
বর্মী ভূখন্ডের রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প
বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বলছেন, বার্মায় নতুন করে জাতিগত দাঙ্গা শুরু হওয়ার পর রোহিঙ্গারা আবারো অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে বলে তাঁরা খবর পেয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের প্রায় ৩০০০ মানুষ নিয়ে ৫০টির মতো নৌকা নিয়ে বাংলাদেশে আসার লক্ষ্যে সাগরে অপেক্ষা করছে।
জেলা প্রশাসন বলছে, রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কড়া নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
গত দু'দিনে ৫২ জন রোহিঙ্গাকে পুশ ব্যাক করা হয়েছে বলে সীমান্ত রক্ষীরা জানিয়েছে।
বার্মায় নতুন করে জাতিগত দাঙ্গা শুরু হওয়ার আগে পর্যন্ত বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের চেষ্টা অনেকটাই বন্ধ ছিল, বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ঢুকতে না দিতে সরকারের কঠোর অবস্থানের পর।
এ নিয়ে মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে সরকারকে আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখোমুখিও হতে হয়।
কিন্তু বার্মায় বৌদ্ধ রাখাইন ও মুসলমান রোহিঙ্গাদের মধ্যে সম্প্রতি আবারো সংঘাত শুরু হওয়ার পর সংখ্যালঘু এই সম্প্রদায়ের লোকজন ব্যাপকহারে বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টায় রয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।
টেকনাফের উপজেলা চেয়ারম্যান শফিক মিয়া জানান, তিনি খবর পেয়েছেন রোহিঙ্গাদের নিয়ে বেশ কিছু নৌকা সাগরে ভেসে রয়েছে।
''আমরা খবর পেয়েছি, ৫০-৬০টির মতো নৌকা সাগরে রয়েছে। একেকটি নৌকা ৫০ জন করে যাত্রী বহন করলে এসব নৌকায় প্রায় ৩,০০০ রোহিঙ্গা রয়েছে।''

শিবিরের শরণার্থী শিশু
বার্মা থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের একটি অংশ এরই মধ্যে বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে।
সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি জানিয়েছে, কেবল মাত্র গুনদুম সীমান্তে গত দু'দিনে কমপক্ষে ৫২ জন রোহিঙ্গাকে বার্মায় ফেরত পাঠানো হয়েছে।
কক্সবাজারে বিজিবির কর্মকর্তা লেফটেনান্ট কর্নেল জাহিদ হাসান বলেন, সমুদ্রে নৌকায় করে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে ঢোকার উদ্দেশ্যে অপেক্ষা করছে, এমন তথ্য তাদের কাছেও পৌঁছেছে।
তিনি বলেন, যেসব জায়গায় সহিংসতা হয়েছে বলে আমরা খবর পাচ্ছি, সেগুলো দ্বীপ এলাকা। তাই সেখান থেকে লোকজন নৌকায় করে পালিয়ে যাচ্ছে বলে জেলেরা জানিয়েছে।
''তবে আমরা কাউকে এখনো দেখতে পাচ্ছিনা।''
রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ঢুকতে না দিতে সরকার আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। গত কয়েক দিনে বার্মায় নতুন করে সহিংসতা দেখা দেয়ার পর কক্সবাজারে কর্মকর্তারা নতুন করে তৎপর হয়েছেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এসব বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশে কেউ অনুপ্রবেশ করতে চাইলে ঠেকানো হবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
''অবৈধভাবে একসাথে অনেক লোক ঢুকে যেতে পারে বলে আমাদের কাছে খবর আছে। তাই বিজিবি আর কোস্ট গার্ডকে বলেছি, কেউ যাতে অনুপ্রবেশ করতে পারে এবং চেষ্টা করলে ঠেকাবেন।''
রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে নজরদারি আরো বাড়ানো হয়েছে বলে জানান বিজিবির কর্মকর্তারা।
এক্ষেত্রে ঠিক কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, তা জানতে চাইলে কর্নেল জাহিদ হাসান বলেন, রামুর ঘটনার পর থেকেই সীমান্তে কড়া নজরদারি রয়েছে। তবে এখন সেটা আরো বাড়ানো হয়েছে।
''কেউ যদি বাংলাদেশে ঢেকার চেষ্টা করে, তাহলে মানবাধিকারের বিষয়টি মাথায় রেখে তাদেরকে খাবার, ঔষধ ও কাপড়-চোপড় দিয়ে আমরা তাদের দেশে পাঠিয়ে দেবো।''
কর্নেল জাহিদ হাসান বলেন, সীমান্তের যেসব পয়েন্টে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ হতে পারে, সেসব জায়গায় বিজিবি প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।
রোহিঙ্গারা এসব পয়েন্ট দিয়ে ঢোকার চেষ্টা করলে তাদেরকে প্রয়োজনীয় ত্রাণ দিয়ে আবার নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে বলে তিনি জানান।




















