BBC navigation

ওহায়োতে প্রার্থীদের মরিয়া প্রচারণা

সর্বশেষ আপডেট মঙ্গলবার, 30 অক্টোবর, 2012 12:14 GMT 18:14 বাংলাদেশ সময়
ওহায়োতে মিট রমনির সমর্থনে প্রচারণা

ওহায়োতে মিট রমনির সমর্থনে প্রচারণা

আমেরিকায় ২০১২র প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ফলাফল নির্ধারণী যে অঙ্গরাজ্যগুলো গুরুত্বপূর্ণ তার মধ্যে যে রাজ্যে জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন দুই প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী, সেটি হল ওহায়ো। দুই প্রার্থীই তাদের যোগ্যতা প্রমাণের লড়াইয়ে সম্ভাব্য সবরকম হাতিয়ার ব্যবহার করে রণক্ষেত্র গরম করে তুলেছেন।

আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য ইলেকটোরাল কলেজ পদ্ধতিতে প্রতি রাজ্যের জন্য জনসংখ্যার অনুপাতে যে ভোট বরাদ্দ রয়েছে তার মধ্যে ১৮টি ভোট রয়েছে ওহায়োর। যে প্রার্থী ওহায়োতে জিতবেন তিনি ওই রাজ্যের সবগুলো ইলেকটোরাল কলেজ ভোট পাবেন। জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ২৭০টি ভোটের মধ্যে ওহায়োর ১৮টি ভোট খুবই গুরুত্বপূর্ণ ।

আমেরিকার ইতিহাসে ওহায়ো না জিতে কোনো রিপাবলিকান প্রার্থী আজ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট হতে পারেন নি। গত ১০০ বছরে মাত্র দুজন ডেমোক্রাট প্রার্থী ওহায়োতে না জিতেও প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। কাজেই মনে করা হয় দুই দলের জন্যই ওহায়ো গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী রণক্ষেত্র। আর সে কারণেই ভোটারদের মন জয় করতে ওহায়োয় চলছে অবিরাম প্রচারণা যুদ্ধ।

কোটি কোটি ডলার খরচ করা হচ্ছে টিভি বিজ্ঞাপনে। পায়ে হেঁটে বাড়ি বাড়ি ঘুরছেন দুই দলের সেচ্ছাসেবী প্রচারকর্মীরা। এছাড়াও প্রচার চলছে ফোনে, ইমেলে, সামাজিক নেটওয়ার্কে - প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য তো বটেই, পাশাপাশি কংগ্রেস, সিনেট সব নির্বাচনের জন্যই।

ওহায়োর একটি আগাম ভোটকেন্দ্র

ওহায়োর একটি আগাম ভোটকেন্দ্র

কলম্বাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী এলাকা থেকে কংগ্রেসের প্রার্থী হিসাবে দাঁড়িয়েছেন জয়েস বেটি। তিনি বলছেন, টিভি বিজ্ঞাপন ছাড়াও নানাভাবে ভোটার টানার চেষ্টা করছে তার দল। ''বিশেষ করে কলম্বাসে মানুষকে ডেমোক্রাটদের ভোট দিতে উৎসাহিত করার জন্য বড় বড় জনসমাবেশ করছি আমরা, সেখানে কংগ্রেস সদস্যদের পাশাপাশি আনা হচ্ছে তারকাদেরও। নানা সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে পৌঁছচ্ছি আমরা।''

মিসেস বেটি বলছেন, মনস্থির করতে না পারা ভোটারদের কাছে ফোরামে তারা জানতে চাইছেন দলের কাছে তাদের কোনো প্রশ্ন আছে কীনা। এছাড়াও চিঠি লিখে, ফোন করে, এমনকী বাড়ি বাড়ি গিয়েও তারা ব্যক্তিগতভাবে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছেন।

ওহায়োর দ্বিতীয় বৃহত্তম নির্বাচনী এলাকা কলম্বাসের ফ্র্যাঙ্কলিন কাউন্টিতে রিপাবলিকান পার্টির চেয়ারম্যান ডাগ প্রেসি বলছেন এবার প্রচারণায় তাদের দিক থেকে প্রচুর উদ্দীপনা রয়েছে যা চার বছর আগে ছিল না।

তিনি বলছেন ২০লাখের ওপর বাড়িতে ব্যক্তিগতভাবে গেছেন তাদের প্রচারকর্মীরা, লক্ষ লক্ষ ভোটারের কাছে পৌছচ্ছেন ফোনের মাধ্যমে। ''কিন্তু কোটি কোটি ডলারের এই প্রচারণা, ৬০/৭০ লক্ষ যারা ভোট দেবেন তাদের জন্য নয়, মাত্র এক লাখ ভোটার যারা এখনও মনস্থির করেন নি তাদের জন্য।''

এরা যাতে রিপাবলিকানদের ভোট দেয় তার তদ্বিরে রিপাবলিকান প্রচারকর্মীরাও ভোটারদের বাড়ি বাড়ি ঘুরছেন। মি: প্রেসি বলছেন তাদের লড়াই এখন এই ৪%-৫% ভোটার টানার লড়াই।

কিন্তু এই মুষ্টিমেয় ভোটাররা কারা? কেন তাদের সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা? ওহায়ো স্টেট ইউনিভার্সিটির পলিটিকাল সায়েন্সের অধ্যাপক পল বেক বলছেন, এই ৫% শতাংশ ভোটার। সেই অর্থে কট্টর ডেমোক্রাট বা রিপাবলিকান নন, এরা দলীয় রাজনীতি নিয়ে বিশেষ মাথা ঘামান না। যে কোনো ঘটনার নিরীখে তারা সমর্থন এদিক ওদিক করেন। ওহায়োর জনগোষ্ঠির এটা একটা বিশেষ চরিত্র।

রেস্তোরাঁকর্মীর সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন বারাক ওবামা।

রেস্তোরাঁকর্মীর সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন বারাক ওবামা।

তিনি বলছেন ওহায়োতে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান সমর্থক প্রায় অর্ধেক অর্ধেক। ডেমোক্রাটরা সংখ্যায় যদিও কিছু বেশি, কিন্তু তারা আবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীকে ভোট দিচ্ছেন এমন নজিরও আছে। ফলে এই যারা কোনো এক দলের কট্টর সমর্থক নন, যারা প্রয়োজনে অন্য দলকেও ভোট দেন- তারাই ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভোটার। তাদের লক্ষ্য করেই গত কয়েক মাস ধরে চলছে সবরকম প্রচার প্রচারণা।

''২১শে অক্টোবর পর্যন্ত খরচের যে হিসেব আমাদের কাছে এসেছে তাতে দেখা যাচ্ছে ৮৮ কোটি ডলার দুই দল টিভি বিজ্ঞাপনে খরচ করেছে যার ২০% খরচ হয়েছে ওহায়োতে। অন্য কোনো রাজ্যে এরকম বিজ্ঞাপন যুদ্ধ দেখবেন না। ওহায়োতে সারা সন্ধ্যা টিভিতে দেখবেন একটার পর একটা অবিরাম নির্বাচনী অ্যাড।''

আমেরিকায় ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ৩২টিতে আগাম ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে গেছে, যার মধ্যে ওহায়োতে আগাম ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে ২রা অক্টোবর- চলবে নির্বাচনের আগের দিন, ৫ই নভেম্বর পর্যন্ত।

কেন্দ্রের নির্বাচনী কর্মকর্তা ডন ক্লো বলছেন অনেক ভোটার আগাম ভোটের সুযোগ নিচ্ছেন। গত নির্বাচনে এই এলাকায় আগাম ভোট পড়েছিল ৫২,০০০। এবার তা আরো বাড়বে বলে তাদের আশা।

প্রথম আগাম ভোট দিয়ে রোজি বললেন প্রথম প্রেসিডেন্ট বির্তকের পরই তিনি মনস্থির করে ফেলেছেন কে তার পছন্দের প্রার্থী।

আর একজন ভোটার বললেন তিনি সবসময় আগেভাগে ভোট দিয়েছেন লাইন এড়াতে- তার ধারণা সবাই মনে মনে জানেন কাকে ভোট দেবেন- ৫% মানুষ এখনও জানেন না কাকে ভোট দেবেন এটা অবাস্তব তার মতে।

আরেকজন ভোটার মেরি বললেন তিনি অনেক আগেই ঠিক করে নিয়েছেন কাকে ভোট দেবেন- তিনি বয়স্ক মানুষ- ভোটের দিন আবহাওয়া কেমন থাকে - তার শরীর ভাল থাকে কীনা এসব ভেবে আগেই তার গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে এসেছেন।

ফ্র্যাঙ্কলিন কাউন্টির ডেমোক্রাট পার্টি চেয়ারম্যান গ্রেগ হাস ওহায়োতে ডেমোক্রাটিক যিনি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ৩৫ বছর ধরে তিনি বলছেন দলকে জিততে হলে ভোটারদের নির্বাচন কেন্দ্রে যেতে রাজি করানোটা জরুরি।

ওহায়োর ওয়েষ্টারভিলে মিট রমনির ভাষণ

ওহায়োর ওয়েষ্টারভিলে মিট রমনির ভাষণ

''সুইং ভোটারের সংখ্যা কিন্তু খুবই কম। যারা সমর্থনের দিক দিয়ে এখনও কিছুটা নরম অবস্থানে আছেন- প্রার্থীদের সম্পর্কে এখনও একশভাগ যারা নিশ্চিত হতে পারছেন না- তাদের ভোট কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়াটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। তবে তাঁর বিশ্বাস ডেমোক্রাটরাই ওহায়োতে জিতবে।

একই বিশ্বাসের কথা বলছেন রিপাবলিকান পার্টি চেয়ারম্যান ডাগ প্রেসিও।

''আমি তো বলব ওহায়োতে আমাদের জয় হবে। সমর্থনের ধারা ও উদ্যম আমার বিশ্বাস কিছুটা আমাদেরই অনুকূলে।''

ডেমোক্রাট ও রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীদের মধ্যে ওহায়োতে কে এগিয়ে তা নিয়ে ভোটের বাজারে নানা জরিপ হয়েছে। সব জরিপেই বলা হচ্ছে দুজনের মধ্যে ব্যবধান খুবই কম।

কিন্তু অধ্যাপক পল বেক বলছেন জনমত জরিপ হচ্ছে নমুনা ভিত্তিক, কাজেই তাতে কিছুটা ভুলের অবকাশ থাকছে। ''কাজেই ওহায়োর জরিপগুলোতে ব্যবহৃত নমুনার ক্ষেত্রে ভুলের সম্ভাবনা ধরে নিয়ে আমি বলব জয় পরাজয় এখন সূক্ষ মাপকাঠিতে ঝুলছে।''

একই ধরনের খবর

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻