BBC navigation

অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেই কঠোর কর্মসূচি: জামাত

সর্বশেষ আপডেট বুধবার, 13 ফেব্রুয়ারি, 2013 15:57 GMT 21:57 বাংলাদেশ সময়
jamaat strike

বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবীতে রাজধানীর শাহবাগ চত্ত্বরে যখন টানা ন'দিন ধরে বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছে তখন ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের সাথে আজও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর নেতারা শাহবাগের ওই আন্দোলনকে সাময়িক আবেগ হিসেবে উল্লেখ করে বলছেন, তাদের দলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাই এখন সবচে বড়ো চ্যালেঞ্জ আর সেকারণেই তারা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

ঢাকার পল্টন,ফকিরাপুল এবং মতিঝিল এলাকায় আকস্মিক মিছিলের সাথে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষে ঐ এলাকাগুলো আজ পরিণত হয়েছিল রণক্ষেত্রে। জামায়াত এবং ছাত্রশিবিরের শীর্ষনেতাদের মুক্তির দাবিতে শ্লোগান দেয়া হয়েছে সেই মিছিল থেকে।

কিন্তু জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা শফিকুল ইসলাম মাসুদ দাবি করেছেন, বুধবারের এই কর্মসূচি জামায়াত বা ছাত্রশিবির পালন করেনি।

"শাহবাগে মানুষের একটা সাময়িক আবেগ কাজ করছে। এটা সৃষ্টি করা হয়েছে। এই আবেগ কেটে গেলে আবার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসবে বলে আমরা আশা করি"

হাফিজুর রহমান, রাজশাহী জামায়াতের নেতা

তার মতে 'ওলামা মাশায়েখ পরিষদের' ব্যানারে বিক্ষোভের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ হলে এসব সহিংস ঘটনা ঘটে।

জামায়াতে ইসলামীর একাধিক সূত্রের সাথে কথা বলে জানা গেছে, জামায়াত তাদের কৌশলে কিছুটা পরিবর্তন আনছে। দলটির বিরুদ্ধে সহিংসতা সৃষ্টির যে অভিযোগ উঠছে, তা এড়াতেই জামায়াত এখন 'ওলামা-মাশায়েখ পরিষদ' বা এরকম ভিন্ন কোন ব্যানারে কর্মসূচি নিয়ে এগুতে চাইছে।

এই ভিন্ন ব্যানারেই ৭২ ঘন্টার হরতাল কর্মসূচি নেওয়ার চিন্তাও জামায়াতের মধ্যে রয়েছে।

যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে শাহবাগে যে বিক্ষোভ চলছে, তার পাল্টা হিসেবেও জামায়াত ভিন্ন ব্যানারে মাঠে থাকতে চাইছে।

তবে জামায়াতের মাঠপর্যায়ের অনেকে নেতাই শাহবাগের বিক্ষোভকে সাময়িক আবেগ হিসেবে বিবেচনা করছেন।

রাজশাহী থেকে জামায়াতের একজন নেতা হাফিজুর রহমান বলেছেন, "এখন শাহবাগে মানুষের একটা সাময়িক আবেগ কাজ করছে। এটা সৃষ্টি করা হয়েছে। এই আবেগ কেটে গেলে আবার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসবে বলে আমরা আশা করি।"

"দলকে টিকিয়ে রাখতে এবং শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বাঁচাতে জামায়াত এখন সব শক্তি দিয়েই রাজপথে থাকতে চাইছে"

আমানুল্লাহ কবির, সিনিয়র সাংবাদিক

বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করেন, জামায়াতের কাছে এখন তাদের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি দলকে বাঁচানোটাও একটা জরুরি ইস্যূ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কারণ, জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবিও এখন নানা মহল থেকে সামনে উঠে আসছে।

সিনিয়র সাংবাদিক আমানউল্লাহ কবির বিবিসিকে বলেছেন, "দলকে টিকিয়ে রাখতে এবং শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বাঁচাতে জামায়াত এখন সব শক্তি দিয়েই রাজপথে থাকতে চাইছে"।

জামায়াত নেতা শফিকুল ইসলাম মাসুদও বলেছেন, এই প্রথম তারা দলীয় ইস্যূ নিয়ে হরতালসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে নেমেছেন। তাদের দলের অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্নে তারা শক্ত অবস্থানই তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটেও জামায়াত প্রভাবশালী দল হিসেবে রয়েছে। সেই জোটকেও জামায়াতের ইস্যুতে সক্রিয় অবস্থানে নেওয়ার চেষ্টা দলটির মধ্যে রয়েছে।

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻