BBC navigation

শাহবাগের বিক্ষোভ আরো বড় আকার নিচ্ছে

সর্বশেষ আপডেট বৃহষ্পতিবার, 7 ফেব্রুয়ারি, 2013 09:51 GMT 15:51 বাংলাদেশ সময়
shahbagh_protest

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধের জন্য জামায়াতে ইসলামীর নেতা আবদুল কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদন্ডের প্রতিবাদ এবং মৃত্যুদন্ডের দাবিতে ঢাকার শাহবাগে মঙ্গলবার শুরু শুরু হওয়া বিক্ষোভ আরো বড় আকার নিয়েছে এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে।

যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে অনলাইনকর্মী এবং ব্লগারদের শুরু করা এই আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্র শাহবাগে বিক্ষোভকারীদের অবস্থান ও বিক্ষোভ আজ তৃতীয় দিনের মতো অব্যাহত রয়েছে।

আজ তৃতীয় দিনে সেখানে জনসমাগম ক্রমশই বেড়ে চলেছে, এবং সমাবেশ বৃহস্পতিবারের লোকসমাগম গত দুদিনের চাইতে কয়েকগুণ বেশি ছিল।

আন্দোলনে এসে সংহতি প্রকাশ করেছেন নানা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার শিক্ষার্থী, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মী, আর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও।

Shahbagh

তবে মাহবুবুল আলম হানিফ, সাহারা খাতুনসহ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা সমাবেশে এলেও বিক্ষোভকারীদের প্রতিবাদের মুখে তারা চলে যেতে বাধ্য হন।

মি. হানিফ মঞ্চে উঠলে তার দিকে প্লাস্টিকের বোতলও ছুঁড়ে মারা হয়, এবং তিনি বক্তৃতা না দিয়েই নেমে যান।

এদিকে এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে ঢাকার বাইরেও। রাজশাহী, সিলেট, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন জেলায় একই দাবিতে অনেকেই শহীদ মিনার ও বিভিন্ন মঞ্চে অবস্থান নিয়েছেন।

আন্দোলনকারীরা দাবি জানাচ্ছেন, আবদুর কাদের মোল্লা-সহ সব যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি ছাড়া অন্য কোনও শাস্তিই তারা মানবেন না।

"যুদ্ধারপাধের বিচার একটা আইনী প্রক্রিয়া - কিন্তু এটা যেন কেউ প্রভাবিত না করতে পারে তাই এই অবস্থানের উদ্দেশ্য।"

রাকিব আহমেদ, শাহবাগের বিক্ষোভে যোগ দেয়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক

যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তির প্রশ্নে কোনও আপস-রফার চেষ্টা হলে আন্দোলন আরও তীব্র হবে - সমাবেশ থেকে এই হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার ঢাকায় আন্দোলনকারীদের মহাসমাবেশ করার কথা রয়েছে। তারা ঘোষণা করেছেন যে শুক্রবারের সমাবেশে কোন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকবে না।

শাহবাগের সমাবেশের আয়োজকদের একজন ইমরান এইচ সরকার বলছেন, আগামিকাল শুক্রবার তারা এক মহাসমাবেশ আহ্বান করেছেন এবং এখান থেকে 'বৃহৎ কর্মসুচি' ঘোষণা করা হবে।

তিনি বলেন, "ওই মহাসমাবেশ থেকে এ আন্দোলনের আঙ্গিকে পরিবর্তন আনা হতে পারে।" কিন্তু তা কি ধরণের পরিবর্তন তা ইমরান সরকার বলেন নি।

সমাবেশে আগত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষক রাকিব আহমেদ বলছিলেন, "যুদ্ধাপরাধের বিচারের সময় জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী ছাত্রশিবির যেভাবে পুলিশের ওপর হামলা ও সহিংসতার মাধ্যমে বিচার ও রায়ের ওপর প্রভাব সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছে - তার বিপরীত অবস্থান থেকেই এ প্ল্যাটফর্ম।"

রাকিব আহমেদ বলেন, "যুদ্ধারপাধের বিচার একটা আইনী প্রক্রিয়া - কিন্তু এটা যেন কেউ প্রভাবিত না করতে পারে তাই এই অবস্থানের উদ্দেশ্য।"

শাহবাগের অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দিচ্ছে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনও। গত মঙ্গলবার যখন প্রথম এই অবস্থান শুরু হয় তখন ঢাকায় যুদ্ধাপরাধের বিচার বন্ধ করার দাবিতে জামায়াতে ইসলামীর ডাকা হরতাল চলছিল, কিন্তু তার মধ্যেই শাহবাগের বিক্ষোভ কাল সন্ধ্যা নাগাদ জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

এখানে আগতদের একজন ডাক্তার এম এ সাইদ বিবিসিকে বলছিলেন, "আগে আমার মধ্যে একটা হতাশা ছিল যে বর্তমান প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের ব্যাপারে অত সচেতন নয়। কিন্তু এখানে তিন দিন ধরে এই কর্মসূচি দেখার পর আমার সেই ধারণা ভেঙে গেছে।"

ডাক্তার সাইদ বলেন, "আমি এখন অনুপ্রাণিত বোধ করছি যে আমরা যাদের হাতে দেশকে রেখে যাবো তারা এর দেখাশোনা করার উপযুক্ত।"

দুদিনের হরতালের পর আজ ঢাকায় স্বাভাবিক যান চলাচল শুরু হলেও শাহবাগ এলাকা প্রধান সড়কগুলোর বড় অংশেই এই অবস্থান কর্মসূচির জন্য যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। পুলিশ বিকল্প পথে যান চলাচলের তদারকি করছে।

এছাড়া পুরো এলাকাতেই র‍্যাব ও পুলিশের ব্যাপক পাহারা রয়েছে।

সম্পর্কিত বিষয়

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻