BBC navigation

সেনাবাহিনীতে অপপ্রচারের ব্যাপারে সাবধান করে দিয়েছেন শেখ হাসিনা

সর্বশেষ আপডেট রবিবার, 3 ফেব্রুয়ারি, 2013 15:44 GMT 21:44 বাংলাদেশ সময়

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অপপ্রচারে প্রভাবিত না হওয়ার জন্য সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

রোববার ঢাকা সেনানিবাসে জেনারেলদের এক সম্মেলনে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, জুনিয়র অফিসাররা যেন বিভ্রান্তি সৃষ্টির প্রোপাগান্ডার শিকার না হন সেদিকে যেন তারা নজর রাখেন।

প্রধানমন্ত্রী দেশের গণতন্ত্র বিরোধী যেকোনো শক্তিকে প্রতিহত করতে ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।

কোনো মহল যাতে সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করতে না পারে সে বিষয়েও সতর্ক হওয়ার কথা বলেন শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসস এবং আন্ত-বাহিনী জন-সংযোগ পরিদপ্তর বা আইএসপিআর-এর বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সেনা সদর দপ্তরের অফিসার্স মেসে ওই সভায় সেনাবাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক ত্যাগ ও সংগ্রামের বিনিময়ে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’

"অনেক সময় কুচক্রী মহল হীন স্বার্থে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করে। অধস্তনরা যাতে এ ধরনের বিরূপ প্রোপাগান্ডার শিকার না হন, সেদিকে আপনাদের লক্ষ্য রাখতে হবে "

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

তিনি আশা করেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা সংবিধান ও গণতন্ত্রবিরোধী যেকোনো কর্মকাণ্ড সকল শক্তি দিয়ে প্রতিহত করবেন।

অন্য কোনো মহল যাতে সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করতে না পারে সে বিষয়েও প্রধানমন্ত্রী সতর্ক হওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, সেনাবাহিনীর পিঠে চড়ে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল যাতে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে না পারে, সেদিকে সর্বোচ্চ নজর রাখতে হবে।

‘অনেক সময় কুচক্রী মহল হীন স্বার্থে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করে’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অধস্তনরা যাতে এ ধরনের বিরূপ প্রোপাগান্ডার শিকার না হন, সেদিকে আপনাদের লক্ষ্য রাখতে হবে।’

উল্লেখযোগ্য যে, গত বছরের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশে সরকার উৎখাতে কিছু সেনা কর্মকর্তার অভ্যুত্থানের একটি প্রচেষ্টা নস্যাৎ করা হয়েছে বলে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল এবং সেখানে বাহিনীর কয়েকজন মধ্যম সারির কর্মকর্তা সরকার উৎখাতের ওই চেষ্টা করেছিল বলে জানানো হয়।

সেই ঘটনার এক বছর পর প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এ ধরনের বক্তব্য এলো।

তিনি যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রসঙ্গও তোলেন এবং বলেন, এই প্রক্রিয়া মোটেই সহজ ছিল না এবং বিচারে বাধাদান ও বিচার বন্ধে প্রতিনিয়ত বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টাসহ রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র চলছে।

এজন্য তিনি সকলকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

পেশাদারিত্বের জন্য সেনাবাহিনী আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুনাম কুড়িয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা এই বাহিনীর উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন ।

রাশিয়ার সাথে সদ্য সমাপ্ত ঋণচুক্তির আওতায় এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমরাস্ত্র ক্রয়ের চুক্তির কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

বেশ দীর্ঘ ওই বক্তৃতায় ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬শে ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রচলিত আইনে হওয়ায় সেনাবাহিনীর প্রতি ন্যায়পরায়ণতার প্রশ্নে জনগণের আস্থা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।‘

তিনি বলেন, সেনাবাহিনী সেদিন কোনরকম হঠকারিতার পথে না গিয়ে বিরল ধৈর্য্যর পরিচয় দিয়েছিল। এতে নিয়মানুবর্তী বাহিনী হিসাবে দেশ-বিদেশে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রশ্নাতীত নির্ভরযোগ্যতা প্রতিপন্ন হয়েছে।

পাশাপাশি গণতান্ত্রিক দেশ হিসাবে বাংলাদেশের অবস্থানও সুসংহত হয়েছে।

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻