BBC navigation

বিচারের রায়ে সন্তুষ্ট নয় কোন পক্ষই

সর্বশেষ আপডেট মঙ্গলবার, 5 ফেব্রুয়ারি, 2013 15:23 GMT 21:23 বাংলাদেশ সময়

রায় ঘোষণার আগে থেকেই ঢাকা জুড়ে উত্তেজনা। জামায়াতে ইসলামীর কোন গুরুত্বপূর্ণ নেতার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রথম রায়। নগরীর পথে পথে পুলিশের সতর্ক পাহারা।

বাংলাদেশে অনেকের কাছে এটি এক বহু প্রতীক্ষিত মূহুর্ত। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে যারা সোচ্চার- এমন একটা দিনের জন্য তাঁরা আন্দোলন করেছেন বহু বছর।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের প্রতি সহানুভুতিশীল বিভিন্ন গোষ্ঠী, যারা এই বিচারকে দেখছেন একটি প্রহসন হিসেবে, তাঁরাও আশংকায় আছেন- কি হয় বিচারের রায়।

শেষ পর্যন্ত জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে যে রায় ঘোষণা করা হলো, তাতে উভয় পক্ষই ক্ষুব্ধ।

যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, ১৯৭১ সালে আবদুল কাদের মোল্লা যে অপরাধ করেছেন- তাতে তাঁর সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিৎ ছিল মৃত্যুদণ্ড।

"কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে কবি মেহেরুননিসার পক্ষে ট্রাইবুনালে সাক্ষী দেয়ার সময় বলেছিলাম আমি কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবী নিয়ে এসেছি। ফাঁসি না হওয়াতে আশাহত হয়েছি"

কবি কাজী রোজী, মামলার সাক্ষী

অন্যদিকে জামায়াত নেতার আইনজীবিরা জানিয়েছেন, তারা মনে করেন ন্যায় বিচার থেকে তাঁরা বঞ্চিত হয়েছেন।

‘মৃত্যুদণ্ডই উপযুক্ত শাস্তি’

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত আবদুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের চতুর্থ সাক্ষী ছিলেন কবি কাজী রোজী।

তিনি শহীদ বুদ্ধিজীবী কবি মেহেরুননিসার হত্যার জবানবন্দি দেন। কবি মেহেরুননিসা, তাঁর মা ও দুই ভাইকে নির্মমভাবে হত্যার কাহিনী ঘটনার দু'দিন পর স্থানীয়দের কাছ থেকে শুনেছিলেন কবি রোজী।

কাজী রোজী কবি মেহেরুননিসার খুব কাছের মানুষ ছিলেন। কাদের মোল্লার বিচারের রায়ের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করলেও রায় প্রকাশের পর তিনি তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, প্রত্যাশা অনুযায়ী রায় হয়নি।

রায়ে সন্তুষ্ট নয় বাদী পক্ষও

“বাচ্চু রাজাকারকে তাঁর অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে কবি মেহেরুননিসার পক্ষে ট্রাইবুনালে সাক্ষী দেয়ার সময় বলেছিলাম আমি কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবী নিয়ে এসেছি। ফাঁসি না হওয়াতে আশাহত হয়েছি।”

তবে তিনি আশাহত হলেও আপীলের সুযোগ গ্রহণ করতে সরকার পক্ষকে আহ্বান জানান।

কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর একটি ছিলো সাংবাদিক খন্দকার আবু তালেবের হত্যার সাথেও জড়িত ছিলেন তিনি।

শহীদ সাংবাদিক খন্দকার আবু তালেবের ছেলে খন্দকার আবুল আহসানও রায় নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। মিঃ আহসান মনে করেন মুক্তিযুদ্ধে হত্যাযজ্ঞের সাথে যারা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত।

মিঃ আহসান আরো বলেন, আন্তর্জাতিক আদালতের প্রতি তাঁর আস্থা আছে। কাদের মোল্লার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপীল করা হলে সেটি আদালত বিবেচনায় আনবে বলেও মনে করেন তিনি।

একাত্তর সালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের রায়ের জন্য যেসব সংগঠন সোচ্চার সেগুলোর অন্যতম মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টিবোর্ডের সদস্য ডঃ সারোয়ার আলী রায় নিয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন সর্বোচ্চ শাস্তি না হলেও লঘু দণ্ড হয়নি।

ডঃ সারোয়ার আলী মনে করেন, ট্রাইব্যুনাল স্বাধীনভাবেই কাজ করছে । এই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপীল করলে সুপ্রীম কোর্ট তা বিবেচনায় আনবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন মিঃ আলী।

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻