BBC navigation

'বাংলাদেশে ৬৬ ভাগ মেয়েরই বিয়ে ১৮-র আগে'

সর্বশেষ আপডেট বৃহষ্পতিবার, 8 নভেম্বর, 2012 16:37 GMT 22:37 বাংলাদেশ সময়

বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ রোধে নানা ধরণের উদ্যোগ থাকলেও এখনও গড়ে শতকরা ৬৬ ভাগ নারীকেই ১৮ বছর এর আগেই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হচ্ছে।

child_marriage

বাংলাদেশে জাতিসংঘের জনসংখ্যা বিষয়ক সংস্থা ইউএনএফপিএ এর প্রধান গতকাল এই তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলছেন, মাতৃমৃত্যু বা শিশুমৃত্যুর মত ক'টি সূচকে উন্নয়ন চোখে পড়লেও বাল্য বিবাহের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে। ইউএনএফপিএ-র তথ্য মতে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশেই বাল্য বিবাহের হার সবচাইতে বেশি।

বুধবার মাদারীপুর সদরের পাঁচখোলা গ্রামে এরকমই একটি বাল্যবিবাহের আয়োজন চলছিল। কনের বয়স ছিল ১২ আর পাত্রের বয়স ১৭।

এলাকার মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা তথ্যটি পাবার পর স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় বিয়েটি স্থগিত করতে সমর্থ হন।

কনের পরিবার বলছে, মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে সমস্যা তৈরি হওয়ায় তারা বিয়ের বন্দোবস্ত করছিলেন।

"দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশেই বাল্য বিবাহের হার সবচাইতে বেশি"

আর্থার আরকেন, ইউএনএফপিএ-র বাংলাদেশ প্রতিনিধি

মাঠ পর্যায়ে ইদানীং নিরাপত্তা বাল্য বিবাহের প্রধান কারণ হয়ে উঠছে বলে জানালেন মাদারীপুরের মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার।

তিনি জানালেন, 'বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখছি মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার পথে ইভ টিজিং বেশ বেড়েছে। তাতে অভিভাবকরা ঘাবড়ে গিয়ে মেয়েদের নিরাপত্তার কথা ভেবে তাড়াতাড়ি বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে।'

মাহমুদা আক্তার আরও জানালেন, 'ছেলেদের বাল্যবিবাহের কারন অবশ্য যৌতুক এবং তার সাথে সম্পর্ক রয়েছে অর্থনৈতিক অবস্থার। বেকার এবং অল্পবয়সী ছেলেদের পরিবার অনেক সময় মনে করে ছেলেকে বিয়ে দিয়ে কিছু যৌতুকের টাকা পেলে তা দিয়ে ব্যবসা দাঁড় করানো যাবে - অথবা কনের পরিবারই হয়ত একটি চাকুরী জুটিয়ে দেবে।'

তিনি বলছেন, মেয়েদের বয়স যত বাড়ে পাত্রপক্ষের যৌতুকের দাবিও তত বাড়তে থাকে।

"মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার পথে ইভ টিজিং বেশ বেড়েছে। তাতে অভিভাবকরা ঘাবড়ে গিয়ে মেয়েদের নিরাপত্তার কথা ভেবে তাড়াতাড়ি বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে।'"

মাহমুদা আক্তার, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা

ইউএনএফপিএ-র তথ্য মতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে বাল্য বিবাহের হার সবচাইতে বেশি। বাংলাদেশের পরেই ৪৭ শতাংশ বাল্য বিবাহের হার রয়েছে ভারতে। বাল্যবিবাহের এই উচ্চ হারের পিছনে ঐতিহাসিক কারণ রয়েছে।

মাহমুদা আক্তার বলছেন, 'বাল্য বিবাহের পেছনে অর্থনৈতিক কারণ থাকলেও আদিকাল থেকেই নারী দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে পরিগণিত। তারা অন্দরমহলে থাকবে এটিই মূল ধারণা আজকের দিনেও। অনেক শিক্ষিত এবং অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল পরিবারও মনে করে, নারীর গন্তব্য শেষ পর্যন্ত বিবাহ।'

অন্যদিকে মাদারীপুরের সেই ১২ বছর বয়সী কনের অভিভাবক স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে মুচলেকা দিয়েছেন যে সাবালিকা না হওয়া পর্যন্ত তারা মেয়েকে বিয়েতে বাধ্য করবেন না।

ইউএনএফপিএ বলছে, গ্রামাঞ্চলে বাল্যবিবাহের হার জাতীয় গড়ের থেকে পাঁচ শতাংশ বেশি। তবে শুধুমাত্র মাদারীপুর পাঁচখোলা গ্রামের মতো প্রত্যন্ত এলাকাতেই নয়, শহরেও বাল্যবিবাহ ঘটছে ৫৩ শতাংশের মতো।

সম্পর্কিত বিষয়

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻