ঈদের বাজারে জাল নোটের ফাঁদ

  • ২৪ অক্টোবর ২০১২

ঈদের আগে ঢাকার পশুর হাটগুলোতে এই মূহুর্তে নগদে লেন-দেন হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। ক্রেতারা হাটে আসছেন ব্যাগ ভর্তি নোটের তাড়া নিয়ে। পশু কেনা-বেচার পর হাত বদল হয়ে তা যাচ্ছে বিক্রেতার কাছে।

নগদ অর্থের এই বিপুল লেন-দেনের মধ্যে কেউ যদি জাল নোট গুঁজে দেন তা ধরার উপায় আসলে কি? ঢাকার পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্য এটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঈদ বাজারকে সামনে রেখে জাল নোটের চক্র যে সক্রিয় হয়ে উঠেছে তাতে পুলিশের কোন সন্দেহ নেই। গত একমাসের পরিসংখ্যানই তার প্রমাণ।

গত একমাসেই তারা ঢাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় সাড়ে দশ কোটি জাল টাকা উদ্ধার করেছে।

বুধবার সকালে ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানিয়েছে, পনেরো লাখ টাকাসহ তিনজন জাল টাকা ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছেন তারা।

গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তা মশিউর রহমান জানালেন, নগরীর বিভিন্ন স্থানে কারখানা বসিয়ে একটি চক্র জাল টাকা তৈরী করে বাজারজাত করে। অনেকগুলো সফল অভিযানের পরও এখনো চক্রটি সক্রিয়।

জাল নোটসহ পুলিশের কাছে ধরা পড়েছেন এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা হচ্ছিল। শাহরুখ নামে একজন জানালেন, তারা প্রতি এক লাখ টাকার জাল নোট কেনেন দশ হাজার টাকায়। এর পর অল্প অল্প করে বাজারে সেই জাল নোট ছাড়েন।

ঈদের সময় নতুন টাকার নোট সাজিয়ে বসেন অনেকে গুলিস্তানে। কারণ ঈদ বকশিষ হিসেবে অনেকের পছন্দ নতুন নোট। এই নতুন নোটের পসারীদের মাধ্যমেও জাল নোট ছড়ানো হয় বলে একটা অভিযোগ আছে।

নতুন নোট বিক্রেতা নুরুল ইসলাম অবশ্য তা অস্বীকার করলেন। তিনি বললেন, ব্যাংক থেকে একজন ব্যক্তি বান্ডিল ধরে তার কাছে নতুন টাকা দিয়ে যায়। তাকে তিনি বিশ্বাস করেন বলে আর পরীক্ষা করার দরকার মনে করেন না।

ঢাকার গরুর হাটগুলোতে গত কয়েক বছর ধরে চালু করা হয়েছে জাল নোট সনাক্ত করার মেশিন।

আগারগাঁও গরুর হাটে একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা আলী আকবর মজুমদার জানালেন, তারা সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেশিন নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তার মতে, মানুষ এখন টাকা দেয়া আর নেয়ার বিষয়ে অনেক সচেতন হয়েছে। সবাই নিজেরা পরীক্ষা করে নেয়ার কারণেই তাদের কাছে জাল টাকার অভিযোগও আসছে অনেক কম।