BBC navigation

পদ্মা সেতুতে বিশ্ব ব্যাংকের ঋণ চায় না বাংলাদেশ

সর্বশেষ আপডেট শুক্রবার, 1 ফেব্রুয়ারি, 2013 14:29 GMT 20:29 বাংলাদেশ সময়

বাংলাদেশ সরকার পদ্মা সেতু প্রকল্পের জন্য বিশ্ব ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ সহায়তার অনুরোধ প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের কর্মকর্তা মেহরিন মাহবুব বিবিসি বাংলাকে জানান, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এই মর্মে তাদের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়।

উল্লেখ্য পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে বিশ্ব ব্যাংক তাদের ঋণ সহায়তা আগেই স্থগিত করেছিল। গত প্রায় এক বছর ধরে এই দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্ব ব্যাংকের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে।

পদ্মা সেতু বাংলাদেশের ইতিহাসে এ যাবতকালের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো প্রকল্প। ছয় দশমিক দুই কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতু নির্মাণে প্রায় তিনশো কোটি ডলার খরচ হওয়ার কথা। এর মধ্যে ১২০ কোটি ডলারই বিশ্ব ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ হিসেবে পাওয়ার কথা ছিল।

বিশ্ব ব্যাংক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশ সরকার এই প্রকল্পে ঋণ সহায়তার অনুরোধ প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

তবে পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত অব্যাহত থাকবে বলে বাংলাদেশ সরকারের চিঠিতে নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে।

"আমাদের সময়সীমার সাথে বিশ্ব ব্যাংকের সময়সীমা মিলছিল না। সেজন্য বাংলাদেশ সরকার আর দেরী করতে আগ্রহী না"

মশিউর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

বিবৃতিতে বিশ্ব ব্যাংক বলেছে, তারা আশা করে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন এই অভিযোগের একটা পূর্ণাঙ্গ এবং নিরপেক্ষ তদন্ত করবে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা মশিউর রহমান বিবিসি বাংলাকে জানান, "দূর্নীতি দমন কমিশনের মামলার পর আমরা ভেবেছিলাম বিশ্ব ব্যাংক অর্থ ছাড় করবে। কিন্তু বিশ্ব ব্যাংক বলেছে আরও তদন্ত লাগবে এবং তারা আরও পরীক্ষা নিরীক্ষা করবে। কিন্তু আমাদের সময়সীমার সাথে বিশ্ব ব্যাংকের সময়সীমা মিলছিল না। সেজন্য বাংলাদেশ সরকার আর দেরী করতে আগ্রহী না। তাই বিকল্পভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং বিশ্বব্যাংক কর্তৃপক্ষকে এটা জানিয়ে দিয়েছে।"

বিব্রত সরকার

দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে

বিশ্ব ব্যাংক যখন দুর্নীতির অভিযোগে পদ্মা সেতু প্রকল্পে ঋণ সহায়তা স্থগিত করে, সেটি ছিল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের জন্য এক বিরাট ধাক্কা।

২০০৮ সালের নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল পদ্মা নদীর ওপর এই সেতু নির্মাণ করা।

বাংলাদেশের নদী ও সমূদ্র বেষ্টিত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলাগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য এই সেতুকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।

বিশ্ব ব্যাংক অভিযোগ করেছিল যে পদ্মা সেতু প্রকল্পে এক দুর্নীতির ষড়যন্ত্রে বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপদস্থ কয়েকজন কর্মকর্তা, কিছু ব্যক্তি এবং কানাডার একটি প্রতিষ্ঠান এসএনসি লাভালিনের যোগসাজশের বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ তাদের কাছে আছে। এই অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত এবং সন্দেহভাজনদের সরকারি দায়িত্ব থেকে সরিয়ে না দেয়া পর্যন্ত তারা পদ্মা সেতু প্রকল্পে ঋণ সহায়তা স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয় গত বছর।

বিশ্ব ব্যাংকের এসব শর্ত মানতে সরকার শুরুতে অস্বীকৃতি জানালেও পরে স্বাধীন তদন্ত এবং কয়েকজন কর্মকর্তাকে সরিয়ে দিতে রাজী হয়। যোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে সেসময়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে সরিয়ে দেয়া হয়। কয়েকজন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞকে নিয়ে গঠিত একটি তদন্ত প্যানেল কয়েক দফা বাংলাদেশে যান এই দুর্নীতির তদন্তের ব্যাপারে খোঁজ খবর নিতে।

কিন্তু বিশ্ব ব্যাংকের প্যানেল দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তের ব্যাপারে সন্তুষ্ট হতে পারেনি। ফলে আবারও প্রকল্পে বিশ্ব ব্যাংকের ঋণ সহায়তা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত মাসে রাশিয়া সফর শেষে দেশে ফিরে জানান, বিশ্ব ব্যাংকের কাছ থেকে জানুয়ারির মধ্যে সাড়া না পেলে তারা এই প্রকল্পের জন্য বিকল্প পথ খুঁজবেন।

এরপর গতকালই বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে ঋণ সহায়তার অনুরোধ প্রত্যাহার করে বিশ্ব ব্যাংকের কাছে চিঠি দেয়া হয়।

সম্পর্কিত বিষয়

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻