BBC navigation

চীনে কয়েকটি জাপানি কোম্পানির কার্যক্রম স্থগিত

সর্বশেষ আপডেট সোমবার, 17 সেপ্টেম্বর, 2012 13:28 GMT 19:28 বাংলাদেশ সময়
চীনে জাপান-বিরোধী বিক্ষোভ

চীনে জাপান-বিরোধী বিক্ষোভ


বিরোধপূর্ণ কিছু দ্বীপের মালিকানা নিয়ে এশিয়ার দুই অর্থনৈতিক শক্তি জাপান ও চীনের মধ্যে বৈরিতা দিন দিন বাড়ছে।

গত ক’দিন ধরে চীন জুড়ে জাপান-বিরোধী বিক্ষোভের মাঝে ক্যানন বা প্যানাসনিকের মতো শীর্ষস্থানীয় কিছু জাপানি কোম্পানি চীনে তাদের কার্যক্রম স্থগিত করেছে।

অন্যদিকে, এই উত্তেজনার মাঝে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিওন পানেত্তা টোকিওতে গিয়ে জাপানে একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপনের বিষয়ে জাপান সরকারের সাথে সমঝোতা করেছেন।

অনেক পর্যবেক্ষক মনে করছেন, এই সমঝোতা আগুনে ঘি ঢালার মতো কাজ করবে।

এই সংকটের মূল কারণ পূর্ব চীন সাগরে সেনকাকু নামে একটি দ্বীপপুঞ্জ- যা এতদিন বেসরকারি মালিকানায়ই ছিল - কিন্তু চীন এবং তাইওয়ান উভয়েই এই দ্বীপগুলো তাদের বলে দাবি করে থাকে।

"আমি আশা করি চীনারা জাপানি পণ্য কিনবে না, বরং জাপানিরাই চীনা পণ্য কিনবে। আমি জাপানিদের উদ্দেশে বলতে চাই, আমাদের ভূমি দখল করতে যেন তারা না আসে।"

একজন চীনা বিক্ষোভকারী

সম্প্রতি জাপান সরকার সেগুলো কিনে নেবার এক চুক্তি করার পর থেকেই চীনে শুরু হয়েছে জাপান-বিরোধী বিক্ষোভ।

জাপানি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ও কারখানার ওপর হামলা-ভাঙচুরও হয়েছে।

প্যানাসনিক আর ক্যাননের মতো নামী কোম্পানি দুটি আক্রমণের ঘটনার পর তাদের কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে।

জাপানি রেস্তোরাঁ এবং জাপানি গাড়ির ওপরও আক্রমণ চালানো হয়েছে।

চীন ও জাপান - দুটো দেশই এই দ্বীপের মালিকানা দাবি করছে

চীন ও জাপান - দুটো দেশই এই দ্বীপগুলোর মালিকানা দাবি করছে

দেং শিয়াও দং নামে একজন চীনা বিক্ষোভকারী বলেছেন, ‘আমি আশা করি চীনারা জাপানি পণ্য কিনবে না, বরং জাপানিরাই চীনা পণ্য কিনবে। আমি জাপানিদের উদ্দেশে বলতে চাই, আমাদের ভূমি দখল করতে যেন তারা না আসে।‘

চীন এবং জাপানের মধ্যেকার এই বৈরিতার ইতিহাস দীর্ঘ এবং গভীর - তার ওপর মঙ্গলবার ১৯৩০ সালে উত্তরপূর্ব চীনে জাপানের দখলদারির বার্ষিকী।

এই দিন আরও বিক্ষোভ হতে পারে এ নিয়ে জাপান ইতোমধ্যেই চীনে অবস্থানরত তার নাগরিকদের সতর্ক করে দিয়েছে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী চীনে অবস্থানরত জাপানিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

বিরোধপূর্ণ একটি দ্বীপে জাপানিরা তাদের পতাকা উড়িয়েছে

বিরোধপূর্ণ একটি দ্বীপে জাপানিরা তাদের পতাকা উড়িয়েছে

তবে চীনের সরকারি দৈনিক পিপলস ডেইলি বলেছে, জাপান তাদের ভাষায় উস্কানিমূলক আচরণ বন্ধ না করলে এ জন্য তাদের অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।

"চীনের পঞ্চাশটি শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। এ থেকে বিক্ষোভের ব্যাপকতা কতটা এবং চীনের লোকদের মধ্যে জাপান-বিরোধী মানসিকতা কত প্রবল তার একটা ধারণা পাওয়া যায়"

মার্টিন পেশেন্স, বিবিসি সংবাদদাতা

বিবিসির সংবাদদাতা মার্টিন পেশেন্স বলছেন, চীনের পঞ্চাশটি শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। এ থেকে বিক্ষোভের ব্যাপকতা কতটা এবং চীনের লোকদের মধ্যে জাপান-বিরোধী মানসিকতা কত প্রবল তার একটা ধারণা পাওয়া যায়।

এর পেছনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় চীনের ভেতরে জাপানের চালানো নৃশংসতা অবশ্যই একটা কারণ, তাছাড়াও চীনের ছেলেমেয়েদের স্কুলে যা শেখানো হয় তারও একটা ভূমিকা রয়েছে।

তিনি বলেন, এই বিক্ষোভ যে হতে পারছে তাতেই বোঝা যায় এ ব্যাপারে চীনা সরকারের প্রচ্ছন্ন অনুমোদন রয়েছে। তবে কি ভাবে এ সমস্যার সমাধান হবে তা বলা কঠিন কারণ বেইজিং এবং টোকিও - উভয় পক্ষই এখনো ওই দ্বীপগুলোর ব্যাপারে অনড় অবস্থানেই রয়েছে।

এই দ্বীপটি সমুদ্রে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থানে যেমন রয়েছে, তেমনি এখানে প্রচুর তেল ও গ্যাসের মজুত রয়েছে বলে মনে করা হয়।

ফলে দ্বীপটির ওপর সার্বভৌমত্বের দাবি কোন পক্ষই ছাড়তে চায় না। কিন্তু এ নিয়ে যেমনটা ইতিমধ্যেই আশংকা করা হচ্ছে যে চীন ও জাপানের মধ্যে একটা যুদ্ধাবস্থা তৈরি হতে পারে - তার সম্ভাবনা কতোখানি?

চীনের একটি সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জা শো দং বলছেন, জাপানের পদক্ষেপ চীনা জনগণের মধ্যে ক্রোধ সৃষ্টি করেছে।

তবে চীন ও জাপানের মধ্যে কোন যুদ্ধের সম্ভাবনা এখনো দেখছি না। কারণ সে ক্ষেত্রে অনেক রকমের ঝুঁকি রয়েছে। অবশ্য সংঘাতের সম্ভাবনা দেখা দেবে যদি জাপান এমন কিছু করে যা চীনের জনগণকে আরও বেশি উসকে দিতে পারে।

চীন ও তাইওয়ানের পতাকাবাহী বিক্ষোভকারীদের গ্রেফতার করেছে জাপানি পুলিশ

চীন ও তাইওয়ানের পতাকাবাহী বিক্ষোভকারীদের গ্রেফতার করেছে জাপানি পুলিশ

এই সংকট ইতোমধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নজর কেড়েছে এবং মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিওন পানেত্তা এখন জাপান সফর করছেন।

তিনি উভয়পক্ষকেই সংযম প্রদর্শনের আহবান জানিয়েছেন, তবে জাপান এবং যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে দ্বিতীয় একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য একমত হয়েছে - যা হবে জাপানের মাটিতে - তা নিয়ে চীন ইতিমধ্যেই তার সংশয় প্রকাশ করেছে।

তবে লিওন পানেত্তা বলছেন, উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য আক্রমণ থেকে জাপানকে রক্ষা করাটাই এর লক্ষ্য।

কিন্তু চীন এ কথায় সন্তুষ্ট নয়। বিবিসির বিশ্লেষক রুপার্ট উইংফিল্ড হেইজ বলছেন, ওয়াশিংটন আর টোকিও যতই বলুক যে ওই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার লক্ষ্যবস্তু চীন নয়।

কিন্তু সামরিক বিশ্লেষকদের মত হলো, ওই ব্যবস্থা দিয়ে শুধু উত্তর কোরিয়া নয় চীনের ক্ষেপণাস্ত্রও দরকার হলে মোকাবিলা করা যাবে।

আর সেকারণেই চীন এ ব্যাপারে ক্রুদ্ধ আপত্তি তুলবে তা একরকম নিশ্চিত। তা ছাড়া লিওন পানেত্তা এই নতুন ঘোষণা দিলেন জাপানের মাটিতে বসে এবং এমন সময় যখন চীন-জাপান উত্তেজনা চরমে যা অত্যন্ত অর্থপূর্ণ বলে বিবিসির বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

সম্পর্কিত বিষয়

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻