BBC navigation

মৃত্যুর কারণ জানতে আরাফাতের দেহাবশেষ তোলা হচ্ছে

সর্বশেষ আপডেট মঙ্গলবার, 13 নভেম্বর, 2012 15:02 GMT 21:02 বাংলাদেশ সময়
arafat

রামাল্লায় ইয়াসের আরাফাতের সমাধি

বিষপ্রয়োগে তাঁকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে- এই সন্দেহ ওঠায় মৃত্যুর প্রায় আট বছর পর ফিলিস্তিন মুক্তি আন্দোলনের প্রবাদপ্রতিম নেতা ইয়াসের আরাফাতের দেহাবশেষ কবর থেকে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এ বছরই সুইজারল্যান্ডের এক গবেষণাগারে মি আরাফাতের ব্যবহৃত পোশাকে তেজস্ক্রিয় পোলোনিয়ামের উপস্থিতি পাওয়ার পর এই সন্দেহ দেখা দেয়।

পশ্চিম তীরের শহর রামাল্লায় ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট-ভবন সংলগ্ন এলাকায় ইয়াসির আরাফাতের কবরের ওপর তৈরি সমাধিটি এখন বেড়া এবং পর্দা দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়েছে। এলাকাটির চারদিকের রাস্তাগুলোও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

যদিও এখনো কোন তারিখ নির্ধারিত হয়নি, তবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ বলেছেন যে আগামী সপ্তাহগুলোতেই কোন এক সময় তা শুরু হবে।

বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে দেখবেন ইয়াসির আরাফাতের দেহাবশেষে কোন তেজস্ক্রিয় পদার্থের বিষক্রিয়ার প্রমাণ পাওয়া যায় কিনা।

কিভাবে উঠলো এই অভিযোগ?

প্যারিসের একটি হাসপাতালে মি আরাফাত মারা যান ২০০৪ সালের ১১ই নভেম্বর। তখন মৃত্যুর কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল যে তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা স্ট্রোক হয়েছিল ।

২০০৫ সালে আমেরিকান দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমস মি আরাফাতের চিকিৎসা সংক্রান্ত দলিলপত্রের একটি কপি হাতে পায় । এতে বলা হয়েছিল যে একটি অজানা সংক্রমণ থেকে আরাফাতের রক্তক্ষরণ-জনিত সমস্যা হয়েছিল যার পরিণামে তার স্ট্রোক হয়।

২০১২ সালের জুলাই মাসে আল জাজিরা টেলিভিশন একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রচার করে।

ইয়াসির আরাফাতের যেসব ব্যক্তিগত জিনিসপত্র তার স্ত্রী সুহার কাছে ছিল - সেগুলো ওই প্রামাণ্যচিত্রের নির্মাতারা সুইজারল্যান্ডের লুসান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব রেডিয়েশন ফিজিক্স-এর বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করায়।

arafat

স্ত্রী সুহার সাথে আরাফাত (ফাইল চিত্র)

সেখানকার সুইস বিজ্ঞানীরা আল-জাজিরাকে বলেন যে তারা আরাফাতের পোশাকসহ বিভিন্ন জিনিসপত্রে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে পোলোনিয়াম-২১০ নামে একটি তেজস্ক্রিয় পদার্থের উপস্থিতি দেখতে পেয়েছেন। তারা জানান কোথাও কোথাও এর মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১০ গুণ পর্যন্ত বেশি এবং এটা কোন প্রাকৃতিক উৎস থেকে আসার কথা নয়।

এর পরই গত জুলাই মাসে ফ্রান্সের নানটিয়ারে শহরে একটি আদালতে মামলা করেন মি আরাফাতের বিধবা স্ত্রী সুহা তাওয়িল।

মামলার পর ফ্রান্সে এ ব্যাপারে হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়।

এর পর মিসেস আরাফাত এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে সুইস ইন্সটিটিউটটি রামাল্লায় আরাফাতের যে কবর তা খুঁড়ে দেহাবশেষ ওঠানোর উদ্যোগ নেয়।

গত মাসে আরাফাতের মৃত্যু তদন্তকারী ফরাসী আইনজীবীরা সুহা আরাফাতকে একজন সাক্ষী হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদও করেন।

পোলোনিয়ামের সংস্পর্শে আরাফাত কিভাবে এলেন?

মিসেস আরাফাত যে মামলা করেছেন, তাতে অবশ্য কোন হত্যাকারীর নাম বলা হয়নি।

অনেক ফিলিস্তিনিই অবশ্য সন্দেহ করেন ইসরাইলী এজেন্টরা তাকে কোনভাবে বিষ খাইয়ে হত্যা করেছে। তারা মনে করেন, আরাফাতের ঘনিষ্ঠ সহচরদের মধ্যে কেউ একজন ওই এজেন্টদেরকে ওই বিষপ্রয়োগে সহায়তা করেছে।

গাজা নিয়ন্ত্রণকারী ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাসের নেতা গাজী হামাস বিবিসিতে হার্ড টক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন তিনি বিশ্বাস করেন যে ইসরায়েল আরাফাতের মৃত্যুর জন্য দায়ী।

তবে ইসরায়েল এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, মি আরাফাতের দেহাবশেষ কবর থেকে তুলে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা চালিয়েও তাকে যে সত্যিই বিষপ্রয়োগে করা হয়েছিল তা নিশ্চিতভাবে বলা অসম্ভব হয়ে উঠতে পারে।

সম্পর্কিত বিষয়

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻