BBC navigation

দিল্লির জেল থেকে বাংলাদেশী ভাস্করের মুক্তি

সর্বশেষ আপডেট শনিবার, 27 অক্টোবর, 2012 14:14 GMT 20:14 বাংলাদেশ সময়
tihar jail delhi

দিল্লির তিহার জেল

ভারতের রাজধানী দিল্লির একটি কারাগারে আট বছর বন্দী থাকার পর অবশেষে মুক্তি পেয়ে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশের একজন ভাস্কর এবং তাঁর পূত্রবধু।

শুক্রবার দিল্লিতে তাদের মুক্তি দেয়া হয় এবং শনিবার সকালে তাঁরা ঢাকায় ফেরেন।

বিনা বিচারে দীর্ঘদিন বন্দী ছিলেন এই দু’জন, তবে মুক্তির মাত্র কিছুদিন আগে জাল মুদ্রা বহনের অভিযোগে তাদের সাজা দেয়া হয়েছিল।

ভাস্কর রশীদ আহমেদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য, ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র সেতুর কাছের ভাস্কর্য সহ মুক্তিযুদ্ধের ওপর বেশ কিছু ভাস্কর্যের নকশা তৈরী ও নির্মাণ করেছেন।

২০০৪ সালের ডিসেম্বরে পুত্রবধূ নুরুন নাহারকে নিয়ে প্রায় সত্তর বছর বয়সী এই বৃদ্ধ দিল্লি গিয়েছিলেন, উদ্দেশ্য আজমীরে যাবেন। ওঠেন একটি হোটেলে। বেশী রাতে যাওয়ার কারণে ভালো রুম পাননি।

পরদিন আজমীর যাওয়ার বন্দোবস্ত জেনে হোটেলে ফিরে রশীদ আহমেদ দেখেন, কয়েকজন লোক লবিতে বসে চা খাচ্ছেন।

"লোকগুলো জানতে চায়, আমরা কোথা থেকে এসেছি। আমি বলি, বাংলাদেশ থেকে। তারা জানতে চায়, আমরা মুসলিম কিনা। কয়েক মিনিট পরেই সাদা পোশাকের লোকজন এসে আমাদের সাথে বসা লোকগুলোকে আটক করে। "

রশীদ আহমেদ, ভাস্কর

তিনি বলেন, আমি হোটেলের ম্যানেজারকে পাসপোর্টের কথা জিজ্ঞেস করলে ম্যানেজার জানায় সেগুলো ফটোকপি করতে পাঠানো হয়েছে এবং মিনিট দশেকের মধ্যে ফিরে আসবে।

'এর মধ্যে ঐ লোকগুলো জানতে চায়, আমরা কোথা থেকে এসেছি। আমি বলি, বাংলাদেশ থেকে। তারা জানতে চায়, আমরা মুসলিম কিনা। এরপর তাঁরা আমাদের চা খেতে আমন্ত্রণ জানায়। আমরা চা খাওয়া শুরু করার কয়েক মিনিট পরেই সাদা পোশাকের লোকজন এসে আমাদের সাথে বসা লোকগুলোকে আটক করে।'

এরপর তাদের দুজনকেও সাথে করে নিয়ে যায় রাজস্ব গোয়েন্দা দপ্তরের এজেন্টরা। অপরিচিত একটি ভবনের মেঝেতে রাত কাটে তাদের। পরদিন তোলা হয় আদালতে, আনা হয় অভিযোগ।

রশীদ আহমেদ বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় যে আমরা বাংলাদেশ থেকে জাল টাকা বহন করে ঐ লোকগুলোকে সরবরাহ করি। আমরা বলেছি, আমরা নিরাপরাধ। কিন্তু তাঁরা আমাদের কথায় কান দেয়নি।

অভিযোগপত্র পেশ করার জন্যে রাজস্ব গোয়েন্দা দপ্তর তিন মাস সময় পায়, আর বাংলাদেশী দু’জনকে পাঠানো হয় কারাগারে। বলা হলো উকিল দেয়ার জন্যে। রশীদ আহমেদ বলছেন, এরপর আদালতে উঠলো মামলা।

তিনি জানান, প্রথম শুনানীর দিনেই বিচারক অভিযোগপত্র ছুঁড়ে ফেলে দেন। বলেন, এই অভিযোগপত্র তিনি গ্রহণ করতে পারবেন না। আবার নতুন করে চার্জশীট দিতে বলা হয়।

"আমাদের সাথে যে দুজন ধরা পড়েছিলো, দু’বছরের ভেতর তাঁরা জামিন নিয়ে বেরিয়ে যায়। আর আমরা খেটেই গেলাম।"

রশীদ আহমেদ, ভাস্কর

'এর মধ্যে আরেক দল কর্মকর্তা এসে বলে কিছু কাগজে সই করতে হবে, কারণ আমাদের বিরুদ্ধে আরো একটি মামলা হবে। আমি বললাম, আমরা তো জেলে, তারপরও মামলা হবে। তাঁরা বললো, হ্যাঁ হবে।'

রশীদ আহমেদ জানান, তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং বলা হয় সই না করলে পেটানো হবে।

দুটো মামলা হলো। এরপর বারবার আদালত পরিবর্তনের কারণে মামলায় দীর্ঘসূত্রতা বাড়ে। এমনকি হাইকোর্ট থেকে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেয়া হলেও মামলা ঝুলে থাকে।

শেষ পর্যন্ত বিষয়টি নজর কাড়ে গণমাধ্যমের। রশীদ আহমেদ জানান, ভারতীয় গণমাধ্যমে তাঁর কথা ফলাও করে ছাপার পরে চলতি মাসে আদালত তাকে এবং পূত্রবধুকে সাত বছরের জেল ও দেড় লক্ষ টাকা করে জরিমানা করে। কিন্তু তিনি জানেন না, কেন তাদের এই শাস্তি হলো।

তিনি বলেন, আমাদের সাথে যে দুজন ধরা পড়েছিলো, দু’বছরের ভেতর তাঁরা জামিন নিয়ে বেরিয়ে যায়। আর আমরা খেটেই গেলাম। সহবন্দীদের কাছ থেকে হাত পেতে সাহায্য নিয়ে আমরা চলেছি।

আটাত্তর বছর বয়সী কপর্দকশূন্য রশীদ আহমেদের কথা আবারো গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে এবার এগিয়ে আসেন কয়েকজন। জরিমানার টাকা পরিশোধ করে তাদের মুক্তির ব্যবস্থা করেন।

আর শেষ পর্যন্ত দিল্লিতে অবস্থিত দুতাবাসের সহায়তায় তাঁরা দুজন ফিরে আসেন বাংলাদেশে।

সম্পর্কিত বিষয়

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻