BBC navigation

প্দ্মাসেতু: তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে বিশ্বব্যাংক-দুদক মতপার্থক্য

সর্বশেষ আপডেট বুধবার, 5 ডিসেম্বর, 2012 13:04 GMT 19:04 বাংলাদেশ সময়
padma bridge

বাংলাদেশে পদ্মা সেতু প্রকল্পে কথিত দূর্নীতির ষড়যন্ত্রে কে বা কারা অভিযুক্ত হবেন, তা নিয়ে সে দেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের সাথে শেষ পর্যন্ত ঐক্যমত্যে পৌঁছাতে পারেনি বিশ্বব্যাংকের একটি তদন্ত দল।

লুইস মোরেনো ওকাম্পোর নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধিদলটি আজ বাংলাদেশে তাদের দ্বিতীয় সফরটি শেষ করেছে বিষয়টি অমীমাংসিত রেখেই।

পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়ে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত করে যে দুদক যে রিপোর্ট তৈরি করেছে তা নিয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা সফররত প্রতিনিধিদলটির সাথে দুর্নীতি দমন কমিশনের মতৈক্য যে হয় নি - কাল থেকেই তার সুস্পষ্ট আভাস পাওয়া যায়।

বিশ্বব্যাংক শর্ত দিয়েছিল যে পদ্মা সেতু প্রকল্পে তাদের ঋণ পেতে হলে বাংলাদেশকে দুর্নীতির জন্য অভিযুক্ত সবাইকে আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে।

দুদকের অনুসন্ধান কমিটি ওই রিপোর্টে 'দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের প্রমাণ পাওয়া গেছে' বলে উল্লেখ করে জনাকয়েকের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ করে। তবে সেই নামগুলো এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

খবর পাওয়া যাচ্ছে যে 'কারা এই অভিযুক্ত' অর্থাৎ এই তালিকায় কার কার নাম থাকবে তা নিয়েই বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদলের সাথে কমিশনের মতপার্থক্য হয়।

ঢাকায় বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেকটর এলেন গোল্ডস্টেইন মঙ্গলবার বলেছিলেন যে বুধবার এ প্রশ্নে বিশ্বব্যাংকের সবশেষ অবস্থান এবং তাদের সিদ্ধান্তের কথা জানাবেন তিনি।

আজ বিকেলে বিদেশী তদন্ত দলকে নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের সাথে প্রায় ৪০ মিনিট বৈঠকের পর মিজ এলেন সাংবাদিকদের বলেন, তাদের মধ্যে কিচু অমীমাংসিত বিষয় এখনো রয়ে গেছে এবং পরে তারা দুদকের সাথে আরেকদফা বৈঠকে বসতে পারেন।

এর পর তারা সবাই অর্থমন্ত্রী এ এম এ মুহিতের বাসভবনে যান, এবং সেখানে তাদের মধ্যে একটি অনির্ধারিত বৈঠক হয় প্রায় দু ঘন্টা ধরে। এতে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিষয়ক একজন বর্তমান ও আরেকজন সাবেক সচিব।

এ বৈঠকের ব্যাপারে কোন পক্ষই সাংবাদিকদের কাছে মুখ খোলেন নি। তবে দুর্নীতি দমন কমিশনে ফিরে গিয়ে সাংবাদিকদের সামনে এক লাইনের একটি মন্তব্য করেন প্রতিনিধিদলের নেতা লু্‌ইস মোরেনো ওকাম্পো। তিনি খোলামেলা আলোচনার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ দেন এবং জানান যে তারা এখন ফিরে যাচ্ছেন।

এর পর 'আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে কিনা' এ প্রশ্ন করা হয় দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান গোলাম রহমানকে। তিনি বলেন, আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে এটা বলা যাবে না।

তিনি বলেন, 'পুরো বিষয়টাকে নতুন করে পর্যালোচনা করতে হবে। প্যানেল কিছু বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে, আমরা আমাদের ব্যাখ্যা দিয়েছি। ওদের কোন সুপারিশ নেই। '

তিনি আরো বলেন, 'সিদ্ধান্ত যা নেবার তা বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী দুর্নীতি দমন কমিশনই নেবে, একথা সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই। '

padma bridge

পদ্মা সেতু নিয়ে চুক্তি স্বাক্ষরের ছবি

বিশ্বব্যাংকের তিন সদস্যের এই প্রতিনিধিদলটি আজ সেই 'মতপার্থক্য দূর করার লক্ষ্যে' দুর্নীতি দমন কমিশন এবং অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সাথে কয়েক দফা বৈঠক করছেন।

দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তের পর দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদকে যে রিপোর্ট জমা পড়েছে, তার ভিত্তিতে কারও বিরুদ্ধে মামলা করা হবে কি না - কমিশন আজকালের মধ্যেই সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কমিশনের প্রধান গোলাম রহমান গতকালই সাংবাদিকদের বলেন, এই প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্র হয়েছিল বলে অনুসন্ধান কমিটি তথ্য প্রমাণ পেয়েছে। অনুসন্ধান কমিটি যে রিপোর্ট তৈরি করেছে তাতে পরামর্শক নিয়োগের প্রক্রিয়া প্রভাবিত করার লক্ষ্যে ঘুষ লেনদেনের ষড়যন্ত্র হয়েছিল, তবে কোন অর্থ হাতবদল হয় নি।

এ ব্যাপারে জড়িত থাকার সন্দেহে বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ করা হয়েছে ওই রিপোর্টে, বলেন মি. রহমান।

ঢাকায় সফররত বিশ্বব্যাংকের বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সাথে বৈঠকে দুর্নীতি দমন কমিশন তাদের অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য তুলে ধরেছে।

তবে কার কার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হবে তা নিয়ে বিশ্বব্যাংক ও কমিশনের মধ্যে মতানৈক্য রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আজকের আলোচনায় তা নিরসনের একটা চেষ্টা চলছে বলে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।

তবে দুদকের কর্মকর্তারা বলেছেন, অনুসন্ধান কমিটির এই খসড়া প্রতিবেদন মূল্যায়নের কাজ এখনও শেষ হয়নি। আরও পর্যালোচনা বা মূল্যায়নের পরই প্রতিবেদনটি চূড়ান্ত করা হবে।

দুদকের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান জানিয়েছেন, খসড়া প্রতিবেদনে পাওয়া তথ্যগুলো ঢাকায় সফররত বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সাথে বৈঠকে তুলে ধরার পর তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে এবং বিশ্বব্যাংকও তাদের কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধান কমিটির খসড়া প্রতিবেদনে যাদের বিরুদ্ধে মামলা করার সুপারিশ করা হয়েছে তাদের মধ্যে রাজনীতিক, সাবেক সরকারি কর্মকর্তা এবং একটি কানাডীয় কোম্পানীর কয়েকজন কর্মকর্তা রয়েছেন বলে জানা গেছে।

দুর্নীতির অভিযোগ এনে গত বছর সেপ্টেম্বরে বিশ্বব্যাংক পদ্মাসেতু প্রকল্পে ১২০ কোটি টাকার ঋণচুক্তি বাতিল করে।

ইতিমধ্যে এই দুর্নীতির তদন্তকাজ তদারকি করার জন্য বিশ্ব ব্যাঙ্কের যে প্যানেল গঠিত হয়েছে, তার সদস্যদের সঙ্গেও ঢাকায় দুর্নীতি দমন কমিশন আজ বৈঠকে বসছে।

একই ধরনের খবর

সম্পর্কিত বিষয়

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻