BBC navigation

ঘটনা তদন্তে বিচারবিভাগীয় কমিশন গঠনের দাবি

সর্বশেষ আপডেট শনিবার, 13 অক্টোবর, 2012 18:15 GMT 00:15 বাংলাদেশ সময়
ramu buddhist

রামুর হামলায় বিধ্বস্ত বৌদ্ধ মন্দির

বাংলাদেশে বৌদ্ধদের মন্দির ও সম্পত্তিতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সরকারকে দায়ী করে প্রধান বিরোধীদল বিএনপি ঘটনা তদন্তে বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছে।

এদিকে, নাগরিকদের একটি প্রতিনিধিদল রামুর ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বলেছে, ঐ ঘটনা ছিল সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস এবং বার্মায় রোহিঙ্গাদের ওপর হামলার প্রতিশোধ নিতে এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।

ঐ প্রতিনিধিদলটিও বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছে, তবে আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করেন, বর্তমান অবস্থায় প্রশাসনিক তদন্তই যথেষ্ট।

বিএনপির তদন্ত কমিটি রামু, উখিয়া, পটিয়া ও টেকনাফে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধংসপ্রাপ্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো পরিদর্শন শেষে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

ঐ তদন্ত দলের প্রধান ছিলেন দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ।

সংবাদ সম্মেলনে ৬৭ পাতার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে মওদুদ আহমদ বলেন, তাঁরা তিনটি বিষয় আক্রান্ত সবগুলো এলাকায় শনাক্ত করেছেন আর এগুলো হলো, প্রথমত, হামলার সময় সরকারি প্রশাসন যন্ত্রের অনুপস্থিতি, দ্বিতীয়ত পাথরের ব্লকের ব্যবহার ও পাউডার ব্যবহার করে আগুন ধরানো, যা প্রমাণ করে আক্রমণগুলো ছিল পরিকল্পিত, এবং তৃতীয়ত, বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষকে নিরাপত্তাহীনতায় ঠেলে দেওয়া।

এসব কারণে মওদুদ আহমদ মনে করেন, ঘটনার জন্যে সরকার দায়ী।

"প্রধানমন্ত্রী যেখানেই থাকুন না কেন, তাকে জানানো হয়নি এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। কিন্তু তাঁরা কোন অ্যাকশন নেননি।"

মওদুদ আহমেদ, বিএনপি নেতা

তিনি বলেন, এই ঘটনা সরকারের মদতে ঘটেছে। কেউ বলতে পারবেন না, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই মর্মান্তিক আক্রমণের কথা জানতেন না।

“প্রধানমন্ত্রী যেখানেই থাকুন না কেন, তাকে জানানো হয়নি এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। কিন্তু তাঁরা কোন অ্যাকশন নেননি।”

তিনি বলেন ঘটনাস্থল থেকে থানা ছিল মাত্র আধা কিলোমিটার দূরে। আঠারো কিলোমিটার দূর হলো কক্স’সবাজার জেলা সদর। আর সেনাবাহিনীর ক্যাম্প আছে চার কিলোমিটারের মধ্যে। কিন্তু একটা মানুষ তাদের জন্যে গেল না?

বিএনপির তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের দিনই ঢাকায় নাগরিক প্রতিনিধিদলের একটি তদন্ত প্রতিবেদনও প্রকাশ করা হয়েছে।

পনের-সদস্যের এই দলটি আক্রান্ত এলাকাগুলো ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করে এবং এদের নেতৃত্বে ছিলেন লেখক-কলামনিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ।

তদন্ত রিপোর্টটি প্রকাশ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রোবায়েত ফেরদৌস। তিনি বলেন, রামু এলাকায় সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বৌদ্ধদের সঙ্গে মুসলমানদের কোন ব্যক্তিগত সংঘাত ছিল না। সম্প্রতি মিয়ানমার বা বার্মায় রোহিঙ্গা মুসলমানদের যে হামলা হয়েছে, তারই একটি বিলম্বিত প্রতিক্রিয়া হিসেবে এটিকে দেখার যথেষ্ট কারণ আছে বলে স্থানীয়রা মনে করেন।

“এর পাশাপাশি আমরা কতগুলো এনজিও তৎপরতার খবর পেয়েছি। রোহিঙ্গা, পেছনে জামায়াতকে নিয়ে সাম্প্রদায়িক ক্ষোভটাকে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের দিয়ে ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছে।“

কক্স’সবাজার ও চট্টগ্রামে বৌদ্ধদের ওপর হামলার পর প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো একে অপরের ওপর দোষ চাপিয়েছে। আবার সবাই-ই তাদের বিপক্ষে করা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

"এই মূহুর্তে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কী কারণে করতে হবে? এর কোন প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না এই মূহুর্তে।"

মাহবুবুল আলম হানিফ, আওয়ামী লীগ নেতা

বিএনপি মনে করে বৌদ্ধ মন্দির ও সম্পত্তি ধংসের জন্যে দায়ীদের খুঁজে বের করতে একজন সিনিয়র অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে একটি বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন করা দরকার।

আর নাগরিক প্রতিনিধিদলের দাবি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন।

তবে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবুল আলম হানিফ এসব দাবি নাকচ করে দেন।

তিনি বলেন, প্রশাসনিকভাবে তদন্ত চলছে এবং এতে ছাত্র শিবির ও জামায়াতের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। স্থানীয় সাংসদ ঘটনার সময়ে উপস্থিত ছিলেন, তাঁর সংশ্লিষ্টতা কতটুকু ছিল তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

“এই মূহুর্তে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কী কারণে করতে হবে? এর কোন প্রয়োজন আছে বলে মনে করিনা এই মূহুর্তে।“

মিঃ হানিফ অবশ্য এও বলেন যে সরকারী তদন্তে যদি দোষীদের ঠিক মত সনাক্ত করা না যায়, তাহলে সেক্ষেত্রে বিকল্প চিন্তা করা যেতে পারে।

সম্পর্কিত বিষয়

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻