BBC navigation

পদ্মা সেতু প্রকল্পে ফেরার ঘোষণা বিশ্ব ব্যাংকের

সর্বশেষ আপডেট শুক্রবার, 21 সেপ্টেম্বর, 2012 15:46 GMT 21:46 বাংলাদেশ সময়
padma bridge

পদ্মা সেতু প্রকল্পে ফিরে আসার ঘোষণা দেওয়া হয় বিশ্ব ব্যাংকের সদরদপ্তর থেকে

বাংলাদেশের পদ্মা সেতু প্রকল্পে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে বিশ্ব ব্যাংক।

সংস্থাটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার দুর্নীতির প্রমাণের ব্যাপারে সন্তোষজনক পদক্ষেপ নেয়ায় বিশ্ব ব্যাংক পদ্মা সেতু প্রকল্পে নতুন করে নিজেকে সংশ্লিষ্ট করতে রাজি হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, আজ বাংলাদেশের জন্যে অত্যন্ত খুশির দিন।

তবে তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি যে ১২০ বিশ কোটি মার্কিন ডলারের জন্যে বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে নতুন করে চুক্তি করতে হবে, নাকি পুরনো চুক্তিটিই বহাল হবে।

পদ্মা সেতু প্রকল্পে ফিরে আসার ঘোষণাটি দেয়া হয় ওয়াশিংটনে বিশ্ব ব্যাংকের সদরদপ্তর থেকে।

ঐ ঘোষণায় বলা হয়, পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ দেয়ার পর বিশ্ব ব্যাংক যে চারটি পদক্ষেপ নিতে বাংলাদেশকে বলেছিল, সেগুলো পূরণ করে সরকার অর্থায়নের ব্যাপারটি পুর্নবিবেচনা করতে অনুরোধ জানায়।

এরই মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্ব ব্যাংকের শনাক্ত করা দুর্নীতির প্রমাণের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া শুরু করেছে বলে সংস্থাটি জানায়।

বিশ্ব ব্যাংক বলছে, একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্ত প্রক্রিয়া এখন চলছে এবং দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত সেতু প্রকল্পের সকল সরকারি কর্মী ও কর্মকর্তাকে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ছুটিতে পাঠানো হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বিশ্ব ব্যাংকের শর্ত নিয়ে কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেন, যত দ্রুত সম্ভব কাজ শুরু করাই সরকারের লক্ষ্য।

তিনি বলেন, আমি সবসময় চেয়েছি বিশ্ব ব্যাংক ফিরে আসুক, তাহলে বাংলাদেশকে যে বদনাম দেয়া হয়েছে, তা যে সঠিক নয় তা প্রমাণিত হবে। অবশেষে প্রকল্পটি চালু হলো, যদিও একটি বছর হারানোর কারণে খরচ বাড়বে।

আবুল মাল আব্দুল মুহিত

আবুল মাল আব্দুল মুহিত

“আমার এখন আশা হলো, এই প্রকল্পের মূল কাজ যেন আমরা ফেব্রুয়ারির মধ্যে শুরু করতে পারি।“

বিশ্ব ব্যাংক অবশ্য জানিয়েছে যে পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজ নতুন করে বাস্তবায়ন করতে বাংলাদেশ সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নিতে রাজি হয়েছে।

"আমার এখন আশা হলো, এই প্রকল্পের মূল কাজ যেন আমরা ফেব্রুয়ারির মধ্যে শুরু করতে পারি।"

আবুল মাল আব্দুল মুহিত, বাংলাদেশ অর্থমন্ত্রী

এসব পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে দুর্নীতিমুক্তভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সেতু নির্মাণের জন্যে কেনাকাটায় নজরদারি বাড়িয়ে একটি নতুন ব্যবস্থা নেয়া; পূর্ণ, স্বচ্ছ ও দ্রুত তদন্ত, এবং সরকারের বাইরে একটি স্বাধীন প্যানেলের মাধ্যমে তদন্ত পর্যালোচনা করা এবং তাদের রিপোর্ট সরকার ও বিশ্ব ব্যাংকের কাছে পেশ করা।

বিশ্ব ব্যাংক জানিয়েছে, পদ্মা সেতু প্রকল্পে তারা নতুনভাবে সংশ্লিষ্ট হবে, তবে ভবিষ্যতে কড়া নজর রাখা হবে দুর্নীতি আর অনিয়মের ব্যাপারেও।

কিন্তু বিশ্ব ব্যাংক কীভাবে আবার এই প্রকল্পে সংযুক্ত হচ্ছে, তা জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, যেহেতু তাঁরা ঋণচুক্তি বাতিল করেছে, তাই কীভাবে এটি নবায়ন করা হবে, সেটি হবে তাদের ব্যাপার।

কিন্তু নতুন করে চুক্তি করতে হবে কিনা, তা জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন যে তিনি এখনো এ ব্যাপারে নিশ্চিত নন। তবে তাঁর ধারণা নতুন করে চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে না।

“অবশ্য এটি সম্ভবত বিশ্বব্যাংকের জন্যেও একটি নতুন অভিজ্ঞতা যে এরকম বাতিল হওয়া একটি প্রকল্পকে আবারো পুর্নবহাল করা। যেহেতু এখনো জানিনা, তাই এ নিয়ে মন্তব্য করা উচিত হবে না।“

প্রায় ৩০০ কোটি মার্কিন ডলারের পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্ব ব্যাংক এককভাবে সবচেয়ে বেশি অর্থ দিতে রাজি হয়েছিল।

কিন্তু দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে সংস্থাটি গত ২৯শে জুন ঋণচুক্তি বাতিল করে।

সরকার একদিকে বিকল্প অর্থায়নের চেষ্টা করে, অন্যদিকে বিশ্ব ব্যাংকের শর্ত মেনে পদত্যাগ করেন সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, আর প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ডঃ মসিউর রহমানকে পদ্মাসেতু প্রকল্প থেকে সরিয়ে দেয়া হয়।

মিঃ মুহিত বলেন, বিশ্ব ব্যাংকের সাথে বিস্তারিতভাবে কী আলোচনা হয়েছে, তা তিনি জানতে পারবেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ডঃ গওহর রিজভী দেশে ফেরার পর।

সৈয়দ আবুল হোসেন

বিশ্ব ব্যাংকের শর্ত মেনে পদত্যাগ করেন সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন

তবে অন্যান্য দাতা সংস্থাগুলো দ্রুত কাজ শুরু করবে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক, এডিবি, জাইকা, আইডিবি সবাই ব্যস্ত হয়ে যাবে।

“এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে আমাকে যে অতিরিক্তি উদ্যোগ নিতে হতো অন্যভাবে করলে, সেটা করতে হবে না। অর্থাৎ অর্থনীতির গতি অব্যাহত থাকবে, যেভাবে চলছে, সেভাবে চলবে।“

অর্থমন্ত্রী জানান, বিশ্ব ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা আগামী দু’চারদিনের মধ্যে বাংলাদেশে আসবেন সরকারের সঙ্গে আলোচনা করতে।

অন্যদিকে, বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে সর্বশেষ দফায় আলোচনায় নেতৃত্ব দেয়া ডঃ গওহর রিজভী দেশে ফেরার পর দাতা সংস্থাটির সাথে পৌঁছন সমঝোতার বিষয়ে তিনি গণমাধ্যমে বিস্তারিত জানাবেন।

পদ্মা সেতু প্রকল্পে অন্য দাতারা হলো, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক বা এডিবি, জাপানি প্রতিষ্ঠান জাইকা এবং ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক বা আইডিবি। বিশ্ব ব্যাংক ঋণ বাতিল করলেও অন্যান্য দাতা সংস্থাগুলো সময় বাড়িয়ে তাদের অর্থায়ন বহাল রেখেছিল।

সরকার বিকল্প অর্থায়নের যে চেষ্টা করেছিল, সেক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি চেষ্টা ছিল মালয়েশিয়ার কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের। কিন্তু কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন যে এ ক্ষেত্রে সেতু নির্মাণে তুলনামূলকভাবে বেশি খরচ পড়তো।

আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৩ সালে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে এখন এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা নতুন করে ঠিক করতে হবে।

একই ধরনের খবর

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻