BBC navigation

বিশ্ব উৎপাদিত খাদ্যের অর্ধেকই অপচয় হচ্ছে

সর্বশেষ আপডেট বৃহষ্পতিবার, 10 জানুয়ারি, 2013 15:16 GMT 21:16 বাংলাদেশ সময়
দরিদ্র দেশে অপচয়ের মূল কারণ মাঠ থেকে খাদ্যশস্য তোলা ও মজুদ পদ্ধতি।

দরিদ্র দেশে অপচয়ের মূল কারণ মাঠ থেকে খাদ্যশস্য তোলা ও মজুদ পদ্ধতি।

বিশ্বে প্রতি বছর যত খাদ্য উৎপাদন হচ্ছে, তার অন্তত তিরিশ থেকে পঞ্চাশ শতাংশ অপচয় হচ্ছে। নষ্ট হওয়া এই খাদ্যের পরিমান প্রায় ২০০ কোটি টন।

বৃহস্পতিবার ব্রিটেনে প্রকাশিত এক সমীক্ষা রিপোর্টে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

রিপোর্টে বলা হয়, আমেরিকা এবং ইউরোপের ধনী দেশগুলোতেই খাদ্য অপচয়ের মাত্রা সবচেয়ে বেশি। এসব দেশে মানুষ যে খাদ্য কেনেন, তার অর্ধেকই তারা না খেয়ে ফেলে দেন।

তবে উন্নয়নশীল এবং দরিদ্র দেশগুলোও খাদ্য অপচয়ে পিছিয়ে নেই, সেখানে অপচয়ের মূল কারণ মাঠ থেকে খাদ্যশস্য তোলা, প্রক্রিয়াকরণ এবং মওজুদের প্রাচীন পদ্ধতি।

ইনষ্টিটিউশন অব মেকানিক্যাল ইঞ্জিনীয়ার্সের গবেষণায় বলা হচ্ছে, অপচয়ের কারণ বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রকম। যেমন, যুক্তরাজ্যে বছরে যে পরিমাণ শাক-সব্জি উৎপাদন হয়, তার ৩০% কেবল তাদের আকার-আকৃতির কারণে মাঠ থেকেই তোলা হয় না, কারণ সুপারমার্কেটে ক্রেতারা এই শাকসব্জির চেহারা দেখেই কিনতে চাইবে না।

ইউরোপ-আমেরিকার দেশগুলোতে ক্রেতারা বছরে যত খাবার কেনেন, তার অর্ধেকই তারা ফেলে দেন।

কারণ এসব দেশে খাবারের প্যাকেটের গায়ে কত তারিখের মধ্যে খাবারটি বিক্রি করতে হবে বা খেতে হবে, তা লেখা থাকে, এবং সেই নিয়ম মানতে গিয়েই এই অপচয়।

ধনী দেশে ভোক্তা পর্যায়ের শেষ ধাপেই অপচয়ট বেশি।

ধনী দেশে ভোক্তা পর্যায়েই অপচয় বেশি।

গবেষক দলের প্রধান, ইনষ্টিটিউশন অব মেক্যানিক্যাল ইঞ্জিনীয়ার্সের ডঃ টিম ফক্স বলেন শিল্পোন্নত ধনী দেশগুলো, যাদের অর্থনীতি অনেক বেশি সুসংগঠিত, সেখানে ভোক্তা পর্যায়ে এবং বাজারজাতকরণের শেষ ধাপেই অপচয়টা বেশি।

ফলে মাঠ থেকে যে খাদ্য বাজারে এসে পৌঁছাচ্ছে, তার ৩০% থেকে ৫০% কিন্তু আর খাবার টেবিল পর্যন্ত যাচ্ছে না।

কিন্তু অন্যদিকে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অপচয়টা হচ্ছে অপরপ্রান্তে, ফসলের ক্ষেত থেকে খাদ্যসামগ্রী বাজারে এসে পৌঁছানোর মধ্যবর্তী পর্যায়ে।

ডঃ টিম ফক্স জানান উন্নয়নশীল দেশে কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার কম, ফলে মাঠ থেকে ফসল তোলা, প্রক্রিয়াকরণ এবং মওজুদ, তারপর সেগুলো বাজারে পরিবহন-এর প্রত্যেকটি পর্যায়েই অপচয় হচ্ছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে কেবল ভারতেই বছরে দুই কোটি টনের বেশ গম নষ্ট হয় ঠিকমত গুদামজাত না করার কারণে বা অদক্ষ বিতরণ ব্যবস্থার কারণে।

জাতিসংঘের হিসেব অনুযায়ী ২০৭৫ সাল নাগাদ বিশ্বের জনসংখ্যা দাঁড়াবে ৯৫০ কোটি।

এই বিপুল জনসংখ্যার চাহিদা মেটানোর জন্য ভবিষ্যতে আরও খাদ্যের দরকার হবে। এ অবস্থায় খাদ্যের এই বিপুল অপচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন গবেষকরা ।

ড: টিম ফক্সের ভাষায়, যেখানে বিশ্বে প্রতিদিন ১০০ কোটি মানুষ ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে যান, সেখানে এই অপচয় মেনে নেয়া যায় না।

শুধুমাত্র অপচয় বন্ধ করেই এই সমস্যার সমাধান করা যেত বলে তিনি মনে করেন।

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻