BBC navigation

জামায়াতের সাথে বিভিন্ন জেলায় পুলিশের সংঘর্ষ

সর্বশেষ আপডেট মঙ্গলবার, 6 নভেম্বর, 2012 11:36 GMT 17:36 বাংলাদেশ সময়
জামায়াতে ইসলামী বলছে তাদের দুশোর মতো নেতা-কর্মীকে পুলিশ আটক করেছে

জামায়াতে ইসলামী বলছে তাদের দুশোর মতো নেতা-কর্মীকে পুলিশ আটক করেছে

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় দ্বিতীয় দিনের মতো জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের বিক্ষোভের সময় পুলিশের সাথে সংঘর্ষ হয়েছে।

দলটি অভিযোগ করেছে, রংপুরে তাদের একটি কার্যালয় আগুন দিয়ে পোড়ানো হয়েছে এবং সারাদেশে ৫০ জনের বেশি আটক করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের অনেকেই বলেছেন, দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকার পর জামায়াতের পক্ষ থেকে এখন শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা করা হচ্ছে।

তবে জামায়াতের নেতারা বলেছেন, মানবতা-বিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক তাদের দলের আমির মতিউর রহমান নিজামীসহ ন’জন নেতার বিচার প্রক্রিয়া এখন দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তারা মনে করেন, সেকারণে আইনী লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজপথেও তাদের তৎপরতা বাড়ছে।

জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভের দ্বিতীয় দিনে বড় ধরণের সংঘর্ষ হয়েছে উত্তরাঞ্চলীয় বিভাগীয় শহর রংপুরে।

সেখানে বিক্ষোভকারী, বিক্ষোভের বিরোধিতাকারী ও পুলিশ- এই তিনটি পক্ষ তৈরি হয়।

স্থানীয় জামায়াত নেতারা রংপুর শহরে তাদের একটি কার্যালয় পোড়ানোর জন্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন।

"আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের মেয়াদের শেষ দিকে এসে জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে"

তাসনীম আলম, জামায়াত নেতা

স্থানীয় আওয়ামী লীগ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

রংপুরের পুলিশ সুপার রশিদুল হাসান বলছিলেন, লাঠিসোটাসহ জামায়াতের মিছিলে একটা জঙ্গীভাব ছিল এবং সেই মিছিল থেকে পুলিশের গাড়িতে আক্রমণে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ কয়েকজন আহত হয়েছে।

অন্যদিকে, জামায়াতের বিক্ষোভের বিরোধিতা করে স্থানীয় লোকজন দলটির কার্যালয়ে আগুন দেয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রাজধানী ঢাকাতেও দ্বিতীয় দিনের মতো পুলিশের সাথে জামায়াত কর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে।

চট্টগ্রাম, সিলেট, গাইবান্ধা এবং বরিশালসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে জামায়াতের নেতাকর্মীদের মিছিল এবং পুলিশের সাথে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াতের নেতাকর্মীদের রাজপথে একটা শক্ত অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে।

তবে এমন অবস্থানকে নতুন কোন কৌশল বলতে রাজি নন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা তাসনীম আলম।

তার বক্তব্য হচ্ছে, তারা জঙ্গি বা মারমুখী অবস্থান নিয়ে রাজপথে নামছেন না।

তারা মিছিলের চেষ্টা করলে পুলিশই তাতে বাধা দিচ্ছে।

জামায়াতের আমীর মতিউর রহমান নিজামী এবং সাবেক আমীর গোলাম আজমসহ দলটির ৯ জন শীর্ষ নেতা আটক রয়েছেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে মানবতা-বিরোধী অপরাধের অভিযোগে।

"জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতারের পরেও দীর্ঘ সময় ধরে দলটির নিষ্ক্রিয়তার কারণে নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতেই জামায়াত এখন রাস্তায় তৎপর হওয়ার কৌশল নিয়েছে"

আমানউল্লাহ কবির, বিশ্লেষক

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় আসার বছর-খানেক পরই এই অভিযোগে জামায়াত নেতাদের একের পর এক গ্রেফতার করা হয়েছে।

সে সময় জামায়াতকে বড় ধরনের কোন কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়নি।

সিনিয়র সাংবাদিক আমানউল্লাহ কবির মনে করেন, জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতারের পরেও দীর্ঘ সময় ধরে দলটির নিষ্ক্রিয়তার কারণে নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।

‘সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতেই জামায়াত এখন রাস্তায় তৎপর হওয়ার কৌশল নিয়েছে,‘ বলেন মি. কবির।

তবে ভিন্ন কৌশলে সব সময়ই জামায়াতে ইসলামী সক্রিয় ছিল বলে দাবি করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতা তাসনীম আলম ।

একইসাথে তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের মেয়াদের শেষ দিকে এসে জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার চেষ্টা রয়েছে বলে তারা মনে করেন।

তিনি বলেছেন, ‘সাজা দেওয়ার চেষ্টাও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সেকারণে জামায়াতের নেতা-কর্মী এবং সমর্থকরা এখন রাস্তায় নামছে।’

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻