BBC navigation

বুদ্ধিজীবী হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন পেশ

সর্বশেষ আপডেট বৃহষ্পতিবার, 11 অক্টোবর, 2012 16:18 GMT 22:18 বাংলাদেশ সময়
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত

বাংলাদেশে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের শেষভাগে বুদ্ধিজীবী হত্যার অভিযোগে দু'ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক মানবতাবিরোধী আদালতের কৌঁসুলিদের কাছে জমা দিয়েছে তদন্ত দল।

কৌঁসুলিরা বলছেন, প্রতিবেদনে অভিযুক্ত চৌধুরী মুঈন-উদ্দিন এবং মো. আশরাফুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে হত্যাকান্ডসহ মোট ১৮টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ দু'জনই দীর্ঘদিন যাবত দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।

ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে এর আগে স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অন্তত নয় জনকে অভিযুক্ত করা হলেও এই প্রথমবারের মতো শুধুমাত্র বুদ্ধিজীবী হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত দু'জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া হলো।

কৌঁসুলিরা বলছেন, যুদ্ধের সময়টাতে এ দু'জনই আধা-সামরিক বাহিনী আল-বদরের সদস্য ছিলেন এবং ১৯৭১ সালের ১০ থেকে ১৪ই ডিসেম্বর পর্যন্ত বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ডের ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকাই মূল ছিল বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

"সুপরিকল্পিতভাবে চৌধুরী মুঈন-উদ্দিন এবং আশরাফুজ্জামান খানসহ তারা প্রথিতযশা ন'জন অধ্যাপক, ছ'জন প্রখ্যাত সাংবাদিক এবং তিনজন বিশিষ্ট চিকিৎসককে অপহরণ করে মোহাম্মদপুরে শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে নির্যাতন করে এবং পরে রায়েরবাজারের বধ্যভূমিতে নিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে," বলেন বাদি পক্ষের কৌঁসুলি নুরজাহান বেগম মুক্তা।

এদের মধ্যে চৌধুরী মুঈন-উদ্দিন বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন এবং তিনি সেখানকার একটি আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা মুসলিম এইডসহ বেশ ক'টি সংস্থার সাথে যুক্ত রয়েছেন।

১৯৭১ সালে তিনি 'পূর্বদেশ' নামের একটি পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

আর অপর অভিযুক্ত আশরাফুজ্জামান খান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন বলে তদন্ত দল জানতে পেরেছে।

ট্রাইবুনালের কৌঁসুলি একেএম সাইফুল ইসলাম জানান, তদন্ত প্রতিবেদনে বুদ্ধিজীবী হত্যার ক্ষেত্রে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চৌধুরী মুঈন-উদ্দিন এবং প্রধান হত্যাকারী হিসেবে মো. আশরাফুজ্জামান খানকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

"আল-বদরের একই দলে তারা কাজ করেছেন। চৌধুরী মঈনুদ্দিন ছিলেন দলের প্রধান, আর আশরাফুজ্জামান খান ছিলেন প্রিন্সিপাল এক্সিকিউটর," বলেন মি. ইসলাম।

কৌঁসুলিরা বলছেন, এখন তারা এই তদন্ত প্রতিবেদন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবেন এবং এরপর অভিযোগ গঠনের জন্য তাদের আবেদন আদালতের কাছে পেশ করবেন।

তবে ব্রিটেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের কোন বন্দী প্রত্যার্পণ চুক্তি নেই।

কৌঁসুলি বলছেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি নির্ভর করবে সরকারের ওপর। তবে আইনগতভাবে সেটি সম্ভব বলেই তারা মনে করছেন।

তারা আশা করছেন, মাসখানেকের মধ্যেই তারা তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আদালতের কাছে পেশ করতে পারবেন ।

তবে অভিযোগ গঠন হলেও যদি আসামিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব না হয়, তবে ট্রাইবুনালের আইন অনুসারে তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচারকাজ শুরু হতে পারে।

একই ধরনের খবর

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻