BBC navigation

নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

সর্বশেষ আপডেট শুক্রবার, 12 অক্টোবর, 2012 12:23 GMT 18:23 বাংলাদেশ সময়
eu

ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য ২০১২-র নোবেল শান্তি পুরস্কার

এ বছরে শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কার পেয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

নরওয়েতে নোবেল কমিটির প্রেসিডেন্ট থরবিয়ন ইয়াগল্যান্ড বলেছেন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার রক্ষা এবং সমঝোতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গত ছয় দশকে ইইউর ভূমিকার জন্যই তাদের এই পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যেভাবে ইউরোপের পুনর্গঠনে সহায়তা করে এবং ১৯৮৯ সালে বার্লিন দেয়ালের পতনের পর যে ভূমিকা পালন করে, নোবেল কমিটি তারও প্রশংসা করে।

কমিটি বলেছে ''যুদ্ধ-বিধ্বস্ত এক মহাদেশকে শান্তির এক মহাদেশে রূপান্তর'' করতে সহায়তা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান জোসে ম্যানুয়েল বারোসো এই পুরস্কারকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৫০ কোটি মানুষের জন্য এক বিরাট সম্মান বলে উল্লেখ করেছেন।

তবে ইইউর জন্য এই পুরস্কার এসেছে এমন একটা সময়ে যখন ইইউ তার ইতিহাসের চরম অর্থনৈতিক এক সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।

ইইউর বেশ কিছু সদস্য রাষ্ট্র এই মূহুর্তে মন্দাবস্থা ও তার ফলশ্রুতিতে সামাজিক অস্থিরতায় জর্জরিত।

পুরস্কার ঘোষণার সময় কমিটির প্রেসিডেন্ট মিঃ ইয়াগল্যান্ড ইইউর বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের উল্লেখ করেন। তবে তিনি বলেন ইইউকে এই পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করার ক্ষেত্রে তারা বিগত ছয় দশকে ইউরোপে শান্তি ও সমঝোতা প্রতিষ্ঠা এবং গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সুরক্ষায় এই সংস্থার ভূমিকাকেই আমলে নিয়েছেন।

jose manuel barroso

ইইউ নোবেল শান্তি পুরস্কার পাবার পর ইইউ সদর দপ্তরে ভাষণ দেন মিঃ বারোসো

ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সংঘাত এড়াতে জন্ম হয়েছিল এই ইউনিয়নের।

তিনি বলেছেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী দশকগুলোতে ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যে আপোষ গড়ে তুলতে ইইউ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

১৯৭০-এর দশকে স্পেন, পর্তুগাল ও গ্রিসে স্বৈরতন্ত্রের পতনের পর তাদের এই গোষ্ঠির অর্ন্তভূক্ত করার বিষয়টিকেও প্রশংসা করেন নোবেল কমিটির প্রধান তাঁর ভাষণে।

তিনি বলেন ইইউর সমঝোতা কার্যক্রমের পরিধি বর্তমানে বিস্তৃত হয়েছে বলকান রাষ্ট্রগুলোতে, এবং ক্রোয়েশিয়াকে ইইউর সদস্য রাষ্ট্রের মর্যাদা দেবার প্রক্রিয়া চলছে।

বলা হয় পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোকে ইইউ তার বলয়ে অর্ন্তভূক্ত করার মধ্যে দিয়ে সাবেক ইয়ুগোশ্লাভিয়ার মত সংঘাত এড়ানোর ক্ষেতেও একটা ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে।

তবে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অর্থনৈতিক সমস্যা সামাল দিতে ইইউর বর্তমান নাজেহাল অবস্থার পটভূমিতে এই শান্তি পুরস্কার নানা মহলে বির্তকেরও জন্ম দিয়েছে।

এই সংকটের কারণে গ্রিস, আর্য়াল্যান্ড এবং পর্তুগালের মত দেশের জনগণ এখন ইইউকে শান্তিরক্ষার দূত হিসাবে দেখে না, বরং তাদের বক্তব্য সাহায্যের বদলে ইইউ তাদের দেশের ওপর কঠোর ব্যয়সঙ্কোচ নীতি চাপিয়ে দিয়েছে।

খোদ নরওয়েতে সমালোচকরা বলেছেন ইইউ এখন শান্তির বদলে অস্থিতিশীলতা তৈরি করেছে তাই তাদের নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া রীতিমত অযৌক্তিক।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান জোসে ম্যানুয়েল বারোসো বলেছেন সমগ্র ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য - এর ৫০ কোটি জনগণের জন্য এই নোবেল শান্তি পুরস্কার এক বিশাল সম্মান।

সম্পর্কিত বিষয়

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻