BBC navigation

সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যাখ্যা ভ্রান্ত : বিশ্ব ব্যাঙ্ক

সর্বশেষ আপডেট বুধবার, 26 সেপ্টেম্বর, 2012 11:24 GMT 17:24 বাংলাদেশ সময়
bangla_padma_world_bank

বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে বিশ্ব ব্যাঙ্কের পদ্মা সেতু অর্থায়নের চুক্তি সই (ফাইল ছবি)

বহুল আলোচিত পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্ব ব্যাঙ্কের অবস্থান কী, সে বিষয়ে বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ভ্রান্ত ব্যাখ্যা উপস্থাপন করা হচ্ছে বলে বিশ্ব ব্যাঙ্ক আবারও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছে।

ওয়াশিংটনে সংস্থার সদর দফতর থেকে গতকাল জারি করা এক বিবৃতিতে বিশ্ব ব্যাঙ্ক বলেছে, এই সব ভ্রান্ত ব্যাখ্যা উপস্থাপিত হওয়ার কারণেই তারা মনে করছে বিষয়টি নিয়ে তাদের পক্ষ থেকে সঠিক ব্যাখ্যা দেওয়াটা জরুরি।

ওই বিবৃতিতে বিশ্ব ব্যাঙ্ক বলেছে পদ্মা সেতু প্রকল্পে সরকারি ব্যক্তিবর্গ ও কর্মকর্তাদের দুর্নীতিতে জড়িত থাকার বিশ্বাসযোগ্য তথ্য-প্রমাণ সরকারকে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু বাংলাদেশ সরকার তাতে যথাযথ সাড়া না-দেওয়াতেই অর্থায়ন চুক্তি বাতিল করা হয়।

কিন্তু ২০শে সেপ্টেম্বর সরকারের কাছ থেকে নির্দিষ্ট তিনটি বিষয়ে স্পষ্ট প্রতিশ্রতি পেয়েই যে বিশ্ব ব্যাঙ্ক আবার এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হতে রাজি হয়েছে, বিবৃতিতে সে কথা মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

"তিনটি পদক্ষেপের সন্তোষজনক বাস্তবায়ন হলে এবং এক্সটারনাল প্যানেলের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিবেদন পেলে তবেই আমরা পদ্মা সেতু প্রকল্পের অর্থায়নে অগ্রসর হব"

বিশ্ব ব্যাঙ্কের ২৫শে সেপ্টেম্বরের বিবৃতি

এই তিনটি প্রতিশ্রুতির প্রথমটি হল, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত সব সন্দেহভাজন সরকারি কর্মকর্তাকে তদন্ত শেষ না-হওয়া পর্যন্ত ছুটিতে পাঠানো হবে।

দ্বিতীয় প্রতিশ্রুতিটি হল, এই অভিযোগের তদন্তে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন একটি বিশেষ তদন্ত পরিচালনা করবে ও আইনি দল গঠন করবে।

এছাড়া আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত একটি এক্সটারনাল প্যানেল এই তদন্তের ব্যাপারে সব তথ্য জানতে পারবে এবং তদন্ত সুষ্ঠু হচ্ছে কি না, সেটাও বিশ্ব ব্যাঙ্ক-সহ অন্য সহযোগীদের জানাতে পারবে – এটাই ছিল তৃতীয় তথা শেষ প্রতিশ্রুতি।

বিশ্ব ব্যাঙ্ক এদিনের বিবৃতিতে এটা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে পদ্মা সেতু প্রকল্পে তাদের ‘প্রত্যাবর্তন’ কিন্তু অবশ্যই শর্তাধীন।

syed_abul_hossain

দুর্নীতির অভিযোগের মুখে মন্ত্রিসভা থেকে সরতে হয়েছে সৈয়দ আবুল হোসেনকে

উপরোক্ত প্রতিশ্রুতিগুলো সন্তোষজনকভাবে বাস্তবায়ন করা হলে এবং এক্সটারনাল প্যানেলের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিবদেন পেলে তবেই যে বিশ্ব ব্যাঙ্ক প্রকল্পের অর্থায়নে অগ্রসর হবে – নতুন এই বিবৃতিতে সে কথা বলা হয়েছে পরিষ্কারভাবেই।

বিশ্ব ব্যাঙ্কের এই বিবৃতি বাংলাদেশ সরকারের জন্য নতুন করে আবারও একদফা অস্বস্তি ডেকে আনবে বলেই মনে করা হচ্ছে – কারণ এক্ষেত্রে সরকারের কর্মকর্তারা ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছেন বলেই প্রকারান্তরে অভিযোগ তোলা হয়েছে।

পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, গত সপ্তাহে পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্ব ব্যাঙ্কের ‘প্রত্যাবর্তনে’র পর বাংলাদেশের কোনও কোনও সরকারি মহল থেকে যেভাবে বলার চেষ্টা হচ্ছিল যে কথিত দুর্নীতির কোনও প্রমাণ না-মেলাতেই তারা আবার ফিরে এসেছে – তার জবাবেই বিশ্ব ব্যাঙ্ক এই বিবৃতি জারি করল!

সম্পর্কিত বিষয়

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻