরনের ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তারা অন্য দলের সমর্থক।''

তিনি বলেন, ''জামায়াতে ইসলামীর লোক যদি দায়ী হতো তাহলে তাদের সবাই চিনে। তাদের নাম তারা বলেতে পারতো। তারা সেটা কখনও বলেনি।''

দেশের বিভিন্ন জায়গায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি ও মন্দিরে হামলার পর অনেকেই নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।

তবে নোয়াখালির রাজগঞ্জের স্থানীয় একটি মসজিদের মুয়াজ্জিন নূরুল আলম ভূইঁয়া বলেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় তারা সতর্ক আছেন।

মি: ভূঁইয়া বলেন, ''এখানে হিন্দু-মুসলমান আমরা সবাই মিলে মিশে চলি। আমাদের মধ্যে কোন ভেজাল নাই। এরা কোত্থেকে এসে আক্রমনটা করল! আমরা সবাই দু:খিত।''

এদিকে ঢাকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সংগঠনের নেতারা বলছেন, এই পর্যন্ত দেশের ২০টি জেলায় প্রায় ১৫০০ বাড়িঘর এবং মন্দিরে হামলা হয়েছে।

আক্রান্তু অনেক জায়গায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানষ এখনও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন বলে নেতারা বলছেন।

একই ধরনের খবর

সম্পর্কিত বিষয়

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻