BBC navigation

সুনীলের মৃত্যুতে শোকের ছায়া বাংলাদেশে

সর্বশেষ আপডেট মঙ্গলবার, 23 অক্টোবর, 2012 15:17 GMT 21:17 বাংলাদেশ সময়

বাংলা ভাষার জনপ্রিয় লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমেছে বাংলাদেশেও।

মঙ্গলবার সকালেই তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে ঢাকায়। অনেকে ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটে এই খবর পেয়েছেন। ঢাকার টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতেও সকাল থেকেই গুরুত্বের সঙ্গে প্রচারিত হয় তাঁর মৃত্যু সংবাদ।

তাহমিনা তানিয়া বেড়ে উঠেছেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের গল্প-উপন্যাস-কবিতা পড়ে। প্রিয় লেখকের আকস্মিক মৃত্যুর খবরে স্বাভাবিকভাবেই মুষড়ে পড়েছেন তিনি।

“ খবরটা শোনার পর থেকে আমার মনে হচ্ছিল কে যেন নেই। যিনি আমাকে এত কিছু শিখিয়েছেন, এত কিছু চিনিয়েছেন, মনে হচ্ছিল আমি তাঁকে হারিয়ে ফেললাম।”

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্ম বাংলাদেশে। কিন্তু দেশভাগের পর শেকড় ছিন্ন করে তাদের পরিবারকে চলে যেতে হয় কোলকাতায়। কিন্তু লেখালেখির মাধ্যমে ফেলে আসা জন্মভূমির মানুষের সঙ্গে এক নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন তিনি।

জন্মভূমির টানে বহুবার তিনি ফিরেও গেছেন বাংলাদেশে। এই আসা-যাওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের লেখক-শিল্পীদের সঙ্গেও গড়ে উঠেছিল ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

বাংলাদেশের লেখক হাসান আজিজুল হক বলছিলেন বন্ধুর প্রয়াণের খবরটি শুনে সকাল থেকেই তার ভীষণ বিষণ্ণ এবং ফাঁকা ফাঁকা লাগছে।

“তিনি ছিলেন সমকালীন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লেখক। এ নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। তাঁর লেখা ছিল ভীষণ সুখপাঠ্য। এটা যে কেবল তরুণ-তরুণীদের টানতো তা নয়, সাহিত্যের সিরিয়াস পাঠকরাও তার লেখা পড়ে প্রচুর আনন্দ পেয়েছেন।”

বাংলাদেশে পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করায় এক সময় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের বইয়ের পাইরেটেড সংস্করণ সংস্করণ বেরুতো ঢাকায়। পরে অবশ্য ঢাকার অনেক প্রকাশকও তাঁর বই প্রকাশ করেছেন।

এদিকে তাঁর মৃত্যুর খবরে শোকাহত পৈতৃক বাড়ি মাদারিপুরের লোকজনও । ২০০৮ সালে শেষবার তিনি সেখানে গিয়েছিলেন । সেসময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় নাট্যকর্মী আ জ ম কামাল। তিনি বলছিলেন, এত বড় নামী লেখক হওয়ার পরও মানুষ কতটা নিরংহকারী হতে পারেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ছিলেন তাঁর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

উনি এত বড় একজন সাহিত্যিক, কিন্তু তাঁর মধ্যে দম্ভ বলে কোন ব্যাপার কখনো দেখিনি।”

হাসান আজিজুল হক মনে করেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের এই চলে যাওয়া অকাল মৃত্যু না হলেও সাহিত্য জগতে বিশাল শূন্যতা তৈরি করলো। এমন প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশের লেখক, সাহিত্যিক, পাঠক সবার মাঝেই।

তাই গণমাধ্যমের খবরে শুধু নয়; সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতেও তাঁর মৃত্যুর খবরে অনুরাগী পাঠকরা প্রকাশ করছেন বিষাদ-মাখা প্রতিক্রিয়া।

সম্পর্কিত বিষয়

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻