bbc.co.uk navigation

ফক্স টিভিতে বন্দী পাকিস্তানী ডাক্তারের সাক্ষাৎকার নিয়ে হৈচৈ

সর্বশেষ আপডেট মঙ্গলবার, 11 সেপ্টেম্বর, 2012 14:33 GMT 20:33 বাংলাদেশ সময়

বিন লাদেনকে ধরিয়ে দিতে সহায়তাকারী ডাক্তার শাকিল আফ্রিদি

পাকিস্তানের যে চিকিৎসক মার্কিন গোয়েন্দাদের কাছে ওসামা বিন লাদেনের অবস্থান নিশ্চিত করেছিলেন, তিনি কারাগার থেকেই আমেরিকার একটি টিভি চ্যানেলকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন।

পেশোয়ারের কারাগারে আটক শাকিল আফ্রিদি ফক্স টিভি নেটওয়ার্ককে বলেছেন, পাকিস্তানের সেনা গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই ভারতের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে বড় শত্রু হিসাবে বিবেচনা করে।

কি করে তার মত স্পর্শকাতর একজন কয়েদি কারাগার থেকে মার্কিন একটি টিভিকে সাক্ষাৎকার দিতে পারলো তা নিয়ে বিস্তর জল্পনা কল্পনা শুরু হয়েছে।

পাকিস্তান সরকার ডাক্তার শাকিল আফ্রদিকে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে বর্ণনা করে তার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ এনেছে।

তবে এই সাক্ষাৎকারে ডাক্তার শাকিল আফ্রিদি বলেছেন, মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা-সিআইএর জন্যে কাজ করতে পেরে তিনি গর্বিত।

তিনি দাবি করেছেন যে কারাগারে ভেতরে জিজ্ঞাসাবাদের সময় আইএসআই এর কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তিনি তখন পাল্টা যুক্তি দিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্র হচ্ছে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড়ো সমর্থক। কারণ ওয়াশিংটন পাকিস্তানকে কোটি কোটি ডলার দিচ্ছে সাহায্য হিসেবে।

তখন আইএসআই-এর কর্মকর্তারা পাল্টা তাকে বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র হচ্ছে তাদের চরম শত্রু। এমনকি তাদের বহুদিনের পুরনো শত্রু ভারতের চেয়েও বড় শত্রু।

উল্লেখ্য গত বছরের মে মাসে অ্যাবোটাবাদের গোপন আস্তানায় মার্কিন অভিযানে ওসামা বিন লাদেন নিহত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পাকিস্তানের সম্পর্ক একটা সঙ্কটের মধ্যে পড়ে।

মি. আফ্রিদি অভিযোগ করেছেন যে, তার শরীরে সিগারেটেরে আগুন দিয়ে ছ্যাঁকা এবং বৈদ্যুতিক শক দিয়ে তাকে নিষ্ঠুরভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। আইএসআই-এর সদর দপ্তরে মাসের পর মাস তার চোখ ও হাত পা বেঁধে রাখা হয়েছে।

শাকিল আফ্রিদি ছিলেন পাকিস্তানের একজন সরকারি চিকিৎসক। আল কায়দা নেতা ওসামা বিন লাদেন কোথায় অবস্থান করছেন- সে বিষয়ে তিনি মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএর কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করেছেন।

বলা হয়, বিন লাদেনের পরিবারের সদস্যদের ডিএনএ সংগ্রহ করার উদ্দেশ্যে অ্যাবোটাবাদে তিনি হেপাটাইটিস বি টিকা দেওয়ার ভূয়া একটা কর্মসূচি পরিচালনা করেছিলেন।

অবশ্য মি. আফ্রিদি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তিনি জানতেন না যে সিআইএ বিন লাদেনকে খোঁজার জন্যে তাকে দিয়ে এই কর্মসূচি চালিয়েছে। তবে সিআইএ তাকে আফগানিস্তানে পালিয়ে যেতে বলেছিল।

এ বছরের মে মাসে একটি জঙ্গি সংগঠনকে সহযোগিতা করার দায়ে তাকে ৩৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে সাধারণভাবেই ধারণা করা হয় যে, বিশ্বাসঘাতকতার জন্যে এটা তার শাস্তি।

অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই ব্যক্তির সাক্ষাৎকার কীভাবে নেওয়া হলো সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের যে সংবাদ মাধ্যম ফক্স নিউজে এই সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করা হয়েছে তারাও এ বিষয়ে কিছু বলেনি। ধারণা করা হচ্ছে যে টেলিফোনে এই সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিবিসির সংবাদদাতারা কারাগারের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করেছিলেন এবং এ ধরনের একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশের খবরে তারা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তবে জেলাখানার ভেতরে মি. আফ্রিদির সেলে মোবাইল ফোন পাচার করার ধারণা তারা উড়িয়ে দেননি।

BBC © 2013 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻