BBC navigation

ভারত নিয়ে কী ভাবনা বিএনপিতে?

সর্বশেষ আপডেট শুক্রবার, 2 নভেম্বর, 2012 15:57 GMT 21:57 বাংলাদেশ সময়
ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠকে খালেদা জিয়া

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠকে খালেদা জিয়া

বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়া ভারত সফরে গিয়ে যেসব কথা-বার্তা বলেছেন, তাকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বিএনপির ভারত নীতিতে বড় ধরণের পরিবর্তন বলে বর্ণনা করছেন। বিএনপি বাংলাদেশের রাজনীতিতে বরাবরই ভারত বিরোধি শক্তি বলে বিবেচিত।

খালেদা জিয়ার ভারত সফরের বিষয়টি এখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করেন, বিএনপি’র এতদিনের চলার পথে ভারত বিরোধী একটা অবস্থান প্রকাশ পেয়েছে। সেখান থেকে সরে আসার একটা চেষ্টা ছিল দলটির নেত্রীর ভারত সফরে আলোচনাগুলোতে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আনতর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক ইমতিয়াজ আহমেদ বলছিলেন, ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সমর্থন দেওয়া এবং ভারত বিরোধী শক্তি হিসেবে বিএনপি ভাবমূর্তির সংকটে ছিল। খালেদা জিয়ার ভারত সফরে সেই সংকট কাটানোর একটা চেষ্টা ছিল বলে তিনি মনে করেন।

''খালেদা জিয়ার ভারত সফরে দিল্লীকে বোঝানোর চেষ্টা ছিল যে বিএনপি সেই ধরণের রাজনীতির সাথে জড়িত নেই,'' মি: আহমেদ বলেন।

তবে বিষয়টাতে ভিন্ন ব্যাখ্যা তুলে ধরেছেন বিএনপির একজন শীর্ষ নেতা মোর্শেদ খান। তিনি বিগত বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকারে পররাষ্ট্র মন্ত্রী ছিলেন।

মি: খান মনে করেন, সময়ের দাবি এবং প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে বিএনপি ভারতের সাথে সম্পর্কে একটা পরিবর্তনের দিকে এগুচ্ছে।

''ভারতও উপলব্ধি করেছে। আমরাও উপলব্ধি করেছি। আমরা নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছি,'' তিনি বলেন, ''আমেরিকা এবং রাশিয়া মুখোমুখি অবস্থান থেকে সময়ের প্রেক্ষাপটে তারাও পরিবর্তনে বাধ্য হয়েছে। আমরাও সময়ের প্রেক্ষাপটে পরিবর্তনশীল চিন্তাধারা রূপ নেওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে হবে।''

আন্দোলনের পথে বিএনপির নেতৃত্ব

আন্দোলনের পথে বিএনপির নেতৃত্ব

কিন্তু ভারত বিরোধী শক্তি হিসেবে বিএনপি যে পরিচিতি পেয়েছিল, সেই প্রসঙ্গে মোর্শেদ খানের বক্তব্য হচ্ছে, আগে প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন। এখন সময়ের দাবির সাথে তাল মিলিয়ে নতুনের চিন্তা নিয়ে এগুতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিরোধীদলীয় নেত্রীর ভারত সফরে আলোচনায় যেসব বিষয় উঠে এসেছে, তার পক্ষেই দলটির শীর্ষ নেতারা প্রকাশ্যে বক্তব্য তুলে ধরছেন। তাদের অনেকেই মনে করছেন, ভারতও তাদের অবস্থান থেকে সরে এসেছে এবং বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে এই সফরে ব্যাপক সম্মান দেখিয়েছে।

তবে বিএনপি নেতাদের অনেকেই আবার অনানুষ্ঠানিকভাবে ভিন্নমতও পোষণ করেন। দলটির মাঠপর্যায়ের নেতা কর্মীদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। দক্ষিণ পশ্চিমের যশোর থেকে বিএনপির একজন নেতা মকবুল হোসেন ইতিবাচকভাবেই বিষয়টাকে দেখছেন। কিন্তু উত্তরের রাজশাহী থেকে বিএনপি নেতা কে এম সাযেদুর রহমানের কন্ঠে উঠে এসেছে অস্বস্তির কথা।

মি: রহমান বলছিলেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার গত চার বছরে ভারতকে ট্রানজিটসহ যেসব সুবিধা দিয়েছে, তার বৈধতা পেতেই ভারত এখন বিএনপির সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছে বলে তারা মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মনে করেন।

তিনি বলেন, ''মাঠপর্যায়ে ইতিমধ্যেই আমরা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নানান প্রশ্নের মুখোমুখি হচ্ছি। অনেকেই প্রশ্ন করছেন, এতদিন ভারতবিরোধী কথা বলে এখন আপনারাই আবার ভারতের তোষণ করছেন কিনা। ভোটারদের এমনসব প্রশ্নের মুখোমুখি যেহেতু মাঠপর্যায়ে আমাদেরকেই হতে হয়, সেকারণে আমরা দলের হাইকমান্ডের কাছে জানতে চাইবো দলের অবস্থান সম্পর্কে।''

তবে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম মিয়া জানান, বিএনপির ভোটব্যাংকে বা ভোটে রাজনীতিতে কোন সমস্যা হবে না। বরং ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেই তারা মনে করেন।

একইসাথে বিএনপি নেতাদের অনেকেই বলছেন, খালেদা জিয়ার কাছ থেকে এখনও সরাসরি কোন বক্তব্য আসেনি।

বিএনপি নেত্রী এ বিষয়ে নিজে কী বক্তব্য দেবেন সেদিকেও তারা নজর রাখছেন।

একই ধরনের খবর

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻