BBC navigation

পোষাক ব্র্যান্ডগুলোকে দায়বদ্ধ করতে উদ্যোগ

সর্বশেষ আপডেট বৃহষ্পতিবার, 29 নভেম্বর, 2012 13:37 GMT 19:37 বাংলাদেশ সময়
clean_clothes_campaign

এই ধরনের অগ্নিকান্ড থেকে শ্রমিকদের রক্ষা করতেই শুরু হয়েছে প্রচারাভিযান

বাংলাদেশের পোষাক শিল্পে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সুপরিচিত পশ্চিমা ব্র্যান্ডগুলোকে একটি চুক্তিতে বাধ্য করতে একটি প্রচারাভিযান শুরু হয়েছে। ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিক অধিকার এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো ক্লিন ক্লোদস ক্যাম্পেইন নামে একটি জোটের ব্যানারে এই প্রচারাভিযান শুরু করেছে।

এই জোটের তরফ থেকে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে তারা নতুন এই চুক্তিতে সই করতে সুপরিচিত কোম্পানিগুলোর ওপর চাপ দেয়।

ব্রিটেনে ক্লিন ক্লোদস ক্যাম্পেইনের একজন মুখপাত্র সামান্থা মাহের বিবিসি বাংলাকে বলেন, তারা মনে করছেন বাংলাদেশে যদিও অগ্নি নিরাপত্তার ব্যাপারে অনেক আইন এবং নিয়ম-কানুন রয়েছে, তার পরেও এগুলো মানা হচ্ছে কি না তার নজরদারি যথেষ্ট জোরালো নয়।

সেখানে হয়তো ইমারত নির্মাণ বিধিমালা আছে, বৈদ্যুতিক নিরাপত্তার নিয়ম-কানুন আছে, কিন্তু বহু কারখানাতেই এগুলো মানা হয় না বলে তাদের অভিজ্ঞতা বলছে।

সরকার নিজেও এর জন্য এসব কারখানার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয় না, এসব নিয়ম মানতে তাদের বাধ্য করে না - সুতরাং কাগজে কলমে আইন-কানুন যাই থাক, বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে তার অনেক তফাত বলেই ক্লিন ক্লোদস ক্যাম্পেইনের অভিমত।

"আশা করি বাংলাদেশের মানুষ এটা অন্তত বুঝবেন যে এমনভাবে কোনও কারখানা পরিচালনা করা উচিত নয় যাতে সেটি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়"

সামান্থা মাহের, ব্রিটেনে ক্লিন ক্লোদস ক্যাম্পেইনের মুখপাত্র

সামান্থা মাহের বলছেন, ‘আমাদের এই নতুন উদ্যোগের লক্ষ্য বর্তমানে যে ব্যবস্থা সেখানে আছে, সেটা থেকে বেরিয়ে আসা। এর পরিবর্তে আমরা সুপরিচিত আন্তর্জাতিক ব্রান্ড, কারখানা মালিক এবং কারখানা শ্রমিকদের এক জায়গায় এনে এই উদ্যোগে অংশীদার করতে চাই।’

কারখানায় নিত্যদিনের কাজের মধ্যে পরিবর্তন নিয়ে আসা এই প্রচারাভিযানের মূল লক্ষ্য, এবং একদিন অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকি করেই এর কাজ শেষ হয়ে যায় না বলে তারা বলছেন।

এরা প্রতিদিনই কারখানার কাজের পরিবেশ খতিয়ে দেখবেন, এবং কীভাবে পরিবর্তন আনা যায় তার জন্য ক্রমাগত চাপ দিয়ে যাবেন। সুতরাং ক্লিন ক্লোদস ক্যাম্পেইন মনে করে কাজের অর্ডার দেয়ার আগে একবার মাত্র কারখানা পরিদর্শন করেই এর কাজ শেষ হয়ে যায় না!

জোটের মুখপাত্র সামান্থা মাহের এই অভিযোগও মানতে চাননি যে বাংলাদেশের তৈরি পোষাক শিল্পের বিরুদ্ধে একটা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র চলছে।

যে পোষাক শ্রমিকদের স্বার্থে তারা কথা বলছেন, শ্রমিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়ে মাত্রাতিরিক্ত কড়াকড়ি করলে সেই শিল্প মালিকদের ওপর চাপ বাড়বে এবং ওই শ্রমিকরাই শেষ পর্যন্ত কাজ হারাবেন – এমন যুক্তিও প্রায়ই দেওয়া হয়ে থাকে।

clean_clothes_campaign

ক্লিন ক্লোদস ক্যাম্পেইনের লোগো

মিস মাহের কিন্তু এর জবাবে বলেছেন, ‘বাংলাদেশের পোষাক শিল্প থেকে এই যুক্তিটা আমরা প্রায়ই শুনি। আমি আশা করি বাংলাদেশের মানুষ এটা অন্তত বুঝবেন যে এমনভাবে কোন কারখানা পরিচালনা করা উচিত নয় যাতে সেটি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়।’

ক্লিন ক্লোদস ক্যাম্পেইনের পাল্টা যুক্তি, এরকম দুর্ঘটনা যদি বার বার হতে থাকে, এভাবে যদি বিপুল সংখ্যায় শ্রমিকরা আগুনে পুড়ে মারা যেতে থাকে, সেটাই বরং বাংলাদেশের পোষাক শিল্পের জন্য বদনাম নিয়ে আসবে।

সামান্থা মাহের অবশ্য সেই সঙ্গেই বলেছেন, ‘তবে সেই সঙ্গে আমরা এ ব্যাপারেও সচেতন যে সুপরিচিত ব্র্যান্ডগুলো যেভাবে ব্যবসা করছে, তাতে তৈরি পোষাক সরবরাহকারীদের লাভ কমে যাচ্ছে, এবং শেষ পর্যন্ত এর ফল গিয়ে পড়ছে কারখানার শ্রমিকদের কাজের পরিবেশের ওপর।’

ক্লিন ক্লোদস ক্যাম্পেইন বলছে সে জন্যই তারা এই নতুন চুক্তিতে সামিল হতে ব্র্যান্ডগুলোকে আহ্বান জানাচ্ছেন, তারা যাতে এমন মূল্যে পোষাক কেনে, যাতে করে কারখানা মালিকরা তাদের কারখানায় কাজের পরিবেশ উন্নত করতে পারেন।

সুতরাং কারখানা শ্রমিকদের নিরাপত্তার দায়িত্ব কেবল মালিকের নয়, যেসব ব্র্যান্ড তাদের কাছ থেকে পোষাক কিনছে, এটা তাদেরও দায়িত্ব – মন্তব্য করেছে ক্লিন ক্লোদস ক্যাম্পেইন।

সম্পর্কিত বিষয়

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻