BBC navigation

বাংলাদেশে ফিরেছেন 'পাচার হওয়া' ১৪জন তরুণী

সর্বশেষ আপডেট শনিবার, 1 ডিসেম্বর, 2012 18:14 GMT 00:14 বাংলাদেশ সময়
woman

চাকরির লোভ দেখিয়ে নারী পাচার হরহামেশাই ঘটছে

বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাচার করা হয়েছিল বলে অভিযো, এমন ১৪ জন তরুণী দীর্ঘদিন সেখানে নিরাপত্তা হেফাজতে বন্দী থাকার পর আজ (শুক্রবার) বাংলাদেশে ফিরে এসেছেন।

বাংলাদেশের একটি মানবাধিকার সংস্থা বলছে, বিভিন্ন কাজের প্রলোভন দেখিয়ে এদের ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, কিন্তু পাচারকারীরা পরে তাদের যৌনবৃত্তিতে বাধ্য করে।

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আজ বেনাপোল সীমান্ত পথে এদের বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেন।

প্রতিবছরই অনেক নারীকে বাংলাদেশ থেকে ভারতে কাজের কথা বলে অবৈধভাবে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশের দুটি বেসরকারি সংগঠনের উদ্যোগে তেমন ১৪ জন নারীকে ফিরিয়ে আনার পর তাদের অনেকেই বলছেন ভারতে থাকাকালীন সময়ে তাদের দুঃসহ জীবনের স্মৃতির কথা।

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফ বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবির কর্মকর্তাদের কাছে তাদের হস্তান্তর করার পর এখন তারা বাংলাদেশ উইমেন ল-ইয়ার্স এসোসিয়েশন বা বি-এন-ডব্লিউ-এল-এ এবং রাইটস যশোর নামে সংগঠন দুটির শেল্টার হোমে রয়েছেন।

"এদের কেউ স্বামী পরিত্যক্তা, কিংবা কারো স্বামীই হয়তো ভারতে তাদের বিক্রি করে এসেছিল। ওখানে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে এবং সেখানকার সেফ হোমে রাখে।"

এবিএম মুহিত হোসেন, বিএনডাব্লিউএলএ

বি-এন-ডব্লিউ-এল-এ-র যশোরের একজন কর্মকর্তা এবিএম মুহিত হোসেন বিবিসি বাংলাকে বলেছেন দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে তারা স্বদেশে ফেরত এসেছেন।

তিনি বলেন ভারতীয় একটি সংস্থা সংলাপ থেকে তাদের চিঠি দিয়ে জানানো হয় ১৪ জন তরুণীকে প্রত্যাবাসন করা হবে। এরপর বিজিবি, বিএসএফ এবং সংস্থার পক্ষ থেকে তাদের গ্রহণ করে দুটি সেফ হোমে পাঠানো হয়েছে।

''এদের কেউ স্বামী পরিত্যক্তা, কিংবা কারো স্বামীই হয়তো ভারতে তাদের বিক্রি করে এসেছিল। ওখানে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে এবং সেখানকার সেফ হোমে রাখে।''

যশোরে বি-এন-ডব্লিউ-এল-এ র শেল্টার হোম থেকে টেলিফোনে কথা হয় তাদেরই একজন নাজমা বেগমের সাথে।

মূলত দরিদ্র পরিবারে অসুস্থ বাবার চিকিৎসার জন্য তার টাকার প্রয়োজন ছিল এবং সে কারণেই তিনি বেশি বেতনের কাজের আশায় সেখানে গিয়েছিলেন বলে জানান।

"বাসায় কাজ করলে মাসে পাঁচ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বললে আমি রাজি হয়েছিলাম। পরে আমাকে খারাপ জায়গায় নিয়ে বিক্রি করা হয়।"

নাজমা বেগম, পাচার হওয়া নারী

''জোর করেও নেয়নি কেউ আমাকে। আমি স্বেচ্ছায় কাজের জন্য যেতে রাজি হই। কারণ আমার বাবা অসুস্থ ছিলেন এবং তার চিকিৎসার জন্য আমার টাকার দরকার হয়। তখন আমাকে কাজ দেওয়ার কথা বলে সেখানে নিয়ে যায়। আমার জানা ছিলনা যে সেটা ভারতে। বাসায় কাজ করলে মাসে পাঁচ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বললে আমি রাজি হয়েছিলাম। পরে আমাকে খারাপ জায়গায় নিয়ে বিক্রি করা হয়।'' বলেন নাজমা বেগম।

কিন্তু এক পর্যায়ে পুলিশের হাত ধরা পড়লে তার স্থান হয় শেল্টার হোমে। আর সেখান থেকেই দীর্ঘ অপেক্ষার পর এখন তিনি নিজ দেশে ফিরে এলেন।

যারা এ যাত্রায় ফিরে এসেছেন তাদের কেউ কেউ দুই বছর আবার কেউ কেউ আরও বেশি সময় ভারতে ছিলেন।

তবে ফিরে আসা এই নারীদের অনেকেই বলছেন ওখানে আরো বাংলাদেশী নারী শেল্টার হোমে রয়েছেন যারা দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন।

''আমরা ত্রিশ জন একসাথে পুলিশের হাতে ধরা পড়ি। তাদের মধ্যে কলকাতার মেয়ে আছে আবার বাংলাদেশের মেয়েও ছিল। তাদের অনেকেই ফেরার অপেক্ষায় আছে এখন'', বলেন ফিরে আসা আরেক মহিলা, যার নাম শেফালি।

রাইটস যশোর নামের সংগঠনটির কর্মকর্তা বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক বিবিসি বাংলাকে জানান তারা এখন উদ্ধার করে ফিরিয়ে আনা এই নারীদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে তাদের কাছে ফিরিয়ে দেবেন।

কারো যাওয়ার জায়গা না থাকলে তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারাই পুনর্বাসন করবেন বলেও জানান তিনি।

সম্পর্কিত বিষয়

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻