BBC navigation

ইন্টারনেট ব্যবহারে অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশ

সর্বশেষ আপডেট রবিবার, 9 সেপ্টেম্বর, 2012 16:03 GMT 22:03 বাংলাদেশ সময়
internet

বাংলাদেশের অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ায় নিম্নতম

বিশ্বের উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান একেবারে শেষের দিকে ।

সু্ইজারল্যান্ড ভিত্তিক ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব ফাউন্ডেশন ৬০টিরও বেশি দেশের মানুষের মধ্যে ইন্টারনেটের ব্যবহার, এবং সমাজ ও রাজনীতিতে এর প্রভাব সম্পর্কে চালানো এক জরিপের পরে এ কথা বলেছে ।

বাংলাদেশের বর্তমানে সরকারের অন্যতম বড় একটি প্রতিশ্রুতি ছিল দেশকে তথ্যপ্রযুক্তি সেবার আধুনিকায়নের মাধ্যমে 'ডিজিটাল বাংলাদেশে' রূপান্তর করা।

কিন্তু ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব-এর উদ্ভাবক স্যার টিম বার্নারের ফাউন্ডেশনের ওয়েব ইন্ডেক্সে ৬১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৫৫তম, অর্থাৎ এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশ ইন্টারনেট ব্যবহারের দিক থেকে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা দেশ। আর বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে ভারত ৩৩তম, পাকিস্তান ৪৪তম এবং নেপাল ৫২ তম অবস্থানে রয়েছে।

"বাংলাদেশকে সামনে এগুতে হলে কার্যকরভাবে ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বাংলাদেশ মাত্র সূচনা পর্যায়ে আছে।"

ড. নাসিম মাহমুদ, গবেষক

ওয়েবসাইটে বলা হচ্ছে ওয়েব ইনডেক্স হচ্ছে প্রথম বহুমাত্রিক একটি মাপকাঠি যা দিয়ে বিশ্বের ৬১টি উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে সমন্বিত বিভিন্ন সূচকের মাধ্যমে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক প্রভাব যাচাই করা হয়। একইসঙ্গে ইন্টারনেটের সংযোগ ও পরিকাঠামোও দেখা হয়েছে।

তবে এই সূচককে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশের ইন্টারনেট সংশ্লিষ্টরা? বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নাসিম মাহমুদ - যিনি সোশ্যাল কম্পিউটিং বিষয়ে গবেষণা করেছেন - তিনি মনে করছেন এটি একটি সতর্কসংকেত।

মি. মাহমুদ বলেন, 'বাংলাদেশকে সামনে এগুতে হলে কার্যকরভাবে ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। মূলত প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সর্বস্তরে ইন্টারনেট সুবিধা ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়েই এই সূচক নির্ধারণ করা হয়েছে এবং বাংলাদেশ তাতে মাত্র সূচনা পর্যায়ে আছে। বাংলাদেশের পিছিয়ে থাকার কারণগুলো মূলত বেশি দামে কম সুবিধা পাওয়া, অদক্ষ লোকদের মাধ্যমে ইন্টারনেট সুবিধা প্রদান, ব্যবসায়িদের এলাকাভিত্তিক মনোপলি বাজার, এবং সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব।'

সূচকে যে বিষয়কে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে সেগুলো হচ্ছে একটি দেশের মানুষ ও পুরো জাতির মধ্যে ইন্টারনেটের ব্যবহার, উপযোগিতা এবং প্রভাব কতটা।

computer

তালিকার শীর্ষে থাকা প্রথম তিনটি দেশ হচ্ছে সুইডেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য। সবচেয়ে নিচে আছে ইয়েমেন।

বাংলাদেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের অভিযোগ: ব্যবসায়ীদের এলাকাভিত্তিক মনোপলি বাজারের কারণে তারা যথেষ্ট ভালো সুবিধা না পেলেও এলাকার একমাত্র সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান থেকে লাইন নিতে বাধ্য হন।

তবে বাংলাদেশের ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপিবির সভাপতি আখতারুজজ্জামান মঞ্জু বিবিসিকে বলেন উল্টো কথা।

তার বক্তব্য হলো - 'ব্যবহারকারীরা যে পরিমাণ টাকায় চব্বিশ ঘন্টা ইন্টারনেট সংযোগ পেতে চান তাতে এর এর চেয়ে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সুবিধা দেয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।'

বিশ্ষেজ্ঞদের মতে, ইন্টারনেটের গতিকে আরো দ্রততর করতে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সরকারের নজরদারি অরো বাড়ানো দরকার।

বিষয়টির সাথে একমত পোষণ করলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। তিনি সরকারের তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক কর্মকান্ডে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে থাকেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা দাবি করেন, 'বিভিন্ন পর্যায়ে ভর্তি কার্যক্রম থেকে ফলাফল প্রকাশে এখন ইন্টারনেটকে বেছে নেয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়ার সাথে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানো হচ্ছে এবং ভবিষতে এ সংখ্যা আরো বাড়বে। সেইসাথে বিভিন্ন দপ্তরে এই সুবিধা পৌঁছাতে অবকাঠামো সুবিধা বাড়ানোর দিকেও মনোযোগ দেয়ার কথা বলছে সরকার।

সম্পর্কিত বিষয়

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻