
প্রয়াত তারকা জিমি সেভিলের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ নিয়ে তৈরী প্রতিবেদন প্রচার করা উচিত ছিল বলে বিবিসির মহাপরিচালক জর্জ এনটুইসেল ব্রিটিশ সংসদীয় কমিটির কাছে জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে ব্যাখ্যা দিতে তিনি মঙ্গলবার ব্রিটিশ সংসদের একটি কমিটির মুখোমুখি হন।
হাউজ অব কমনস এর সংস্কৃতি বিষয়ক কমিটির কাছে তিনি আরো দাবী করেছেন, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে ওই প্রতিবেদনের ব্যাপারে কোন চাপ তৈরী করা হয়নি।
এখন পর্যন্ত বিবিসি কর্মকর্তাদের যৌন হয়রানি বিষয়ক ন'টি ঘটনার তদন্ত চলছে।
তবে বিবিসির মহাপরিচালক সংসদীয় কমিটির কাছে জানিয়েছেন, সংস্থাটিতে এধরনের ঘটনা মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ছে এটি বলার মতো যথেষ্ট প্রমান এখনো পাওয়া যায়নি।
তবে তিনি স্বীকার করেছেন এই কেলেঙ্কারির জন্য বিবিসির বিশ্বাসযোগ্যতা কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছে।
বলা হচ্ছে যে, বিবিসির গত কয়েক দশকের ইতিহাসে প্রতিষ্ঠানটি এতো বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে কখনো পড়েনি।

বিবিসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে
সংবাদ মাধ্যমটির সাবেক এক তারকা উপস্থাপক জিমি সেভিলের বিরুদ্ধে ব্যাপক যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার পর প্রতিষ্ঠানটি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে।
মি এনটুইসেল বলেন, জিমি সেভিল যা করেছে এবং কয়েক বছর ধরে তাতে বিবিসির যে ভূমিকা ছিল, সেসব দেখে মনে হয়েছে বিবিসি যেনো জিমি সেভিলকে এসব করতে অনুমতি দিয়েছে এবং এর ফলে বিবিসির প্রতি আস্থা ও সুনাম যে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে সেটা নিয়ে তার কোন সন্দেহ নেই।
তিনি বলেন এতো দীর্ঘ সময় ধরে জিমি সেভিল যা কিছু করেছে এবং সেগুলো যে ধরা পড়েনি এটা খুবই ভয়ের একটা কারণ।
জিমি সেভিল ৮৪ বছর বয়সে গত বছর মারা গেছেন। পুলিশ বলছে, তার বিরুদ্ধে বহু যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠেছে যা চল্লিশ বছরে ধরে চলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অভিযোগ উঠেছে যে জিমি সেভিলের বিরুদ্ধে ওঠা শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ বিবিসি ধামাচাপা দিতে চেষ্টা করেছে। কিন্তু মি. এনটুইসেল এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এমপিদের দিক থেকে বিবিসি আক্রমণের মুখে পড়েছে কিন্তু কোন ব্যবস্থা নেওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানটি যেসব তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে, সংবাদদাতারা বলছেন, এমপিরা যেন তার জন্যে আরো কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে প্রস্তুত আছেন।


















