BBC navigation

শাহবাগের লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার

সর্বশেষ আপডেট বৃহষ্পতিবার, 21 ফেব্রুয়ারি, 2013 16:51 GMT 22:51 বাংলাদেশ সময়

শাহবাগে বিক্ষোভ

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার শাহবাগে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে টানা ১৭ দিন ধরে অবস্থান কর্মসূচী পালনের পর বৃহস্পতিবার রাত থেকে তা গুটিয়ে নেয়া হয়েছে।

লাগাতার এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজক অন্যান্যদের সাথে আলাপের পর এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন ব্লগার ইমরান এইচ সরকার।

বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, "এই আন্দোলনে অংশ নেয়া একশোটিরও বেশি সংগঠনের সবার সাথে আলাপ করেই তারা রাজপথ ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখন এই আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে গতকাল বিকেলের মহাসমাবেশ থেকে ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন আন্দোলনকারীরা"।

কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে শুক্রবার মসজিদ-মন্দিরসহ দেশের সকল উপাসনালয়ে ১৯৭১ এর শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করে প্রার্থনা, ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সমাবেশ, বিভাগীয় শহরগুলোতে ‘গণজাগরণ মঞ্চ’ গঠন ইত্যাদি।

bbc

শাহবাগের আন্দোলন

এদিকে শাহবাগ সহ রাজধানীর গুরুত্পুর্ণ বেশকিছূ এলাকায় নাশকতার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে গোয়েন্দাদের তরফ থেকে প্রশাসনকে সতর্কতা জানানো হয়েছে বলে কোনো কোনো সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশের কারণেই অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে কি-না জানতে চাইলে আন্দোলনের অন্যতম উদ্যোক্তা ব্লগার অ্যান্ড অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট নেটওয়ার্কের ইমরান এইচ সরকার জানান, টানা ১৭ দিন ধরে চলা এই কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের অনেকগুলো দাবির মধ্যে কিছূ কিছু এরই মধ্যে পূরণ হয়েছে বলে তারা মনে করেন।

তবে অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হলেও তাদের ঘোষিত ছয় দফা দাবি আদায়ে আন্দোলন চলবে এবং প্রয়োজনে আবার যদি রাজপথে নামতে হয় তা-ও তারা করবেন"।

এর আগে বৃহস্পতিবার ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা শহীদ দিবসেই শাহবাগ মোড়ে লক্ষাধিক মানুষের সমাবেশে জামায়াতে ইসলামী এবং তার সমর্থক সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের প্রক্রিয়া শুরু করতে সরকারকে ২৬শে মার্চ পর্যন্ত আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।

শাহবাগ আন্দোলনের সংগঠকদের মধ্যে একজন মারুফ রসুল বিবিসি বাংলাকে বলেন, সরকার তাদের দাবী না মানলে নির্ধারিত সময়ের পর তারা তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ ঘোষণা করবেন।

‘’আমাদের আকাঙ্ক্ষা যে সরকার এরই মধ্যে আমাদের আল্টিমেটামগুলো মেনে নেবে, যদি না মানে তাহলে ২৬শে মার্চ আমরা নূতন কর্মসূচীর দিকে অগ্রসর হবো’’, মারুফ রসুল বলেন।

শাহবাগের গণ জমায়েতে ১৯৭১ সালে গণহত্যা এবং অন্যান্য অপরাধের অভিযোগে বিচারাধীন ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবী পুনরায় করা হয়েছে।

ফেব্রুয়ারি ২১, অর্থাৎ ভাষা শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে শাহবাগের চলমান বিক্ষোভ এ ১৭ দিনে তৃতীয়বারের মত ‘মহাসমাবেশ’ ডাকা হয়।

শাহবাগের দাবী

যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে শাহবাগের চলমান সমাবেশ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

কর্মসূচীতে রয়েছে শুক্রবার মসজিদ-মন্দিরসহ দেশের সকল উপাসনালয়ে ১৯৭১ এর শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করে প্রার্থনা, ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সমাবেশ, বিভাগীয় শহরগুলোতে ‘গণজাগরণ মঞ্চ’ গঠন ইত্যাদি।

মারুফ রসুল বলেন যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি এবং জামায়াত নিষিদ্ধ করার আন্দোলন এখন শাহবাগ এবং ঢাকার বাইরে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

‘’পুরো বাংলাদেশ এর সাথে জড়িত, কেবলমাত্র ঢাকা শহরে আন্দোলনকে কেন্দ্রীভূত করে রাখলে তো এত বড় একটি বিষয়ের সুরাহা করা সম্ভব না’’, তিনি বলেন।

তিনি জানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেমন সঙ্গীতানুষ্ঠান, মঞ্চ-নাট্য ইত্যাদি এখন শাহবাগের চলমান কর্মসূচীর মূল অংশ হবে।

নতুন এই কর্মসূচী এসেছে এমন সময়ে, যখন বাংলাদেশের বিভিন্ন ইসলামপন্থী সংগঠন শাহবাগের চলমান আন্দোলনের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে।

গত কয়েকদিন ধরেই বিভিন্ন মাদ্রাসা-মসজিদে, ইন্টারনেটে এবং কয়েকটি পত্র-পত্রিকায় শাহবাগ আন্দোলনের আয়োজক ব্লগারদের ‘নাস্তিক’ এবং ‘ইসলাম-বিদ্বেষী’ আখ্যায়িত করা হয়েছে।

শাহবাগের এই আন্দোলন যা পরে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে তার শুরু গত ৫ই ফেব্রুয়ারি । ওইদিন একাত্তরের মানবতাবিরোধ অপরাধের বিচারের রায়ে জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন সাজা ঘোষণা করা হলে সেই রায় প্রত্যাখ্যান করে তার ফাঁসির দাবিতে কয়েক ঘণ্টা পর শাহবাগে মানববন্ধন করা হয়।

পরে ফেইসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সবাইকে যোগ দেয়ার আহ্বান জানানো হলে তাতে সাড়া দিয়ে বিভিণ্ন এলাকা থেকে তরুণরা এসে যোগ দেন এবং শিগগিরই কয়েকশ প্রতিবাদী মানুষের সমাবেশে পরিণত হয় শাহবাগ এলাকা।

সেখান থেকেই শুরু হয় এই অবস্থান কর্মসূচি যা চলে টানা সতেরো দিন ধরে। পরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এর সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন।

তবে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি টানা ১১ দিন আন্দোলন চলার পর প্রতিদিন সাত ঘণ্টা করে বিক্ষোভের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হলেও, ওইদিনই রাতে শাহবাগ আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত একজন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট খুন হওয়ার পর যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি ও জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধের দাবিতে আবারো দিন-রাত টানা ২৪ ঘণ্টা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়া হয় যা চলে ২১ শে ফেব্রুযারি পর্যন্ত।

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻